Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

নুসরাত হত্যায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড়

নুসরাত হত্যায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড়
মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচার দাবিতে সারাদেশে মানববন্ধন, ছবি: বার্তা২৪
সেন্ট্রাল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচার চাইছে সারাদেশের মানুষ। তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সংগঠন ও সচেতন নাগরিক।

স্যোশাল মিডিয়ায় বইছে প্রতিবাদের ঝড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুসরাত হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছে লাখো মানুষ। এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন পালিত হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, ফেনী সমিতিসহ নানা সগঠন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/13/1555155229298.jpg
প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধনে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘কোনো অপরাধের বিচার না হওয়াই নুসরাত হত্যাকাণ্ডের কারণ। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এদেশে সারাবছরই ধর্ষণের উৎসব চলে। অপরাধী জানে এদেশে কোনো অপরাধেরই বিচার হয় না।’ 

বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) সামনে মানববন্ধন করে দেশের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের সকল শিল্পী-কলাকুশলীরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, নায়ক আলমগীর, রিয়াজ, আলীরাজ, রোকেয়া প্রাচী, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, গীতিকার কবীর রকুলসহ আরও অনেকে। মানববন্ধনে নুসরাত হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কালো ব্যাজ ধারণ করে থাকার ঘোষণা দেন তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/13/1555155267521.jpg

শাহবাগে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করে গাইনি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন (ওজিএসবি) এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এতে বক্তব্য রাখেন স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী, প্রফেসর ডা. কহিনুর এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম জিলানী শুভ।

এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বাম ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী অধিকার সংগঠন এবং বিভিন্ন এনজিওর পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এ দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করেছেন। এ হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পালিতে হয়েছে মানববন্ধন। দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় শহর, জেলা শহরে মানববন্ধন পালিত হয়েছে।

মানববন্ধনে বেশিরভাগ মানুষের একটাই দাবি, 'নুসরাত হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’।

একই দাবিতে বেনাপোল শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সংবাদকর্মী, শিক্ষার্থী ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন। এসময় বক্তারা, নুসরাত হত্যায় অভিযুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। তার হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

আপনার মতামত লিখুন :

সরকার যোগ্য-প্রশিক্ষিতদের বিদেশে পাঠাতে চায়

সরকার যোগ্য-প্রশিক্ষিতদের বিদেশে পাঠাতে চায়
জাতীয় কর্মসংস্থান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

সরকার যোগ্য ও প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে পাঠাতে চায়। আগামী পাঁচ বছর কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে সরকার প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘জাতীয় কর্মসংস্থান মেলা-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বেশকিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ৭ লাখ ব্যক্তিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানো হয়।

ড. মোমেন বলেন, কর্মর্সস্থান সৃষ্টি সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ এবং প্রতি বছর ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানে কমপক্ষে ১ কোটি মানুষের কর্মর্সস্থান সৃষ্টি হবে। সরকার আইসিটি সেক্টরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকার অর্থেরও যোগান দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের বেসরকারি সংস্থার উচ্চ পদে চাকরির জন্য যথাযথ লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম। জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম এবং ৭৪ শতাংশ কর্মক্ষম। ভবিষ্যতেও এই জনসংখ্যা আমাদের দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

ড. মোমেন বলেন, শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের একটি দায়িত্ব হলো তাদের ছাত্ররা যেন মানসস্মত চাকরি পায় সে ব্যবস্থা করা। যারা ভালো চাকরি পায় সেটা কেবল তাদের জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা দেশের জন্য অবদান রাখে। আমরা যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে পারি, আমাদের দেশের যুবসমাজকে কেবল আমাদের দেশে চাকুরি খুঁজতে হবে না, বরং তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। বিশেষকরে, আইসিটি সেক্টরে; যেখানে চাকুরি কেবল কোন বিশেষ ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং।

নৌপথ ভারত-বাংলাদেশের সম্ভাবনার জায়গা: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নৌপথ ভারত-বাংলাদেশের সম্ভাবনার জায়গা: নৌ প্রতিমন্ত্রী
প্রেসক্লাবে ইমক্যাবের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বাংলাদেশ ও ভারত শুধু পাশাপাশি দেশ না, দুই দেশের মধ্যে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতিগতভাবে মিল রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত 'বাংলাদেশ -ভারত নৌ যোগাযোগ সম্ভাবনা ও করণীয়' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে, তাহলে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো হবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে হলে নৌ যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও নৌপথে যোগাযোগের সুযোগ কম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561630659089.jpg

সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌ ও বাণিজ্য প্রটোকলের আওতায় পণ্য পরিবহন ও উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির আওতায় কলকাতা ও পানগাঁও টার্মিনালের মধ্যে কন্টেইনার সেবা চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ভারত নানানভাবে নৌ-যোগাযোগ বাড়াতে সাহায্য করছে।’

ইমক্যাব-এর সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ‘নৌ পরিবহন ব্যবস্থা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ও স্থলবন্দরগুলোর উপর চাপ কমাতে নৌপথের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উভয় দেশের নৌ-বাণিজ্য বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন ইস্যুর সমাধান হওয়া জরুরি। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে। দুই দেশের নৌ-যোগাযোগ বাড়লে নৌ-যানবাহনের পরিমাণ বাড়বে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইমক্যাব-এর সাধারণ সম্মাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্মাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র