Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

নিরাপত্তার শঙ্কায় ঢাবির বৈশাখী কনসার্ট বাতিল

নিরাপত্তার শঙ্কায় ঢাবির বৈশাখী কনসার্ট বাতিল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে বৈশাখী কনসার্ট বাতিল
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নিরাপত্তার শঙ্কায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে আয়োজিত বৈশাখী কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার সকাল আটটার দিকে দ্বিতীয় দফায় পেট্রোল দিয়ে কনসার্টের সাউন্ড বক্সে আগুন লাগানো হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে কনসার্ট বাতিল করে আয়োজনের আর্থিক সহায়তাকারি প্রতিষ্ঠান মোজো।  এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার রাত একটার দিকে কনসার্ট আয়োজনে ছাত্রলীগ সভাপতিকে জানানো হয়নি অভিযোগের জেরে ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের সমর্থকরা এই আয়োজনে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। তারপর এ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পক্ষে ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি, অন্যপক্ষে ছিলেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসাইন। তারা তিনজনই কনসার্টে আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।

ওই রাতেই রাব্বানী ও সাদ্দামের ইন্ধনে ঢাবির দুই হলে শোভনের সমর্থকদের কক্ষ ভাঙচুর হয়। সাগর নামে স্যার এফ রহমান হল ছাত্রলীগের এক কর্মী আহত হন। এ বিরোধের জের ধরে পুনরায় শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুটি বাইকে চারজন এসে পেট্রোল ঢেলে কনসার্টের সাউন্ডবক্সে আগুন দিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুনরায় হামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আয়োজকরা। সকাল থেকেই তারা কনসার্টের সমস্ত আয়োজন গুটিয়ে নেয়।

কনসার্ট বাতিল ও নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন মোজোর অপরেশন ব্যান্ড হেড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান আজম বিন তারেক।

তিনি বলেন, মধ্যরাতে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পর আমাকে অনেক রিকুয়েস্ট (অনুরোধ) করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে সবকিছু আন্ডার কন্ট্রোলে (নিয়ন্ত্রণে) থাকবে। তাই আমি সবকিছু গুছিয়ে পুনরায় কাজ করা শুরু করলাম। সকাল ৮ টার দিকে চারজন লোক হেলমেট পরে এসে আমাদের সাউন্ড সরানোর যে বক্স (যার দাম তেতাল্লিশ লক্ষ টাকা) সেখানে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে চলে যায়। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের প্রায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় এখানে থাকা আর সম্ভব নয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কনসার্ট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।’

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের আশ্বাসে শুধু কনসার্ট চালিয়ে যাবার কথা বললেও বিকেলে এসে তার উল্টো চিত্র দেখা যায় মল চত্বরে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সবধরণের সরাঞ্জামাদি গাড়ি ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্টেজ ছাড়া আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মোজোর সিকিউরিটি ফোর্সের এক কর্মকর্তা বলেন,  সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে।আমাদেরকে বলা হয়েছে কনসার্ট বাতিল।এখন শুধু স্টেজের জিনিসগুলো বাকি আছে। এগুলোও একটু পরে নিয়ে যাওয়া হবে।এ মুহূর্তে কেউ কনসার্ট হবে বলে দাবি করলেও কোনো লাভ নাই। কারণ এটা এখন সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন,

আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম সবাইকে একটা সুন্দর কনসার্ট উপহার দেওয়ার জন্য।কিন্তু যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে আমার ভাষা নাই প্রকাশ করার মতো।তবে আমি এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি সবকিছু ঠিকঠাক মতো করছিলাম কিন্তু এখানে পেট্রোল দ্বারা যে  ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা লজ্জাজনক।

 

আপনার মতামত লিখুন :

মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন
অভিযুক্ত মানব পাচারকারী জামাল হোসেন, ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজনকে মিথ্যা আশা দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতা জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন জমা দিয়েছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সিআইডির বিশেষ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, 'আজ (মঙ্গলবার) চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা খুব শিগগিরই কক্সবাজার আদালতে দাখিল করা হবে।'

সিআইডির অনুমোদনকৃত চার্জশিটে বলা হয়েছে, জামাল হোসেনের মানবপাচারের মাধ্যমে আয় করা অবৈধ টাকা ইসলামী ব্যাংকের টেকনাফ শাখায় নিজের নামে করা একটি একাউন্টে রাখতেন। তার একাউন্ট থেকে ২০১৪-২০১৫ সাল পর্যন্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ২০১৩ সালের শেষ দিক মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন তিনি। এছাড়া মানব পাচার সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন শুরু করেন। বাংলাদেশের ১৬টি জেলা থেকে তার একাউন্টে মানব পাচার সম্পৃক্ত টাকা আসত।

আরও বলা হয়েছে, জামাল হোসেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনদের সমুদ্র পথ দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠাতেন। বিদেশে লোক পাঠানোর বৈধ কোনো লাইসেন্স নেই তার। লোকজনদের সমুদ্র পথ দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পর তাদের আটকিয়ে রাখা হতো। আটক ব্যক্তিদের আত্মীয় স্বজনদের ফোন করে জামাল হোসেন মুক্তিপণ আদায় করতেন।

জামাল হোসেন টাকা পেলে মালয়েশিয়া থেকে আটকদের ছেড়ে দেয়া হতো। জামাল হোসেন মানব পাচার সংক্রান্ত অপরাধলব্ধ আয়ের ১ কোটি ৮৩ কোটি টাকার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য, টেকনাফ থানার শাহপরীরদ্বীপ থেকে ২০১৮ সালের পহেলা নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি অনুযায়ী বরাদ্দ নেই: খলীকুজ্জমান

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি অনুযায়ী বরাদ্দ নেই: খলীকুজ্জমান
ছবি: বার্তা২৪

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, প্রতিবছর দুর্যোগের কবলে পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় সেটার জন্য প্রত্যেক বছর আমাদের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়, কিন্তু ক্ষতির পরিমাণমতো বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় না।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে বাজেট ২০১৯-২০ এর পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল) ও ঢাকা স্কুল ইকোনমিকস (ডিএসসিই) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সিএসআরএল -এর সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশের একটা অংশ। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা প্রতিবছর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। প্রতিবছর আমাদের বিভিন্ন দুর্ভোগের সামনা-সামনি হতে হয়। এতে যেমন দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আমাদের নানা রকম ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় চাহিদার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাজেটে বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সঠিকভাবে বাজেট বরাদ্দ, ব্যয় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করলে সেটি বেশি ফলপ্রসূ হয়।

খলীকুজ্জমান জানান, জলবায়ু ও পরিবেশ বাজেট বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে এখনও সময় আছে, আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম মনজুরুল হান্নান খান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান করেছে। সেখানে মডেলিং করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া অপরাপর পরিবেশগত বিষয় যথাযথভাবে উল্লেখ করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকার অভিযোজন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে গৃহীত জলবায়ু প্রকল্পগুলোর তথ্য স্থানীয় জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকারকে অবহিত করে জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিএসআরএল -এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তা। বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, ডিএসসিই -এর ড. এ কে এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র