Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

নিরাপত্তার শঙ্কায় ঢাবির বৈশাখী কনসার্ট বাতিল

নিরাপত্তার শঙ্কায় ঢাবির বৈশাখী কনসার্ট বাতিল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে বৈশাখী কনসার্ট বাতিল
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নিরাপত্তার শঙ্কায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে আয়োজিত বৈশাখী কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার সকাল আটটার দিকে দ্বিতীয় দফায় পেট্রোল দিয়ে কনসার্টের সাউন্ড বক্সে আগুন লাগানো হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে কনসার্ট বাতিল করে আয়োজনের আর্থিক সহায়তাকারি প্রতিষ্ঠান মোজো।  এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার রাত একটার দিকে কনসার্ট আয়োজনে ছাত্রলীগ সভাপতিকে জানানো হয়নি অভিযোগের জেরে ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের সমর্থকরা এই আয়োজনে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। তারপর এ নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এক পক্ষে ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি, অন্যপক্ষে ছিলেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসাইন। তারা তিনজনই কনসার্টে আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন।

ওই রাতেই রাব্বানী ও সাদ্দামের ইন্ধনে ঢাবির দুই হলে শোভনের সমর্থকদের কক্ষ ভাঙচুর হয়। সাগর নামে স্যার এফ রহমান হল ছাত্রলীগের এক কর্মী আহত হন। এ বিরোধের জের ধরে পুনরায় শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুটি বাইকে চারজন এসে পেট্রোল ঢেলে কনসার্টের সাউন্ডবক্সে আগুন দিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুনরায় হামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আয়োজকরা। সকাল থেকেই তারা কনসার্টের সমস্ত আয়োজন গুটিয়ে নেয়।

কনসার্ট বাতিল ও নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন মোজোর অপরেশন ব্যান্ড হেড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান আজম বিন তারেক।

তিনি বলেন, মধ্যরাতে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পর আমাকে অনেক রিকুয়েস্ট (অনুরোধ) করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে সবকিছু আন্ডার কন্ট্রোলে (নিয়ন্ত্রণে) থাকবে। তাই আমি সবকিছু গুছিয়ে পুনরায় কাজ করা শুরু করলাম। সকাল ৮ টার দিকে চারজন লোক হেলমেট পরে এসে আমাদের সাউন্ড সরানোর যে বক্স (যার দাম তেতাল্লিশ লক্ষ টাকা) সেখানে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে চলে যায়। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের প্রায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় এখানে থাকা আর সম্ভব নয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কনসার্ট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না।’

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেনের আশ্বাসে শুধু কনসার্ট চালিয়ে যাবার কথা বললেও বিকেলে এসে তার উল্টো চিত্র দেখা যায় মল চত্বরে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সবধরণের সরাঞ্জামাদি গাড়ি ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্টেজ ছাড়া আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মোজোর সিকিউরিটি ফোর্সের এক কর্মকর্তা বলেন,  সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে।আমাদেরকে বলা হয়েছে কনসার্ট বাতিল।এখন শুধু স্টেজের জিনিসগুলো বাকি আছে। এগুলোও একটু পরে নিয়ে যাওয়া হবে।এ মুহূর্তে কেউ কনসার্ট হবে বলে দাবি করলেও কোনো লাভ নাই। কারণ এটা এখন সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন,

আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম সবাইকে একটা সুন্দর কনসার্ট উপহার দেওয়ার জন্য।কিন্তু যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে আমার ভাষা নাই প্রকাশ করার মতো।তবে আমি এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি সবকিছু ঠিকঠাক মতো করছিলাম কিন্তু এখানে পেট্রোল দ্বারা যে  ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা লজ্জাজনক।

 

আপনার মতামত লিখুন :

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার বেড়েছে

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার বেড়েছে
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের গত তিন মাসে (এপ্রিল থেকে জুন) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার আগের তুলনায় বেড়েছে।

সোমবার (২৬ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

গত তিন মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৮১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, তার আগের তিন মাস জানুয়ারি থেকে মার্চে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গত তিন মাসে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার আগের তিন মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে সাতটি, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৭২টি, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে ৫৯টি (৮১.৯৪ শতাংশ), বাস্তবায়নাধীন সিদ্ধান্তের সংখ্যা ছিল ১৩টি (১৮.০৬ শতাংশ)।

তিনি আরও জানান, উল্লেখিত সময়ে নীতি বা কর্মকৌশল নেওয়া হয়েছিল একটি, সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল একটি ও সংসদে আইন পাস হয়েছিল ৬টি।

বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গারা গণহত্যার বিচার চাইছে

বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গারা গণহত্যার বিচার চাইছে
কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের দু’বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বজনদের গণহত্যার বিচার চেয়েছে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী কর্তৃক সংঘটিত নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করার জন্য দেশটি থেকে নিপীড়িত রোহিঙ্গারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এ বিচার আহ্বান করে।

ডাচ-ভিত্তিক রোহিঙ্গা গোষ্ঠী ইইউ রোহিঙ্গা কাউন্সিলরকে টুইট করে মিয়ানমারের গণহত্যার অপরাধীদের বিচারের জন্য জাতিসংঘ, ইইউ, মার্কিন, ওআইসি (ইসলামী সহযোগী সংস্থা) এবং দক্ষিণ পূর্ব এশীয় জাতিসংঘের সমর্থন চায়।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নৃশংসতা বন্ধে কাজ না করার অভিযোগ তুলে তারা বলেছে, বিশ্ব মিয়ানমারে গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া লোকদের অধিকার অর্জনে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তবুও রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার পেতে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। কিন্তু বিশ্ব অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে রেখেছে।

নির্বাসিত রোহিঙ্গা কর্মী রো জা জা নইং টুইট করে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। দুঃখের বিষয় হলো মিয়ানমারে এই জালিম মানুষদের সংখ্যা এখন অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: রাখাইনে বিদ্রোহী দমন নামে শিশু হত্যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী

আইরিশ-ভিত্তিক রোহিঙ্গা অ্যাডভোকেসি গ্রুপ স্টেটলেস রোহিঙ্গা এবং রোহিঙ্গা অ্যাকশন আয়ারল্যান্ডও রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের দাবিতে টুইট করেছে।

রোহিঙ্গা অ্যাকশন আয়ারল্যান্ড রোহিঙ্গাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমারের একটি অনন্য জাতিগোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গা মূলত মুসলিম জাতিগোষ্ঠী, যারা বহু শতাব্দী ধরে স্বাধীন আরাকান রাজ্যের বাসিন্দা ছিল। তাদের আলাদা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং বিশ্বাস বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে একটি অনন্য সংখ্যালঘু জাতী হিসেবে গড়ে তোলে।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের প্রধান মং জার্নি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তির রায় ঘোষণা করার জন্য দেশটির প্রধান নেতাকে অপরাধী বলে অভিহিত করেছেন। তিনি টুইট করে জানান, রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মৃতি দিবসের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে একটি নোবেলজয়ী ব্যাক্তি অং সান সু চি’কে নুরেমবার্গ-যোগ্য অপরাধী হিসেবে দাঁড় করানো উচিৎ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ভিত্তিক ফরটিফাই রাইটস রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে তাদের অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতার আহ্বান জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, গণধর্ষণ ও অন্যান্য নির্যাতন করেছিল।

গত সপ্তাহে প্রায়ি ৩ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা উল্লেখ করে গবেষক আজিম ইব্রাহিম টুইট করেছেন, ‘কোনো রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়নি। কারণ, তারা তাদের ভাগ্য নিয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। জাতিসংঘে তাদের নিয়ে যে চিন্তাভাবনা ও কাজ করেছে তাতেও তারা কোনো আশা রাখতে পারেনি।’

গণহত্যার বেঁচে থাকা এবং ব্রিটিশ ভিত্তিক বার্মিজ রোহিঙ্গা সংস্থার প্রধান তুন খিন ২০১৭ সাল থেকে দুই বছরের রোহিঙ্গাদের কষ্টের জীবন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে টুইটারে লিখেছেন, সংকট দেখা দেওয়ার শেষ নেই।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র