Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বৈশাখের উৎসব নেই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক পরিবারে

বৈশাখের উৎসব নেই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক পরিবারে
বকেয়া মজুরির দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম 


  • Font increase
  • Font Decrease

বাঙালির সার্বজনীন প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে সবাই যখন আনন্দে মাতোয়ারা, তখন রুটি রুজির ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা।

রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে থেকেই খুলনার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি আদায়ের জন্য মিছিলে নেমেছেন। সকাল থেকে নিজ নিজ মিল থেকে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল  নিয়ে বের হয়। মিছিলগুলো খালিশপুরের বিআইডিসি রোড থেকে শুরু হয়ে নতুন রাস্তা, খুলনা-যশোর মহাসড়ক, দৌলতপুর ঘুরে আবার স্ব স্ব মিলে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে অংশ নিতে মজুরি ও মজুরি কমিশনসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্ধাহারে অনাহারে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন। পাটকলের এসব শ্রমিকদের অনেকের ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানের লেখাপড়া দূরের কথা তাদের মুখের আহার যোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এ অবস্থায় শ্রমিকদের নেই কোনো বৈশাখী উৎসব।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555232402585.jpg

রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, বছর ঘুরে বৈশাখ এলেও উৎসব নেই এসব শ্রমিকদের মাঝে। বৈশাখী ভাতা পেয়ে সবাই যখন আনন্দ উৎসব করছে, তখন আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি প্রাপ্য মজুরির অভাবে। আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। কাল থেকে আমাদের ধর্মঘট পালন শুরু হবে।

প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ৬ থেকে ১০ সপ্তাহ মজুরি না পাওয়া পাটকল শ্রমিকরা রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। আমরা বুঝি কাজের বিনিময়ে মজুরি, যা দিয়ে আমাদের শ্রমিকদের পেটে ভাত জুটবে। ইলিশ লাগবে না, আমাদের দুমুঠো ভাত হলেই চলবে।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বৈশাখের উৎসব বলে কিছুই নেই। বৈশাখের দিনই সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল  থেকে ১৮ এপ্রিল টানা ৯৬ ঘণ্টা পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন কাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ পালন হবে। এছাড়া আগামী ২৫ এপ্রিল গেটসভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ৭২ ঘণ্টা পাটকল ধর্মঘটসহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।  

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555234292170.jpg
ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান গাজী শাহাদাৎ হোসেন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মিলের শ্রমিকদের ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের প্রায় ৯০ লাখ টাকা মজুরি দিতে হয়। সেই অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার শুধু মজুরি বকেয়া পড়েছে। তবে আগামীকাল ১৫ এপ্রিল শ্রমিকদের এক সপ্তাহের মজুরি  দেয়া হতে পারে।

পাটকলগুলোর কর্মকর্তারা জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত খালিশপুর, দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ণ, আলীম, জেজেআই ও কার্পেটিং মোট ৯টি জুট মিলের প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তাদের ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত মজুরি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে মিলগুলোতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উৎপাদিত পাটজাত পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হলে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555234369940.jpg

এ বিষয়ে বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের ৪২ কোটি টাকার মজুরি এবং কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আরো ১০ কোটি টাকার বেতন বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি বিজেএমসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

সরকার যোগ্য-প্রশিক্ষিতদের বিদেশে পাঠাতে চায়

সরকার যোগ্য-প্রশিক্ষিতদের বিদেশে পাঠাতে চায়
জাতীয় কর্মসংস্থান মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

সরকার যোগ্য ও প্রশিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে পাঠাতে চায়। আগামী পাঁচ বছর কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে সরকার প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘জাতীয় কর্মসংস্থান মেলা-২০১৯’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বেশকিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ৭ লাখ ব্যক্তিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানো হয়।

ড. মোমেন বলেন, কর্মর্সস্থান সৃষ্টি সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ এবং প্রতি বছর ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানে কমপক্ষে ১ কোটি মানুষের কর্মর্সস্থান সৃষ্টি হবে। সরকার আইসিটি সেক্টরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকার অর্থেরও যোগান দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের বেসরকারি সংস্থার উচ্চ পদে চাকরির জন্য যথাযথ লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে, বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম। জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের কম এবং ৭৪ শতাংশ কর্মক্ষম। ভবিষ্যতেও এই জনসংখ্যা আমাদের দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

ড. মোমেন বলেন, শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের একটি দায়িত্ব হলো তাদের ছাত্ররা যেন মানসস্মত চাকরি পায় সে ব্যবস্থা করা। যারা ভালো চাকরি পায় সেটা কেবল তাদের জন্য নয়, বরং সমগ্র জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা দেশের জন্য অবদান রাখে। আমরা যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে পারি, আমাদের দেশের যুবসমাজকে কেবল আমাদের দেশে চাকুরি খুঁজতে হবে না, বরং তারা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে। বিশেষকরে, আইসিটি সেক্টরে; যেখানে চাকুরি কেবল কোন বিশেষ ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং।

নৌপথ ভারত-বাংলাদেশের সম্ভাবনার জায়গা: নৌ প্রতিমন্ত্রী

নৌপথ ভারত-বাংলাদেশের সম্ভাবনার জায়গা: নৌ প্রতিমন্ত্রী
প্রেসক্লাবে ইমক্যাবের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বাংলাদেশ ও ভারত শুধু পাশাপাশি দেশ না, দুই দেশের মধ্যে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতিগতভাবে মিল রয়েছে। ভৌগলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জানান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইমক্যাব) আয়োজিত 'বাংলাদেশ -ভারত নৌ যোগাযোগ সম্ভাবনা ও করণীয়' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে, তাহলে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালো হবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে হলে নৌ যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও নৌপথে যোগাযোগের সুযোগ কম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561630659089.jpg

সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌ ও বাণিজ্য প্রটোকলের আওতায় পণ্য পরিবহন ও উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তির আওতায় কলকাতা ও পানগাঁও টার্মিনালের মধ্যে কন্টেইনার সেবা চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ভারত নানানভাবে নৌ-যোগাযোগ বাড়াতে সাহায্য করছে।’

ইমক্যাব-এর সভাপতি বাসুদেব ধর বলেন, ‘নৌ পরিবহন ব্যবস্থা অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ও স্থলবন্দরগুলোর উপর চাপ কমাতে নৌপথের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উভয় দেশের নৌ-বাণিজ্য বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন ইস্যুর সমাধান হওয়া জরুরি। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে। দুই দেশের নৌ-যোগাযোগ বাড়লে নৌ-যানবাহনের পরিমাণ বাড়বে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইমক্যাব-এর সাধারণ সম্মাদক রফিকুল ইসলাম সবুজ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্মাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র