Alexa

বৈশাখের উৎসব নেই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক পরিবারে

বৈশাখের উৎসব নেই শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক পরিবারে

বকেয়া মজুরির দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম 

বাঙালির সার্বজনীন প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে সবাই যখন আনন্দে মাতোয়ারা, তখন রুটি রুজির ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা।

রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে থেকেই খুলনার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা বকেয়া মজুরি আদায়ের জন্য মিছিলে নেমেছেন। সকাল থেকে নিজ নিজ মিল থেকে পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল  নিয়ে বের হয়। মিছিলগুলো খালিশপুরের বিআইডিসি রোড থেকে শুরু হয়ে নতুন রাস্তা, খুলনা-যশোর মহাসড়ক, দৌলতপুর ঘুরে আবার স্ব স্ব মিলে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে অংশ নিতে মজুরি ও মজুরি কমিশনসহ ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্ধাহারে অনাহারে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন। পাটকলের এসব শ্রমিকদের অনেকের ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানের লেখাপড়া দূরের কথা তাদের মুখের আহার যোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রমিকদের। এ অবস্থায় শ্রমিকদের নেই কোনো বৈশাখী উৎসব।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555232402585.jpg

রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, বছর ঘুরে বৈশাখ এলেও উৎসব নেই এসব শ্রমিকদের মাঝে। বৈশাখী ভাতা পেয়ে সবাই যখন আনন্দ উৎসব করছে, তখন আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি প্রাপ্য মজুরির অভাবে। আমাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। কাল থেকে আমাদের ধর্মঘট পালন শুরু হবে।

প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ৬ থেকে ১০ সপ্তাহ মজুরি না পাওয়া পাটকল শ্রমিকরা রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। আমরা বুঝি কাজের বিনিময়ে মজুরি, যা দিয়ে আমাদের শ্রমিকদের পেটে ভাত জুটবে। ইলিশ লাগবে না, আমাদের দুমুঠো ভাত হলেই চলবে।

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। বৈশাখের উৎসব বলে কিছুই নেই। বৈশাখের দিনই সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল  থেকে ১৮ এপ্রিল টানা ৯৬ ঘণ্টা পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন কাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ পালন হবে। এছাড়া আগামী ২৫ এপ্রিল গেটসভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ৭২ ঘণ্টা পাটকল ধর্মঘটসহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।  

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555234292170.jpg
ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান গাজী শাহাদাৎ হোসেন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মিলের শ্রমিকদের ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের প্রায় ৯০ লাখ টাকা মজুরি দিতে হয়। সেই অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার শুধু মজুরি বকেয়া পড়েছে। তবে আগামীকাল ১৫ এপ্রিল শ্রমিকদের এক সপ্তাহের মজুরি  দেয়া হতে পারে।

পাটকলগুলোর কর্মকর্তারা জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত খালিশপুর, দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ণ, আলীম, জেজেআই ও কার্পেটিং মোট ৯টি জুট মিলের প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তাদের ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত মজুরি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে মিলগুলোতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উৎপাদিত পাটজাত পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হলে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555234369940.jpg

এ বিষয়ে বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলের শ্রমিকদের ৪২ কোটি টাকার মজুরি এবং কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আরো ১০ কোটি টাকার বেতন বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি বিজেএমসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে।

জাতীয় এর আরও খবর