Alexa

মমেকের স্মৃতিচারণে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

মমেকের স্মৃতিচারণে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ভুটান পিএমও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

ময়মনসিংহ: চিকিৎসক হতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মমেক) পা রেখেছিলেন ভুটানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। টানা আট বছরের প্রচেষ্টায় এখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকায়।

সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সার্জারিতে এফসিপিএস কোর্স সম্পন্ন করে ফিরে যান নিজের দেশ ভুটানে।

এরপর কেটে গেছে অনেক বছর, কিন্তু নিজের ক্যাম্পাসের প্রাণোচ্ছল তারুণ্যে ভরপুর স্মৃতিমাখা সেই দিনগুলোর টানে আবারো তিনি এলেন। তবে শুধু প্রাক্তন একজন শিক্ষার্থী হিসাবে নয়; এবার তিনি এসেছেন রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে।

২০ বছর পর ডা. লোটে শেরিং আবারও আসেন মমেকের সেই প্রিয় ক্যাম্পাসে। আড্ডা দিলেন বন্ধুদের সঙ্গে, কথা বলেন প্রাণ খুলে। পরামর্শ দেন ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের। শুনিয়ে যান এক মর্মবাণী- 'একজন চিকিৎসক হওয়ার আগে ভালো মানুষ হতে হবে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555261462412.jpg

দীর্ঘ বক্তৃতায় ডা. লোটে শেরিং অনেক কথাই বলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় হঠাৎ এক রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরদিন তার রুমমেটকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন আবাসিক চিকিৎসকের কাছে। তার কোনো কথা না শুনেই আবাসিক চিকিৎসক লোটেকে ব্যবস্থাপত্র দেন। তবে কাজ হয় না। অতঃপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।  সেখানে থাকার পর চিকিৎসক আবিষ্কার করলেন, তিনি অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত। কাল বিলম্ব না করে দ্রুত অস্ত্রোপচার করানো হয় তার। সুস্থ হয়ে আবারও কঠোর পরিশ্রম আর জ্ঞান সাধনায় মনোনিবেশ করেন লোটে শেরিং।

এ প্রসঙ্গে লোটে শেরিং বলেন, আসলে আমরা আমাদের কাজটা একটু হালকাভাবে নিলে আরেক জনের জীবনের মূল্য দিতে হতে পারে। সেজন্য অবশ্যই ব্যাপারগুলোকে সিরিয়াসলি নিতে হবে। সেজন্য প্রত্যেক রোগীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555261433560.jpg

রোববার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ড্রাগনের দেশের এই প্রধানমন্ত্রী।

ডা. লোটে শেরিং যখন প্রধানমন্ত্রী হন, তখন সহপাঠীদের বায়না ছিল- আবার একদিন আসতে হবে স্মৃতিঘেরা মমেক ক্যাম্পাসে। বন্ধুদের কথায় না করতে পারেননি তিনি। আর ক্যাম্পাসে পা রেখেই নিজের বক্তৃতায় এ কথাটি স্মরণ করিয়ে দেন। বন্ধুত্বের টানেই বাঙালির শেকড় খোঁজার দিনটিতে তিনি ফিরে এসেছেন তাদের কাছে।

মমেকে ছাত্রাবস্থায় অনেক পহেলা বৈশাখই উদযাপন করেছেন সব ধর্ম বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে। আর হয়তো এ কারণেই অসাম্প্রদায়িক এ উৎসবটিতে তিনি বেছে নিয়েছেন নিজের পুরনো ক্যাম্পাসে আসার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555261415469.jpg

ডা. লোটে শেরিং ক্যাম্পাসে আসার পর শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানান। পুরনো বন্ধুরা ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তাকে। তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন মমেক প্রিন্সিপাল ডা. আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠান মঞ্চে বসা তার কেবিনেটের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. টান্ডি দরজিকে দেখিয়ে বলেন, এই মানুষটির জন্য আজ আমি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু কীভাবে?

সেই উত্তরটা লোটে শেরিং দিলেন এভাবে- 'ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. টান্ডি দরজিসহ মমেকের ছাত্রাবাসের ওয়েস্ট ব্লকের ২০ নম্বর কক্ষে থেকেছি। এখনও একসঙ্গে আমরা রাজনীতি করছি। এ দীর্ঘ সময়ে আমাদের মাঝে কোনো মনোমালিন্য হয়নি। আজকে তার কারণেই আমি প্রধানমন্ত্রী, তিনিই আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/14/1555261398086.jpg

একজন পড়ুয়া লোটে শেরিং কেমন হতে পারেন, সে তথ্যটিও শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করলেন নিজেই। গ্রুপ স্টাডি তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন লোটে। তিনি একটি অধ্যায় কয়েকবার রিভাইস করতেন এবং কমপক্ষে তিনবার পড়তেন ।

সে সময়ের বর্ণনা দিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার বন্ধুদের রুমে এনে যা শিখেছি তা তাদের সামনে একবার বলতাম। এরপর আবারও নিজে পড়তাম। এভাবেই একটি অধ্যায় তিনবার করে পড়তাম আর তখন আমার বন্ধুরা মাত্র একবার সেই পড়া শেষ করতে পারতো। পরদিন আমি শিক্ষকের সামনে সেই পড়া উপস্থাপন করতাম।

তিনি বলেন, আসলে সবাইকে মনে রাখতে হবে, আলোচনার মধ্যেই শেখাটা অনেক সহজ হয়। আমরা যদি কোনো কিছু শিখতে চাই সেটা অল্পতে শিখতে পারব না।

আরও পড়ুন: ভালো ডাক্তার হওয়ার আগে ভালো মানুষ হতে হবে

জাতীয় এর আরও খবর