Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

৩য় দফার শ্রমিক আন্দোলনে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু

৩য় দফার শ্রমিক আন্দোলনে ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু
শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেট
খুলনা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

নয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো শ্রমিক আন্দোলনের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৫ এপিল) ভোর ৬টা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ ও সকাল ৮টা থেকে রাজপথ-রেলপথে অবরোধ করে এ ধর্মঘট শুরু করে শ্রমিকরা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ও পাটকল শ্রমিকলীগের উদ্যো‌গে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এর আগেও দু’দফা আন্দোলন করেছিলে পাটকল শ্রমিকরা।

রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট জুটমিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মজুরি ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ নয় দফা দাবিতে শ্রমিকদের ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি মানা না পর্যন্ত আমরা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/15/1555301118760.jpg

বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আজ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯৬ ঘণ্টা পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ থাকবে। এরপর বিরতী দিয়ে আগামী ২৫ এপ্রিল গেটসভা এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ৭২ ঘণ্টার পাটকল ধর্মঘটসহ প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এদিকে পাটকল শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ভোর ৬টা থেকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কোনো ট্র‌েন ছেড়ে যায়নি। একই সঙ্গে নতুন রাস্তা মোড়ে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় খুলনা-যশোর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

উল্লেখ্য, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত খালিশপুর, দৌলতপুর, ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ন, আলীম, জেজেআই ও কার্পেটিং মোট ৯টি জুট মিলের প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তাদের ৬ থেকে ১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত মজুরি প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে মিলগুলোতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উৎপাদিত পাটজাত পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হলে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/15/1555301136677.jpg

বিজেএমসি’র কর্তৃপক্ষ জানায়, খুলনা অঞ্চলের নয়টি পাটকলের শ্রমিকদের ৪২ কোটি টাকার মজুরি এবং কর্মচারী-কর্মকর্তাদের আরও ১০ কোটি টাকার বেতন বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী

পদ্মার ভাঙনে ঘরহারা ২০০ পরিবার, আতঙ্কে ১৫ চরবাসী
পানির স্রোতে ভাঙছে পদ্মার পাড়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীতে উজানের ঢলে নেমে আসা পানিতে ফেঁপে উঠছে পদ্মা। বিপদসীমার মাত্র ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। তবে সেটা রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধা এলাকায়। যেটিকে পদ্মার রাজশাহী পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়। পদ্মার মূল পয়েন্টে বিপদসীমা এখনো অতিক্রম না করলেও জেলার বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নে পদ্মায় পানি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে এরই মধ্যে বসত-ভিটা ছাড়া হয়েছেন দুই শতাধিক পরিবার। তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন চকরাজাপুরের ১৫টি চরের মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796058911.jpg

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মায় ফুলে ফেঁপে ওঠা পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙছে নদীর পাড়। পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে পাড় ভেঙে চকরাজাপুর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভেসে গেছে গাছপালা। আর ৫০ গজ ভাঙলেই পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর নাপিতের মোড় ও কিশোরপুর এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গিয়ে ঠেকবে ভাঙন। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে পদ্মা পাড়ের মানুষ। তবে ভাঙন রোধে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচে পদ্মার পানি

চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীনগর চরের মান্নান মন্ডল, মিজানুর রহমান, সামাদ মালিথা, হানে ফকির, হাফিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, হানু কাজী, সাইদুল ইসলাম, মজনু মোল্লা ও চকরাজাপুর চরের হাসান শেখ, জব্বার মন্ডল, হিরো মন্ডল, শাহিনা বেগম, ফজলু শিকদার, আকতার মন্ডল, রহমান মোল্লা হাফিজুর রহমানসহ শতাধিক পরিবার ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796157103.jpg

তাদের মতো ভাঙন আতঙ্কে ঠিকানা খুঁজছেন চকরাজাপুর চরের আরো শতাধিক পরিবার। ঠিকানা হারিয়ে কোথায় যাবেন তা নিয়েও দুঃশ্চিন্তা তাদের। পানিবন্দি হয়ে গবাদিপশু নিয়ে অবর্ণনীয় জীবন যাপন করছেন কালিদাখালি, চকরাজাপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, চকরাজাপুর, পলাশি ফতেপুর, ফতেপুর পলাশি, লক্ষীনগর, চকরাজাপুর, পশ্চিম চরকালিদাস খালী, পূর্ব চকরাজাপুর, জোতাশি, মানিকের চর, লক্ষিনগর, টিকটিকিপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, নওশারা-মহদীপুর চরের মানুষ।

স্থানীয় সবুর মল্লিক ও লিটন আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, নদী তীরবর্তী বাঁধের পশ্চিমপাড় থেকে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে অরক্ষিত এলাকার আরও অনেক জমি ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।

চকরাজাপুর চরের মোস্তাক আহম্মেদ শিকদার বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পদ্মায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান, পাট, আবাদি জমি, গাছপালা হারিয়ে গেছে। মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা সান্ত্বনা দেওয়ার মতোও কেউ নেই। বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকানোর আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

আরও পড়ুন: বর্ষায় শান্ত পদ্মা ফুঁসে উঠছে শরতে

পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ার শওকত জামান বলেন, ‘কয়েক দিনের পানি বৃদ্ধির কারণে ফসলি জমিসহ গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকম বেঁচে আছে দুই শতাধিক পরিবার। তারা এখন ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/26/1566796113226.JPG

চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা এরমধ্যেই ৩০টি পারিবারের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেছি। অন্যদের ব্যাপারেও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। যাদের ঘর-বাড়ি ভেঙেছে তাদের সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।’

জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহিন রেজা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে ৩০টি পরিবারের তালিকা পেয়েছি। সেটি উপরমহলে জানানো হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পেলে তাদের পৌঁছে দেওয়া হবে। এছাড়া ভাঙনের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।’

আইএস’র হুমকি গুরুত্ব পায়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে

আইএস’র হুমকি গুরুত্ব পায়নি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে
ছবি: সংগৃৃহীত

রাজধানীর মালিবাগ ও গুলিস্তানে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা এবং খামারবাড়িতে শক্তিশালী ৬টি বোমা ফেলে রাখার ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)৷

সম্প্রতি নতুন এক ভিডিওতে জিহাদের ডাক দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে আইএস জঙ্গিরা। ওই ভিডিওতে বাংলা ভাষায় জিহাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

এ ঘটনা তেমন গুরুত্ব পায়নি জঙ্গি দমনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট র‌্যাব-পুলিশের কর্মকর্তাদের কাছে। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই আইএস এমন ভিডিও প্রকাশ ও হুমকি দিয়ে আসছে।

কিন্ত মালিবাগে একটি গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে ট্রাফিক পুলিশের এএসআই রাশেদা আক্তার, রিকশাচালক লাল মিয়াসহ তিনজন আহত হন। পুলিশকে টার্গেট করেই ওই বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল বলে স্বীকার করে পুলিশ।

তবে ঘটনার সঙ্গে আইএস জড়িত, এমনটা জানায়নি পুলিশ। পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, রাজধানীতে যে দুটি বিস্ফোরণ ও বোমা শনাক্ত করা গেছে—এ ঘটনাগুলোর সঙ্গে দেশীয় জঙ্গি সংগঠন জড়িত থাকতে পারে। তবে এখানে বিদেশি কোন জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। তাই আইএস যে বার্তা দিয়েছে, এটা নিয়ে ভাবনার কিছু নেই।

অন্যদিকে ভারতের জি নিউজের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর নিউজ এজেন্সি আমাক এবং আইএসপন্থি টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে 'দ্য বেস্ট আউটকাম ইজ ফর পায়াস' শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

ভিডিওতে দেখানো হয়েছে, আইএস-এর দুই জন সদস্য আত্মঘাতী জ্যাকেট পরে মেশিনগান নিয়ে জিহাদে অংশ নেওয়ার কথা বলছেন৷ তারা এই জিহাদের কথাগুলো বাংলাতেই বলছেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র বলছে, জঙ্গিবাদের একটা বৈশ্বিক প্রভাব আছে। বাংলাদেশ এই প্রভাবের বাইরে না। ঘটনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক—দুই প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে।

আইএসের হুমকি ভয়ের কারণ কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দেশে আইএস’র অস্তিত্ব নেই। ঘাঁটি গড়ে জিহাদ করাটা অসম্ভব। ওই ভিডিওটির বাংলায় যারা কথা বলেছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ব়্যাবের মুখপাত্র মো. এমরানুল হাসান। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে তিনি বলেন, দেশে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকটি ঘটনার দায় স্বীকার করে আসছে আইএস। এমন বক্তব্য তাদের অনেক পুরনো। আমরা বিষয়টি মনিটরিং করছি। শুধু এই বিষয়টা না। যে কোন ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার জন্য র‌্যাব প্রস্তুত আছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র