দেশের ইতিহাসে রংপুর সিটি নির্বাচন অন্যতম সেরা : ইডব্লিউজি

সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
দেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচন অন্যতম সেরা। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রসিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ বিষয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘২০১৩ সালের পর থেকে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ঢাকা এবং সর্বশেষ নারায়নগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও ছোট ছোট কয়েকটি অনিয়ম আমরা রেকর্ড করেছি। কিন্তু এই নির্বাচনে একটি জাল ভোটের ঘটনা ঘটেনি, কেউ একটা জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টাও করেনি। স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনগুলোর সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে এই নির্বাচনটি এ যাবৎকালের অন্যতম সেরা নির্বাচন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচন অংশীজনদের আস্থা আরো বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য ও ইডব্লিউজি’র সদস্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ইডব্লিউজি’র সদস্য মো. আব্দুল আউয়াল ও মো. হারুন-অর-রশীদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। রসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের শুরু থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত আমরা এলাকায় ছিলাম। স্থানীয় জনসাধারণ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন তাদের অনেকের সঙ্গে আমাদের মতবিনিময় হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এ জাতীয় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, কিংবা কেউ শুনেছেন বলেও আমাদের জানাননি। সেজন্যে ইলেকশন ওয়াকিং গ্রুপ মনে করে, এ জাতীয় বক্তব্য হয়তো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রদান করা হয়েছে এবং তাদের এই অভিযোগের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কোন সম্পর্ক নেই।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি-বিধানগুলো রাজনৈতিক দলসহ সকলের উচিত শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা ও পালন করা এবং এগুলো তাদের রাজনৈতিক চরিত্রের মধ্যে সম্পৃক্ত করবেন বলে আমরা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করি।’ তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যেসব পূর্বশর্ত তার সবকটিই রংপুর সিটি নির্বাচনে তা বিদ্যমান ছিল। এগুলোকে চর্চায় আনতে হবে। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং জনগণ তাদের দিক থেকে যে সদি”ছা দেখিয়েছেন, নির্বাচনে সকলের যেমন স্বতস্ফুর্ততা ছিল এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এ ধরনের অবস্থা বিরাজমান থাকবে বলে আশা করা যায়। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ইভিএম’র পরীক্ষামূলক ব্যবহার হয়েছে। এখানে সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে ভোটগ্রহণের ১৩ মিনিটের মাথায় এই কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইভিএম ব্যবহার করলে স্বল্পতম সময়ে ফলাফল পাওয়া সম্ভব এবং এরমাধ্যমে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে।’ ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আব্দুল আলীম বলেন, রসিক নির্বাচন সংহিংসতা ও নির্বাচনী অনিয়ম ছাড়াই উৎসবের আমেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এ নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য। ভোটাররা ভয়-ভীতির উর্ধ্বে থেকে সুশৃংখলভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষণ মতে এই নির্বাচনে ভোট প্রদানের হার ৭০ শতাংশ। তিনি বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ইডব্লিউজি ১৫টি ওয়ার্ডের ২৬টি (১৩.৫ শতাংশ) ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছে। ভোট গ্রহণ শুরুর সময় ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষকরা ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট, ৯৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট এবং ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের দেখতে পেয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর