Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মাদরাসা ফান্ডের টাকায় গ্যাং চালাতেন সিরাজ

মাদরাসা ফান্ডের টাকায় গ্যাং চালাতেন সিরাজ
সিরাজ উদ দৌলা/ছবি: সংগৃহীত
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সোনাগাজী সিনিয়র ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার হুকুমদাতা অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনার আগেও নানা অপকর্ম করেছেন সিরাজ। স্থানীয় প্রশাসন, তথাকথিত রাজনৈতিক চক্র আর বখাটে ছাত্রদের ম্যানেজ করে পার পেতেন তিনি।

সরেজমিনে ঘুরে, বার্তা২৪.কমের অনুসন্ধানে উঠে আসে মাদরাসার সামনের অংশের তিন তলা মার্কেট, পুকুর, মাদরাসার অনুদান আর ওয়াজ মাহফিল থেকে বছরে আসা লাখ লাখ টাকা নিজের কাছে জমা রাখতেন অধ্যক্ষ সিরাজ।

স্থানীয় প্রশাসন ও তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের মাসিক চাঁদা দিয়ে তাদের নিজের দলে টানতেন তিনি। আর সেই গ্যাংয়ের সমর্থনে যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও নানা অপকর্ম করেছেন নুসরাত হত্যার হুমকি দাতা এই অধ্যক্ষ।

এছাড়াও তার গ্যাংয়ে ছিল সোনাগাজীর বখাটে ছেলেরা। যাদের শক্তিতে নিজে ক্ষমতা দেখিয়ে দাপটের সঙ্গে থাকতেন সিরাজ। ২০০১ সালে মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ পদে যোগ দেওয়ার পর থেকে নানা অভিযোগ জমা হয় তার বিরুদ্ধে।

সবশেষ গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে যৌন হয়রানি, ৬ এপ্রিল তার গায়ে আগুন দেওয়া ও ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর থেকে চলছে সিরাজের টাকার খেলা।

সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন ও শামীমসহ ১৫ জনের একটা গ্যাংকে মাসিক টাকা দিয়ে পালতেন। তাদের সঙ্গে আছে তথাকথিত কিছু নেতা।

২০০১ সালের পর কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ জানালে তারা পাল্টা কর্মসূচি দিতেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গ্যাং ম্যানেজ করে আসছেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোর করে নেওয়া হতো। প্রয়োজনে টাকাও দেওয়া হতো।

নুসরাত ২৭ মার্চ সিরাজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনলে একটি পক্ষ সিরাজের পক্ষে মানববন্ধন, মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে তাদের কোনো বাধা দেননি সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম। স্থানীয়রা বলছে, এ ঘটনায়ও টাকার খেলা চলেছে।

সম্প্রতি এ বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে আসে। নুসরাতকে শ্লীলতাহানির মামলায় সিরাজ যখন জেলে, তখন তার (সিরাজ) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তোলেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এ মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হয়।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র বলছে, ব্যাংক থেকে তোলা টাকা সিরাজের মুক্তির আন্দোলন ও নুসরাতকে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে মৃত্যুর আগে নুসরাতের দেওয়া ডাইং ডিক্লারেশনে (মৃত্যুশয্যায় জবানবন্দি) শম্পার নাম বলেন। যে চারজন বোরকা পরা নারী/পুরুষ তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন, শম্পা তাদের একজন বলে জানান নুসরাত।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) নুসরাত হত্যা মামলায় উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই এজাহারভুক্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সন্দেহভাজন যে ছয়জনকে আটক করা হয় তার মধ্যে উম্মে সুলতানা পপি ছিলেন। তবে পপিই যে শম্পা তা নিয়ে সে সময় ধোঁয়াশা ছিল।

সার্বিক বিষয়ে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, নুসরাত হত্যায় শাহাদাত হোসেন, নুর উদ্দিন ও উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা সরাসরি অংশ নেন। সিরাজ তাদের সবার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতকে চাপ দিতে বলেন। প্রয়োজনে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অন্য সব অভিযোগও আমলে নিয়েছি। আমাদের তদন্তে তার অবৈধ টাকা পয়সার বিষয় ও গ্যাং পরিচালনার বিষয়টিও উঠে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন :

উন্নয়নে রংপুর পিছিয়ে থাকবে না: নবাগত ডিসি

উন্নয়নে রংপুর পিছিয়ে থাকবে না: নবাগত ডিসি
রংপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসিব আহসান, ছবি: বার্তা২৪

রংপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসিব আহসান বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও রংপুরকে এগিয়ে নিতে চাই। সরকার দারিদ্র বিমোচন, কর্মসংস্থান ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। উন্নয়ন থেকে রংপুর পিছিয়ে থাকবে না।'

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিসি বলেন, 'খাদ্য শষ্যের ভাণ্ডারখ্যাত পিছিয়ে পড়া রংপুরের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার। এই জেলাতে নদীভাঙন রোধ, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিসিকের দ্বিতীয় শিল্প নগরী, আইটি পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে। শুধু তাই নয়, করিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জেলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হয়েছে।'

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সৈয়দ এনামুল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রংপুরের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।

ডিসি বলেন, 'রংপুর জেলা যাতে পিছিয়ে না থাকে সেজন্য বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যমান সমস্যা সমূহ নিরসনে সবার সাথে আলোচনা করা হবে। ছোট ছোট সমস্যাগুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করা হবে।'

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ফরহাদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মাহমুদ হাসান, এনডিসি রায়হানুল ইসলাম সহ রংপুর প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ভিডিও জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনেরর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

যক্ষ্মা শনাক্ত ও চিকিৎসায় ইউএসএআইডি’র সহায়তা জোরদার

যক্ষ্মা শনাক্ত ও চিকিৎসায় ইউএসএআইডি’র সহায়তা জোরদার
অংশীদারিত্ব বিবৃতির (এসপি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্ত, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে যক্ষ্মা রোগ নির্মূল করার জন্য নিজ নিজ অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি)।

নতুন এই অংশীদারিত্ব বিবৃতিতে (এসপি) স্বাক্ষর করেছেন তারা। যার মধ্য দিয়ে ২০২২ সালের মধ্যে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ হ্রাস করতে একটি যৌথ কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিবৃতি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডি মিশন পরিচালক ডেরিক ব্রাউন বলেন, ‘ইউএসএআইডি বাংলাদেশের সব ধরনের অচিহ্নিত যক্ষ্মা (টিউবারকুলোসিস বা সংক্ষেপে টিবি) শনাক্ত, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মপ্রচেষ্টায় জোরালো সহযোগিতা করবে।’

বাংলাদেশকে আগামী পাঁচ বছরে ১৫ লাখেরও বেশি নতুন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করে তাদের চিকিৎসা করতে হবে উল্লেখ করে ব্রাউন আরও বলেন, ‘আজ অংশীদারিত্ব বিবৃতি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইউএসএআইডি, বাংলাদেশ সরকারের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে, যখন কিনা দেশটি ২০২২ সাল নাগাদ তাদের লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা জোরদার করছে।’

২০১৮ সালে বাংলাদেশ ২৫ লাখেরও বেশি যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা করেছিল। তবে প্রায় ২৬ শতাংশ সংক্রমণের ঘটনাই অচিহ্নিত থেকে যায়। মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এমডিআর) অর্থাৎ একাধিক ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা ও শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে অচিহ্নিত থাকার হার আরও বেশি।

উল্লেখ্য, ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশকে ৭শ’ কোটি ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে সংস্থাটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রায় ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিয়েছিল। এসবের মধ্যে ছিল খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও অনুশীলন এগিয়ে নেওয়া, পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার সামর্থ্য বৃদ্ধি বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র