Alexa

মাদরাসা ফান্ডের টাকায় গ্যাং চালাতেন সিরাজ

মাদরাসা ফান্ডের টাকায় গ্যাং চালাতেন সিরাজ

সিরাজ উদ দৌলা/ছবি: সংগৃহীত

শাহরিয়ার হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

সোনাগাজী সিনিয়র ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার হুকুমদাতা অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা। এ ঘটনার আগেও নানা অপকর্ম করেছেন সিরাজ। স্থানীয় প্রশাসন, তথাকথিত রাজনৈতিক চক্র আর বখাটে ছাত্রদের ম্যানেজ করে পার পেতেন তিনি।

সরেজমিনে ঘুরে, বার্তা২৪.কমের অনুসন্ধানে উঠে আসে মাদরাসার সামনের অংশের তিন তলা মার্কেট, পুকুর, মাদরাসার অনুদান আর ওয়াজ মাহফিল থেকে বছরে আসা লাখ লাখ টাকা নিজের কাছে জমা রাখতেন অধ্যক্ষ সিরাজ।

স্থানীয় প্রশাসন ও তথাকথিত রাজনৈতিক নেতাদের মাসিক চাঁদা দিয়ে তাদের নিজের দলে টানতেন তিনি। আর সেই গ্যাংয়ের সমর্থনে যৌন হয়রানি, অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও নানা অপকর্ম করেছেন নুসরাত হত্যার হুমকি দাতা এই অধ্যক্ষ।

এছাড়াও তার গ্যাংয়ে ছিল সোনাগাজীর বখাটে ছেলেরা। যাদের শক্তিতে নিজে ক্ষমতা দেখিয়ে দাপটের সঙ্গে থাকতেন সিরাজ। ২০০১ সালে মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ পদে যোগ দেওয়ার পর থেকে নানা অভিযোগ জমা হয় তার বিরুদ্ধে।

সবশেষ গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে যৌন হয়রানি, ৬ এপ্রিল তার গায়ে আগুন দেওয়া ও ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর থেকে চলছে সিরাজের টাকার খেলা।

সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ মাদরাসার ছাত্র নুর উদ্দিন ও শামীমসহ ১৫ জনের একটা গ্যাংকে মাসিক টাকা দিয়ে পালতেন। তাদের সঙ্গে আছে তথাকথিত কিছু নেতা।

২০০১ সালের পর কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ জানালে তারা পাল্টা কর্মসূচি দিতেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গ্যাং ম্যানেজ করে আসছেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোর করে নেওয়া হতো। প্রয়োজনে টাকাও দেওয়া হতো।

নুসরাত ২৭ মার্চ সিরাজের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনলে একটি পক্ষ সিরাজের পক্ষে মানববন্ধন, মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। এ ধরনের কর্মসূচি পালন করতে তাদের কোনো বাধা দেননি সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম। স্থানীয়রা বলছে, এ ঘটনায়ও টাকার খেলা চলেছে।

সম্প্রতি এ বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে আসে। নুসরাতকে শ্লীলতাহানির মামলায় সিরাজ যখন জেলে, তখন তার (সিরাজ) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ টাকা তোলেন স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার। সিরাজ জেলে যাওয়ার পরদিন ২৮ মার্চ জনতা ব্যাংকের সোনাগাজী শাখার সিরাজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এ মোটা অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা হয়।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র বলছে, ব্যাংক থেকে তোলা টাকা সিরাজের মুক্তির আন্দোলন ও নুসরাতকে হত্যার কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে মৃত্যুর আগে নুসরাতের দেওয়া ডাইং ডিক্লারেশনে (মৃত্যুশয্যায় জবানবন্দি) শম্পার নাম বলেন। যে চারজন বোরকা পরা নারী/পুরুষ তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন, শম্পা তাদের একজন বলে জানান নুসরাত।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) নুসরাত হত্যা মামলায় উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পাকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরপরই এজাহারভুক্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সন্দেহভাজন যে ছয়জনকে আটক করা হয় তার মধ্যে উম্মে সুলতানা পপি ছিলেন। তবে পপিই যে শম্পা তা নিয়ে সে সময় ধোঁয়াশা ছিল।

সার্বিক বিষয়ে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, নুসরাত হত্যায় শাহাদাত হোসেন, নুর উদ্দিন ও উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা সরাসরি অংশ নেন। সিরাজ তাদের সবার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতকে চাপ দিতে বলেন। প্রয়োজনে নুসরাতকে হত্যার নির্দেশ দেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা সিরাজের বিরুদ্ধে ওঠা অন্য সব অভিযোগও আমলে নিয়েছি। আমাদের তদন্তে তার অবৈধ টাকা পয়সার বিষয় ও গ্যাং পরিচালনার বিষয়টিও উঠে আসবে।

জাতীয় এর আরও খবর