Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ওয়াসার সেবায় গ্রাহকরা অসন্তুষ্ট: টিআইবি

ওয়াসার সেবায় গ্রাহকরা অসন্তুষ্ট: টিআইবি
বক্তব্য রাখছেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা ওয়াসার পানি ও পয়নিষ্কাশন সেবার নিম্নমানের কারণে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি সেবাগ্রহীতা অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে ঢাকা ওয়াসাকে অধিকতর কার্যকর ও সেবাধর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে ১৩ দফা সুপারিশ দিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক’ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, ওয়াসা তার ভিশন-মিশন অনুযায়ী এখনো পানির চাহিদা পূরণে সুপেয়, নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন ও সরবরাহ এবং পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। ফলে ওয়াসার কাছ থেকে ঢাকাবাসীর প্রত্যাশিত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি বিদ্যমান। এর অন্যতম কারণ, ঢাকা ওয়াসার সুশাসন ও শুদ্ধাচারে ঘাটতি এবং সেবাপ্রদান পর্যায় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট ক্রয় খাতে চলমান দুর্নীতি।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও সেগুলো এগিয়ে নেয়ার জন্য আরো পরিবর্তন দরকার, যেক্ষেত্রে আমরা বেশ কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা মনে করি, আমাদের এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ঢাকা ওয়াসার সুশাসন ও শুদ্ধাচারের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হবে।

টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, প্রতিবেদনে যে কথাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এ অভিজ্ঞতাগুলো রয়েছে। আমরা কখনো অত্যন্ত অযৌক্তিকভাবে পানির অভাব বোধ করেছি আবার কখনো বাড়ি থেকে বের হয়ে পয়নিষ্কাশনের সমস্যায় পড়েছি। যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সেগুলো কার্যকর করতে পারে তাহলে সমস্যাগুলি সমাধানের একটা উপায় বের হয়ে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা ওয়াসার বিবেচনার জন্য ১৩ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: পানি ও পয়নিষ্কাশন সেবার মূল্য নির্ধারণে স্বতন্ত্র রেগুলেটরি কমিশন গঠন করতে হবে; ওয়াসা বোর্ডের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বোর্ড গঠন করতে হবে; জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা একটি একক কর্তৃপক্ষের নিকট ন্যস্ত করতে হবে, শূন্য পদগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করতে হবে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিতে বৃষ্টির পানি ধারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতিরোধে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রণোদনার ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং অসাধু কর্মচারীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে, সেবার মান যাচাই ও উন্নতিপ্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেবার মান মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, যা নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে করা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান।

আপনার মতামত লিখুন :

বোর্ড সেরার মুকুট চট্টগ্রাম কলেজের

বোর্ড সেরার মুকুট চট্টগ্রাম কলেজের
এইচএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থীরা

গৌরব আর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেরা কলেজের মুকুট অর্জন করেছে চট্টগ্রাম কলেজ। ঘোষিত ফলাফলে সর্বাধিক জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান শাখায় শতাধিক পাশের কৃতিত্ব দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান। এরপরে স্ব স্ব কলেজের ফল প্রকাশিত হয়। দুপুর ২টা নাগাদ চট্টগ্রাম কলেজের ফল পাওয়া যায়।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৮৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে শতাধিক পাশের সাথে ৫৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৯৩ শিক্ষার্থী। এছাড়া মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া ২৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬২ জন শিক্ষার্থী।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563367361242.jpg
ফল জানার পরে কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধু আর সহপাঠিদের নিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আনন্দে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ।

মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী তানজিয়া বিনতে কবির এক প্রতিক্রিয়ায় বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এমন মুহূর্তকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আম্মু, ভাইয়া আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে আকাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেছি।

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তানজিয়া। অপরদিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করা শিক্ষার্থী ইরতিসাম উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন শেষে দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন বলে জানান।

সন্তানদের এমন অর্জনে অভিভাবকরা খুশি। নুরুল আবছার নামে এক অভিভাবক বলেন, মেয়েটা গতকাল থেকে চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। রাত দিন অনেক পরিশ্রম করেছে, আজ ভালো রেজাল্ট পেয়ে অনেক খুশি।

অভিভাবক, শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এমন ফল ধরা দিয়েছে বলে জানালেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল হাসান। তিনি বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক আর আমার সহকর্মীদের কারণে এমন ফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। একটি চারাগাছকে সঠিকভাবে নার্সিং না করলে সেটি মারা যাবে। আমিও চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের চেষ্টার মূল্যায়ন করার।

এদিকে সেরা কলেজের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মহসিন কলেজের ১ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার মধ্যে ৫৩৪ জন জিপিএ-৫, তৃতীয় স্থানে থাকা সিটি কলেজের ২ হাজার ১৫৪ জনের মধ্যে ৩২১ জন, চতুর্থ স্থানে থাকা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের ৯৫৩ জনের মধ্যে ২৫০ জন, পঞ্চম থানে থাকা সরকারি মহিলা কলেজের ১ হাজার ২৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ঢাকায় ‘এডুকেশন ইউএসএ’ প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন

ঢাকায় ‘এডুকেশন ইউএসএ’ প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন
ওরিয়েন্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার, ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বুধবার (১৭ জুলাই) আমেরিকান সেন্টারে শিক্ষার্থীদের জন্য ২০১৯ ‘এডুকেশন ইউএসএ’ প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪.৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৪৯৬ জন হয়েছে। ২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময় বিষয়ক ‘ওপেন ডোরস’ রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার আন্তর্জাতিক গড় ১.৫ শতাংশকে পেছনে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দেশের একটি। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যার দিক থেকেও এখন বাংলাদেশ বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখেরও বেশি। এবার এ সংখ্যা ১১ লাখ, যা একটি রেকর্ড। পরিসংখ্যান আরও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি টানা ১২ বছরের মতো অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে ‘এডুকেশন ইউএসএ’র পরামর্শ সেবা ও রেফারেন্স সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বারিধারায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টার, ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দ্য আর্টস এবং চট্টগ্রামের আমেরিকান কর্নার। এসব স্থানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা দলভিত্তিক তথ্য সেশন পরিচালনা করেন এবং শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মায়েদের পরামর্শ দেন। এছাড়া সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর আমেরিকান কর্নারেও এডুকেশন ইউএসএ’র রেফারেন্স লাইব্রেরি এবং পরামর্শ সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র