Alexa

সীমান্তের ১৩ জেলা এখনো ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে

সীমান্তের ১৩ জেলা এখনো ম্যালেরিয়া ঝুঁকিতে

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভা, ছবি: বার্তা২৪.কম

দেশে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত ৫১টি জেলা। বাকি যে ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়া রয়েছে সেগুলোর প্রত্যেকটিই সীমান্ত এলাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকাগুলোতে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই এই রোগ থেকে মুক্ত হতে পারবে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডা. মিলন হলে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

ন্যাশনাল ম্যালেরিয়া এলিমিনেশন এন্ড এইডস ট্রান্সমিটেড ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম এবং ডা. এম এম আকতারুজ্জামান মূল প্রবন্ধে বলেন, 'দেশের তিনটি পার্বত্য জেলা ম্যালেরিয়ার চূড়ান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। যেগুলো ভারতের ত্রিপুরা এবং মিজোরামের সীমান্ত। এছাড়াও সিলেটের যে অঞ্চলগুলো ভারতের মেঘালয় এবং আসাম সীমান্তে সেখানেও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি রয়েছে।'

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ম্যানেজিং অফিসার ডা. মিয়া সাপাল বলেন, 'যেহেতু সীমান্তে ম্যালেরিয়া সমস্যা রয়েছে, তাই সীমান্ত পর্যায়ে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ত্রিপুরায় ম্যালেরিয়া নির্মূলে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সিলেটেও এই ধরনের সভা হবে। যেখানে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরাই উপস্থিত থাকবেন।'

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকার জনগোষ্ঠীর মাঝে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬৯ লাখ দীর্ঘস্থায়ী কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে সর্বমোট ১০ হাজার ৫২৩ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০০৮ সালের তুলনায় ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা শতকরা ৮৮ ভাগ এবং মৃত্যুর হার প্রায় ৯৫ শতাংশ কমেছে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সিডি এন্ড ওয়াশ বিভাগের পরিচালক ডা. আকরামুল ইসলাম বলেন, 'মে-জুন থেকে বৃষ্টি হলেই মশাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে। তবে এখন বৃষ্টি আগেই হচ্ছে। আবার ভারি বৃষ্টি হলে ডিম্ব ধুয়ে যায়। কিন্তু থেমে থেমে বৃষ্টি হলে মশার প্রাদুর্ভাব বাড়ে। এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ারও পরিবর্তন হয়েছে।'

কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল এর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড লাইন ডিরেক্টরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক এমএ ফয়েজ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিএসসি'র জাতীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক বেনজির আহমেদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক এনপিও ডা. এএম বাঙালি।

আপনার মতামত লিখুন :