Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রচারণা চান প্রধানমন্ত্রী

দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রচারণা চান প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা/ ছবি: ফোকাস বাংলা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

যেকোনো ধরণের দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান যেমন করবে, জাতীয়ভাবেও এটা করতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ এলে করণীয়টা কী তা প্রচার করা দরকার, মানুষকে সচেতন করা দরকার। মানুষকে জানানো দরকার।‘

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে দুর্যোগ আসছে ঠিক, কিন্তু আমরা এটা সামাল দিচ্ছি। এতটুকু একটা দেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। পশ্চিমা দেশে যদি এ রকম জনসংখ্যা হয়, তারা সামাল দিতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।‘

আধুনিকায়ন মানুষকে আরাম দেয়, সুবিধা দেয়, আবার মাঝে মাঝে ঝুঁকিও সৃষ্টি করেছে বলে জানান এই সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার, এমনকি কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহারে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। যাতে ঝুঁকিটা যেন কমে।‘

এ সময় দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টি প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা করা ও করণীয় নির্ধারণ করারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্যোগ মোকাবিলার সরঞ্জাম বাড়ানো ও জনবলের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে কর্মস্থল বা আবাসে দুর্যোগ নিরাপত্তার বিষয়ে মানুষকে সচেতন হওয়া ও প্রস্তুতি রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু দুর্ঘটনা ঘটলে সেটাকে সামাল দিতে হবে, সেটা ঠিক না। দুর্ঘটনাগুলো যাতে না ঘটে তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে এবং সেভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

‘দাবি মোদের একটাই-বেড়িবাঁধ চাই’

‘দাবি মোদের একটাই-বেড়িবাঁধ চাই’
বন্যায় ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়ক অচল/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) থেকে: ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল সড়ক কার্যত অচল। বন্যার পানির তোড়ে টেপিবাড়ি এলাকায় ভেসে গেছে সড়কের একাংশ। বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল।

গত তিন সপ্তাহ ধরেই ক্রমাগত বাড়ছে যমুনা নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী, ফলদা, নিকরাইল ইউনিয়নসহ পৌরসভার বেশ কিছু এলাকা।

ধসে যাওয়া স্থানটিতে যাবার পথেই দেখা গেল সেনাবাহিনীর গাড়িবহর। কাছাকাছি পৌঁছুতেই চোখে সড়ক ভাঙনের আগে জড়ো করা শত শত জিও ব্যাগ। সেখান থেকেই ভেসে আসছিলো স্লোগান। "দাবি মোদের একটাই-বেড়িবাঁধ চাই, বেড়িবাঁধ চাই"।

এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। বেড়ি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যার পানিতে ভেসে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। বন্যায় বাঁধ ধসে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। দিনভর স্থল পরিদর্শন করছেন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীসহ বেসামরিক প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর - ভুয়াপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, সংশ্লিষ্টরা যদি আগে থেকে সতর্ক হতেন তাহলে হয়তো বা এ বিপর্যয় এড়ানো যেত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563628719426.jpg

বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাহাদীপুর-গাড়াবাড়ী রাস্তা (স্থানীয়ভাবে বেড়িবাঁধ নামে পরিচিত) ভেঙে যায়। প্রাথমিকভাবে ৫ মিটার অংশ  ভাঙলেও বর্তমানে প্রায় ৩৫ মিটার অংশ ভাসিয়ে নিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ১০ মিটার গভীরতা।

ডুবে গেছে তাড়াই, চর তাড়াই, মাঝিপাড়া, পলশিয়া ও বলরামপুর। পরদিন ১৮ জুলাই ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে টেপিবাড়ী নামক স্থানে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সংযোগ সড়ক বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যায়। এতে পাশ্ববর্তী টেপিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন পানির প্রবল স্রোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত  হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, ভূঞাপুর-তারাকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির একাংশ ভেসে যাওয়ায় গাড়ি চলাচলসহ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ভূঞাপুর-তারাকান্দি সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ফলদা ইউনিয়নের ১০টি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী  গোপালপুর ও  ঘাটাইল উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় সড়কে জিও ব্যাগ ফেলে সড়ক  সংস্কার কাজ চলছে পূর্ণ গতিতে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছোটন চন্দ্র জানান, আমরা বিগত তিন বছর ধরেই সংশ্লিষ্ট দফতরকে বাঁধের বিষয়ে সর্তক করেছিলাম। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে হয়তো এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ভুঞাপুর যেখানেই গেছেন, স্বাগত জানিয়ে তার উদ্দেশে স্লোগান উঠেছে,"দাবি মোদের একটাই বেড়িবাঁধ চাই"।

এই স্লোগানের সঙ্গে অবশ্য একাত্মতা জানিয়ে উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, আমরা আগামীতে বাঁধগুলো এমনভাবে টেকসই করবো যাতে ত্রাণের আর প্রয়োজন না হয়।

পরে তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বাঁধের উপর রাস্তার যে অংশ ভেসে গেছে তা আমি পরিদর্শন করেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামী দুই দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের। আমরা সচেষ্ট রয়েছি যে কোনো মূল্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে।

'যে বান আইচ্ছে, অ্যালা নৌকাই হামার ভরসা'

'যে বান আইচ্ছে, অ্যালা নৌকাই হামার ভরসা'
কুড়িগ্রামের চিলমারী এলাকা। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কুড়িগ্রাম থেকে ফিরে: 'যে বান আইচ্ছে বাহে। অ্যালা নৌকাই হামার ভরসা। নৌকায় বসি কোনো মতে আলগা চুলায় একবেলা রান্না করি। নৌকাতেই ঘুমাই। বানোতে কষ্টের শ্যাষ নাই।'

এভাবেই বন্যার পানিতে নিদারুণ কষ্টে থাকার কথা বর্ণনা করছিলেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনাঘাট এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম। ব্রহ্মপুত্র নদীর কোল ঘেষে শহিদুলের মতো কুড়িগ্রাম জেলার কয়েক লাখ মানুষ এখন গৃহহীন হয়ে যাযাবর দিন কাটাচ্ছে।

উলিপুর উপজেলার শেষ ও চিলমারী উপজেলার শুরুর পথে চোখে পড়ে উঁচু ব্রিজ। এই ব্রিজের উপর ছাউনি করে অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ভাসমান এসব মানুষের থাকা-খাওয়াসহ রান্না করতে বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563628229831.jpg

বান্ধারঘাটের এই উঁচু ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে দুর্ভোগের কথা বলছিলেন মেরাজ উদ্দিন ব্যাপারী। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'বাড়ির ভিতরা কোমর পানি। চকি ডুবি গেইছে। মালামাল সউগ ভিজি গেইছে। বউ বাচ্চা নিয়া ব্রিজে তিনদিন ধরি রাইত কাটোচে। এভাবে থাকা খুবই কষ্টের। রাইত হইলে কাইয়ো নৌকার উপর বসি থাকি।'

অষ্টমীরচর থেকে নৌকায় করে ভাসতে ভাসতে গবাদি পশুপাখি নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর ঘনশ্যামপুরে এসেছেন রহিম বকস। সঙ্গে স্ত্রী, সন্তান ও প্রতিবেশী একজনের পরিবারও রয়েছে।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে দেখে ভেবেছিলেন ত্রাণের নৌকা। কিন্তু কাছে এসে হতাশ হলেন রহিম বকস। অনেকটা আক্ষেপ থেকে বললেন, 'তোমাক দুঃখের কতা কয়া কী হইবে। হামার পেটোত ভোগ। তোমরা দুই কেজি চাইলতো দিবার নন। খালি ফটোক তুলি পেপারোত দিলে হইবে?'

ওই নৌকায় থাকা কুদরত আলী নামে এক বৃদ্ধ তার দুরবস্থার কথা বর্ণনা করছিলেন। তিনি বলেন, 'এরশাদ সাইবের সময় (১৯৮৮ সালে) বানের পানি দেকচুং। আর অ্যালা দেকোচোং। এবার ডবলের ডবল পানি হইচে বাহে। কোনটে যামো? শুকান জাগা দেখানতো দেখি। চাইরোপাকে খালি পানি আর পানি। বাধ্য হয়া নৌকাত ভাসোছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563628251419.jpg

কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কে যাবার সময় নৌকায় কথা হয় স্কুলছাত্র রাসেল মিয়ার সঙ্গে। অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা রাসেল বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশের সবকটি বাড়ি ডুবে আছে। বেশির ভাগ বাড়িতে লোকজন নেই। টিনের চালটুকু জেগে আছে। আর সব পানির নিচে। ঘরের ধান-চালসহ প্রয়োজনীয় আসবাব সব ভিজে গেছে। অনেকেই যাত্রাপুরের দিকে চলে গেছে। আমরাও যাত্রাপুরের শুকনো স্থানের খোঁজে যাচ্ছি। এখনতো চলাচলের জন্য নৌকার বিকল্প নেই।’

এদিকে যাত্রাপুর সিডির মোড় থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে মাদরাসা পর্যন্ত জায়গাটুকু শুকনো আছে। বাকি সব ডুবে আছে। শুকনো ওই জায়গাতে গরু-বাছুর নিয়ে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর সড়কটির কোমর পানি এখন হাঁটুতে নেমেছে।

যাত্রাপুরের ইউপি সদস্য রহিমুদ্দিন রিপন জানান, এখন তো সবারই নৌকার প্রয়োজন। নৌকা ছাড়া চলাচল করা সম্ভব না। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে নৌকা সংকটের কারণে অনেককে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। শুকনা জায়গার অভাবে রান্নাও করা যাচ্ছে না। তবে তারা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, এই ইউনিয়নে ছয় হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী থাকলেও সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৫০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকিদের কেউ কেউ শুকনো খাবার পেয়েছে। নৌযান সংকটের কারণে যাত্রাপুরের অন্যান্য এলাকার বন্যার্তরাও চাহিদা অনুযায়ী সহযোগিতা পাচ্ছে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র