Alexa

বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিবন্দি ২০০ পরিবার

বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিবন্দি ২০০ পরিবার

দাকোপে প্রায় ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে/ ছবি: বার্তা২৪.কম

খুলনার দাকোপের বানিশান্তা বাজারের উত্তর পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রায় ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ প্রবল জোয়ারে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০০ পরিবার।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে পশুর নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে এ বেড়িবাঁধ বিলীন হয়। বেড়িবাঁধ ভাঙায় গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছ।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, পশুর নদীর পানি স্বাভাবিক অপেক্ষা তিন থেকে চার ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল জোয়ারের তোড়ে দাকোপ উপজেলার ৩৩নং পোল্ডারের ৯নং বানিশান্তা ইউনিয়নের বানিশান্তা বাজারের উত্তর পাশে কুদ্দুসের বাড়ির সামনে পাউবোর প্রায় ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে লোকালয়ে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় আমতলা ও বানিশান্তা গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবার সম্পূর্ণভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়া বানিশান্তা বাজারের প্রায় ১৫০ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় তাদের মালামালসহ আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া আমতলা ও বানিশান্তা গ্রামে পানি ঢুকে পড়ায় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/20/1555704496564.jpg

ভেঙে যাওয়া বাঁধের পাশে বসবাসকারী বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বানিশান্তার ৩৩নং পোল্ডারে বাঁধ নির্মাজ কাজ চলছিল। কিন্তু কাজে ধীরগতি ও ঝুকিপূর্ণ স্থানে কাজ না করে অপেক্ষাকৃত ভালো জায়গায় কাজ করায় ঝুকিপূর্ণ স্থান একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব রায় বলেন, ‘যে স্থানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সেই স্থানটি অনেক আগে থেকেই ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বাঁধটি দ্রুত সংস্কার বা বিকল্প প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের কথা কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও সেটি নির্মাণ না হওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

দাকোপ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘প্লাবিত হওয়া দুইটি গ্রামের স্থানীয় জনসাধারণকে রক্ষার্থে পাউবোর সাথে কথা বলেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের বলা হয়েছে। এছাড়া তাৎক্ষণিক চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে শ্রমিক লাগিয়ে বাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘ভেঙে যাওয়া ঝুকিপূর্ণ বাঁধটির পাশ দিয়ে প্রটেকশন বাঁধ নির্মাণের চেষ্টাকালে এলাকাবাসীর বাধার সম্মুখীন হয়েছি আগে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনসাধারণ আমাদেরকে ভূমিদানে সহযোগিতা করলে দ্রুতই বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় এর আরও খবর