দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আক্ষেপ নেই রাবি প্রশাসনের!

শাহরিয়ার হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা, বার্তা ২৪.কম
নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন, ছবি: বার্তা২৪

নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী থেকে: একাধিক মদের সংমিশ্রনে মদপান করে মারা যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থী মোহতাসিম ও সূর্য রায়। এ ঘটনায় নগরীতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে যে প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে সে প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

মরদেহ সংশ্লিষ্ট পরিবার গুলোর কাছে হস্তান্তর করাসহ কোনো কাজেই দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

ঘটনার পরে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। মামলার বিভিন্ন কারণে রাবি প্রশাসনের প্রয়োজন হলেও দেখা মেলেনি প্রোক্টর বডির সদস্য কিংবা অন্যদের।

সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে খোঁজা হয়েছিল। কিন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্য ঘটনায় প্রোক্টর সাধারণত ছুটে আসেন। কিন্তু সেদিন তিনি আসেননি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/20/1555746884995.jpg

অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ১০/১৫ দিনের মধ্যে ভিসেরা রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও সেটিও দিচ্ছে না রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ।

রোয়ালিয়া থানার পুলিশ কর্মকর্তা আমান উল্লাহ্ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় স্পটে গিয়ে যা দেখেছি এবং ওই শিক্ষার্থীর মধ্যে আরেক জন যিনি অসুস্থ ছিলেন তার বর্ণনার ভিত্তিতে আদালতের কাছে ঘটনার চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে একটু চাপ দেওয়া হতো। তাহলে এতদিন ভিসেরা রিপোর্টে চলে আসতো। মৃত্যুদণ্ডের সঠিক কারণ জানা যেত।’

এদিকে, শনিবার (২০ এপ্রিল) নিহত শিক্ষার্থী মোহতাসিম ও তূর্য রায়ের আইন ও অর্থনীতি বিভাগে সরজমিনে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অবশ্য অন্য বিভাগের কেউ কেউ বলছেন, এমন ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে নানা ধরণের সচেতনতামূলক কর্মসূচি বা আলোচনা সভা  করা যেতে পারত। কিন্তু এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।

আইন অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, নিহত মোহতাসিমের সিনিয়র মহিউদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যেহেতু মোহতাসিম রাফিদ মদপান করে মারা গেছে। সে জন্য এই ঘটনা নিয়ে কেউ কথা বলতে চাচ্ছে না। তার প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা থাকলেও কেউ প্রকাশ করছে না।’

একই কথা বলেছেন অর্থনীতি বিভাগের নিহত তূর্য রায়ের  বন্ধু ফারুক। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভেতরে ভেতরে সবারই খারাপ লাগা কাজ করছে। কিন্তু এটি সামনে আনলেই মদপানকে সমর্থন করা হবে। এমন একটি ধারণা সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে চলছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শুরু করে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কেউ।’

সার্বিক বিষয়ে, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশ যে মামলা করেছে। সেটা পুলিশই দেখভাল করবে। এছাড়া ঘটনার দিন আমি রাজশাহীতে ছিলাম না। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। শিক্ষার্থীরা যদি বাইরে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হন। তাহলে বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টা দেখাশুনা করেন।’

এই ঘটনার অন্য শিক্ষার্থীদের প্রভাব মুক্ত রাখতে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী মাদক সেবনে জড়িত তাদেরকে কাউন্সিলিংয়ের জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি আমরা ।এখন আবারো এসব কর্মসূচি শুরু করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :