Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আক্ষেপ নেই রাবি প্রশাসনের!

দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আক্ষেপ নেই রাবি প্রশাসনের!
নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন, ছবি: বার্তা২৪
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী থেকে: একাধিক মদের সংমিশ্রনে মদপান করে মারা যান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই শিক্ষার্থী মোহতাসিম ও সূর্য রায়। এ ঘটনায় নগরীতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে যে প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে সে প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

মরদেহ সংশ্লিষ্ট পরিবার গুলোর কাছে হস্তান্তর করাসহ কোনো কাজেই দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

ঘটনার পরে, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। মামলার বিভিন্ন কারণে রাবি প্রশাসনের প্রয়োজন হলেও দেখা মেলেনি প্রোক্টর বডির সদস্য কিংবা অন্যদের।

সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ‘ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে খোঁজা হয়েছিল। কিন্ত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্য ঘটনায় প্রোক্টর সাধারণত ছুটে আসেন। কিন্তু সেদিন তিনি আসেননি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/20/1555746884995.jpg

অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ১০/১৫ দিনের মধ্যে ভিসেরা রিপোর্ট দেওয়ার কথা থাকলেও সেটিও দিচ্ছে না রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ।

রোয়ালিয়া থানার পুলিশ কর্মকর্তা আমান উল্লাহ্ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় স্পটে গিয়ে যা দেখেছি এবং ওই শিক্ষার্থীর মধ্যে আরেক জন যিনি অসুস্থ ছিলেন তার বর্ণনার ভিত্তিতে আদালতের কাছে ঘটনার চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে একটু চাপ দেওয়া হতো। তাহলে এতদিন ভিসেরা রিপোর্টে চলে আসতো। মৃত্যুদণ্ডের সঠিক কারণ জানা যেত।’

এদিকে, শনিবার (২০ এপ্রিল) নিহত শিক্ষার্থী মোহতাসিম ও তূর্য রায়ের আইন ও অর্থনীতি বিভাগে সরজমিনে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অবশ্য অন্য বিভাগের কেউ কেউ বলছেন, এমন ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে নানা ধরণের সচেতনতামূলক কর্মসূচি বা আলোচনা সভা  করা যেতে পারত। কিন্তু এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই।

আইন অনুষদের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, নিহত মোহতাসিমের সিনিয়র মহিউদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যেহেতু মোহতাসিম রাফিদ মদপান করে মারা গেছে। সে জন্য এই ঘটনা নিয়ে কেউ কথা বলতে চাচ্ছে না। তার প্রতি ব্যক্তিগত ভালোবাসা থাকলেও কেউ প্রকাশ করছে না।’

একই কথা বলেছেন অর্থনীতি বিভাগের নিহত তূর্য রায়ের  বন্ধু ফারুক। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভেতরে ভেতরে সবারই খারাপ লাগা কাজ করছে। কিন্তু এটি সামনে আনলেই মদপানকে সমর্থন করা হবে। এমন একটি ধারণা সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে চলছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শুরু করে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কেউ।’

সার্বিক বিষয়ে, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশ যে মামলা করেছে। সেটা পুলিশই দেখভাল করবে। এছাড়া ঘটনার দিন আমি রাজশাহীতে ছিলাম না। যার ফলে বিষয়টি নিয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। শিক্ষার্থীরা যদি বাইরে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হন। তাহলে বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টা দেখাশুনা করেন।’

এই ঘটনার অন্য শিক্ষার্থীদের প্রভাব মুক্ত রাখতে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী মাদক সেবনে জড়িত তাদেরকে কাউন্সিলিংয়ের জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঝে মাঝে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি আমরা ।এখন আবারো এসব কর্মসূচি শুরু করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি
গ্রেনেড হামলায় আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর এবং মাস্টার মাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

বুধবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর শিববাড়ি রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানানো হয়।

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমা ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর-রহমান শান্ত'র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আ'লীগের সহ-সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু।

এতে সংগঠনের সহ-সভাপতি হোসাইন জিল্লু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই দানবীয় এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিকল্পিত সে হামলায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে এই গ্রেনেড হামলার যে রায় হয়েছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে।'

প্রতিবাদ সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম
মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের আয়েশি ঘুম/ছবি: শাহরিয়ার তামিম

রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভা চলছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন স্থানীয়, সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলায় ব্যস্ত। তবে অনুষ্ঠানের এ মঞ্চে দুশ্চিন্তামুক্ত ছিলেন একজন। আর তিনি হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে তিনি দফায় দফায় ঘুম দিচ্ছেন। কখনও ঘুমে দুলুনি খাচ্ছেন, কখনও আবার হঠাৎ চমকে উঠছেন। কোনো কোনো সময় মুখ হা করে বিরাট হাই তুলছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566400999878.jpg

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সভায় এমন আয়েশি ভঙ্গিতে ধরা পড়লেন সচিব হেলালুদ্দীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401016016.jpg

মন্ত্রীর কারণে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় আরও দেরিতে। এরপর মন্ত্রীর ডান পাশের চেয়ারে বসেন সচিব হেলালুদ্দীন আর বাম পাশে বসেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভার শুরুতে মেয়র কথা বলার পর বক্তব্য শুরু করেন মন্ত্রী। তার বক্তৃতার পুরো সময় সচিব কখনো হাই তুলেছেন, আবার কখনো দুই হাত বুকের ওপর রেখে ভঙ্গিতে ঘুম দিয়েছেন। মাঝে মাঝে দুই চোখ খুললেও আবার চোখ বন্ধ করে ফেলেন। মন্ত্রী যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন মাঝে মাঝেই সচিব চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401037611.jpg

সম্প্রতি দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকার, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন কর্মকর্তারা বেশ দৌড়ের ওপর রয়েছেন। ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতে পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনাও সইতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। এর মধ্যে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে সরকারের একজন আমলার এভাবে ঘুমানোকে বেমানান বলছেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন:  রোববার থেকে চিরুনি অভিযান, লার্ভা পেলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের..

ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দুঃখ..

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র