Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

ভোটার তালিকা হালনাগাদ

নারী ভোটার নিবন্ধনে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চায় ইসি

নারী ভোটার নিবন্ধনে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চায় ইসি
ছবি: বার্তা২৪
ইসমাঈল হোসাইন রাসেল
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটারযোগ্য নারীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় কমিটিতে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নারীদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিশেষ করে নারী জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্যসহ সাধারণ আসনের বিপরীতে নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধিদের এ কাজে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় ইসি।

তাই সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ কাজে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নির্দ্ধিধায় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে তারা প্রচারের কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে মনে করছে কমিশন।

সব জেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে নারী ভোটারদের হালনাগাদ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা চাওয়া হয়।

বিগত সময়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নারী ভোটার কম থাকার কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে ইসি। এরমধ্যে রয়েছে- নির্ধারিত ফি দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণে অনীহা, হিন্দু অবিবাহিত মেয়েদের পিত্রালয়ে নিবন্ধন করতে অনীহা, অবিবাহিতদের অনগ্রসর ও নিরক্ষর মেয়েদের ভোটার হওয়ার আগ্রহ কম, বাবা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়া, রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র দূরবর্তী হওয়া, আবহাওয়া অনূকূলে না থাকা, সামাজিক সংস্কার ও ধর্মীয় অজুহাতে ছবি তুলতে অনীহা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের অসচেতন হওয়া অন্যতম।

এসব সমস্যার প্রেক্ষিতে ভোটার তালিকায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির হার যেন উল্লেখযোগ্যভাবে কম না হয়, সে লক্ষ্যে হালনাগাদ কার্যক্রমের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, দফাদার ও গ্রাম পুলিশকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, নারী ভোটারদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা চেয়েছি। তথ্য সংগ্রহকারীদেরও ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মনিটরিং করার জন্য বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগে আমরা চার আঙুলের ছাপ নিতাম। এবার দশ আঙুলের ছাপ নেব। এছাড়া চোখের আইরিশ নেওয়া হবে। আমাদের প্রত্যাশা আছে- যারা নতুন ভোটার হবেন তাদের স্মার্ট কার্ড নেওয়া হবে।

ইসির সহকারী সচিব মোশাররফ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যত্রমে নারীদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছি। রোববার (২১ এপ্রিল) তাদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কারণ ভোটার নিবন্ধনে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আর নারী ভোটার নিবন্ধনে বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে জন্ম নেয়া ৮০ লাখ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইসি। প্রথমবারের মতো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন হিজড়ারা। আর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৩২ উপজেলায় তালিকা হালনাগাদে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। তবে নারী ভোটারদের নিবন্ধন নিশ্চিত করার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারযোগ্য নারীদের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করবে কমিশন।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত। যাদের বয়স ১৮ হয়নি কিন্তু ১৬ পেরিয়েছে, তাদের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। এরপর ২৫ মে থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে নির্ধারিত কেন্দ্রে নাগরিকদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ ও নিবন্ধনের কাজ। হালনাগাদে নতুন ভোটারের পাশাপাশি মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার স্থানান্তরের আবেদনও নেওয়া হবে। সারাদেশে ৫২ হাজার ৫০০ জন তথ্য সংগ্রহকারী, ১০ হাজার ৫০০ সুপারভাইজার এবং ৭০০ সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ করবেন।

আরও পড়ুন: ভোটার হালনাগাদে রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি

আপনার মতামত লিখুন :

রাজশাহীতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেফতার ৩

রাজশাহীতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেফতার ৩
অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত তিনজন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহীতে স্কুল থেকে ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হামিদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে স্কুল ছুটির পর নিজ বাড়িতে ফেরার পথে আমচত্বর থেকে ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে নগরীর নওদাপাড়ায় ফেলে রেখে যায় তারা।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- নগরীর আমচত্বর এলাকার ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী আতিকুর রহমান, সহযোগী শিমুল ও অটোরিকশা চালক ফয়সাল।

নগরীর শাহ মখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রায়শ আমচত্বর এলাকার দোকানে কাজ করা ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী আতিকুর ভুক্তভোগীকে বিরক্ত করতো। মাঝেমধ্যে প্রেমের প্রস্তাব দিতো।

বৃহস্পতিবারও সে প্রতিদিনের মতো দুপুর ২টার পর স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমচত্বর পৌঁছালে আতিকুর তার সহযোগি শিমুল ও অটোরিক্সা চালক ফয়সালের সহযোগীতায় জোরপূর্বক ভুক্তভোগীকে রাস্তা থেকে অটোতে তুলে নিয়ে চলে যায়।

ওসি আরও জানান, ওই ছাত্রী বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিষয়টি শাহমখদুম থানায় জানায়। মৌখিকভাবে জানানোর পর থেকেই পুলিশ তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। তবে সন্ধ্যার দিকে অপহরণকারী বখাটেরা ওই ছাত্রীকে আমচত্বর ফেলে রেখে চলে যায়। ছাত্রীর কাছ থেকে পরিচয় জেনে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের তিনজনকে আটক করে।

ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘রাতে ওই ছাত্রীর মা সাহেব জানবিবি বাদী হয়ে তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলা গ্রেফতার দেখিয়ে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।’

যোগ্যতা নিয়েই রাজনৈতিক দলে অংশ নিতে চান খুলনার নারী নেত্রীরা

যোগ্যতা নিয়েই রাজনৈতিক দলে অংশ নিতে চান খুলনার নারী নেত্রীরা
খুলনায় নারী নেত্রীদের মতবিনিময় সভা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

যোগ্যতা নিয়েই রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে অংশ নিতে চান খুলনার নারী নেত্রীরা। খুলনার নারী নেত্রীরা বলেছেন, স্বামী, সন্তান, সংসার, চাকরি সামলে নারীদের কাজ করতে হয়। তারপরও তারা এগিয়ে চলছে। তাই কোটা নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই নারীরা এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলের কমিটিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এক মঞ্চে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃনমূলের নারী নেত্রীরা এসব কথা বলেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিএমএ সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. ফরিদ আহমেদ, নিমাই মন্ডল, জুবায়ের আহমেদ জবা, বিএনপি নেতা বিএম কামরুজ্জামান টুক, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম, হোসনে আরা চম্পা, মহিলা দলের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন ছন্দা, নারী নেত্রী শোভা রাণী হালদার প্রমুখ।

এতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নারী সংগঠনের অর্ধ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র