৫০ হাজার টন গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর/ ছবি: সংগৃহীত

গম আমদানি করবে খাদ্য অধিদফতর/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কয়েক বছর ধরে দেশে গম উৎপাদনে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় রয়েছে। এ কারণে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে আমদানিতে ঝুঁকেছে সরকার। উৎপাদন কমার বিপরীতে দেশের গম আমদানি খাতে ধারাবাহিক চাঙ্গাভাব দেখা যাচ্ছে।

এই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আরও ৫০ হাজার টন গম আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে খাদ্য অধিদফতর। আশা করা হচ্ছে, দুই মাসের মধ্যে আমদানি করা এসব গম দেশের বাজারে আসবে।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকারি পর্যায়ে ৫০ হাজার টন গম আমদানির জন্য দরপত্রে অংশগ্রহণকারী চারটি কোম্পানির মধ্যে মের্সাস এগ্রো গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে।

কোম্পানিটি প্রতি টন গমের মূল্য দেবে ২৬৭ দশমিক ৯৮ মাকিন ডলার। এতে সরকারের খরচ হবে ১১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের দুই বন্দরে গম চলে আসবে । আগামীকাল (বুধবার ২৩ এপ্রিল) ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি উঠেছে।

গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ৩২তম। তিন বছর ধরে দেশে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ১৩ লাখ টন গমের উৎপাদন হয়েছিল। পরের বছর ৭৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টনে। ২০১৬ সালে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার টন গম উৎপাদন হয়, যা আগের বছরের তুলনায় তিন দশমিক ১০ শতাংশ কম।

২০১৭ সালে বন্যার কারণে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আরও কমে দাঁড়ায় ১১ লাখ ১৫ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। চলতি বছর দেশে ১২ লাখ টন কম গম উৎপাদন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ।

এদিকে উৎপাদন কমায় দেশের গম আমদানিতে বজায় রয়েছে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। বিশ্বের বুকে খাদ্যপণ্যটির পঞ্চম শীর্ষ আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশ। ২০১১ সালে সর্বশেষ গম আমদানি খাতে মন্দাভাব দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দেশে সাকল্যে ২০ লাখ ৩৯ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল। টানা পাঁচ বছরের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার টন গম আমদানি হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি।

পরের বছর খাদ্যপণ্যটির আমদানি আরও ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪ লাখ টনে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে গম আমদানি বেড়েছে আট লাখ ৪৪ হাজার টন। বাংলাদেশে গম আমদানির এটাই সর্বোচ্চ পরিমাণ।

গত  বছর বাংলাদেশে গম আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ৭০ হাজার টনে পৌঁছেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএসডিএ। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশে খাদ্যপণ্যটির আমদানি বাড়তে পারে ছয় লাখ টন। বাংলাদেশে গম আমদানির ইতিহাসে এটাই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আপনার মতামত লিখুন :