Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবে না’

‘দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবে না’
মহান মে দিবসেও কাজ করছেন খুলনার শ্রমিকরা, ছবি: মানজারুল ইসলাম
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
খুলনা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আজ (১ মে) মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এ দিনটি সারা বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বহির্বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে। কিন্তু যাদের অধিকার আদায়ের জন্য এ দিনটিকে পালন করা হয় তারাই জানে না এ দিবসটি সম্পর্কে।

খুলনার অধিকাংশ শ্রমিক বলছেন, আজো ন্যায্য অধিকার পাননি তারা। অনেকেই জানেই না আজ মহান মে দিবস। তারা বলছেন, বছরের অন্যান্য দিনের মতোই আজকের দিনেরও কাজ করে যেতে হয়।  শ্রমিকদের ভাষায় ‘দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবে না।’

খুলনা মহানগরী ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মে দিবসটি সম্পর্কে জানে না এখানকার অধিকাংশ শ্রমিক। ৩০নং ওয়ার্ডের তুষ মিলের নারী শ্রমিক আফিয়া বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, মে দিবস আবার কি? সারাবছরই সকাল থেকে সন্ধ্যা আমাদের কাজ করতে হয়। দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবেনা। আমাদের কাজ তো আর কেউ করবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556696139889.jpg

শেখপাড়ার মিলন কর্মকার বলেন, মে দিবসের কথা জানিনা। সারাদিন কাজ করেও ঠিকমতো টাকা পাইনা। আমাদের তো কেউ কখনো খোঁজও নেয়না। একই কথা জানালেন সাত রাস্তার মোড়ে কাজের জন্য অপেক্ষমাণ নারী শ্রমিক শাহানুর বানু।

তিনি বলেন, সকালে কয়জন লোক আইছিল। আমাগো কইলো কোনো অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবে। দুপুরে খিচুড়ি খাওয়াবে আর দুইশ টাহা দেবে। আমাগো কয়জন গেছে। আমি যাইনি। কাম করলি পাঁশশ(পাঁচশ) টাহা পাবানি। ওই অনুষ্ঠানে গিলি তো আর ইনকাম হবেনানে।

৩১ নং ওয়ার্ডের  গ্রিল মেকানিক হাবিব শেখ বলেন, এই মে দিবস এলেই র‌্যালি আলোচনায় যাওয়ার জন্য ডাক পড়ে। ওখানে গিয়ে কোনো লাভ হয়না। পাঁচ বছর আগেও যে মজুরি পেতাম, এখনো তাই পাই। কাজ করতে হয় ১২ ঘণ্টারও বেশী। এই দিবস দিয়ে কি করব।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556695330872.jpg

কাস্টমস ঘাটে জাহাজ থেকে কয়লা উত্তোলনকালে শ্রমিক সোহরাব আলী বলেন, এক বস্তা কয়লা উঠাইতে ৫ টাকার মত পাই আর এক ঝুড়ি আড়াই টাকা। এর কোনো বেশ কম নাই। মে দিবস হল আমাদের পিকনিক। আমরা মে দিবসে দল বেধে পার্কের আলোচনায় যাই। ওইখান থেকে ফিরে দুপুরে সবাই মিলে খাই দাই করি। যার মনে চায় কাজ করে, আর যার ইচ্ছা সে পিকনিক করে। এছাড়া আর কিছু বুঝি না।

নির্মাণ শ্রমিক আবুল মিয়া বলেন, প্রতিবছর মে দিবস আসে আবার যায়। শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়না। আমরা যেসব দিক দিয়ে বঞ্চিত, তা কখনোই পাইনা। না বাড়ে মজুরি, না কমে কাজের সময়।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের এ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন। সে আন্দোলনে শ্রমিকরা জীবনও উৎসর্গ করেছিলেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে মে দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শ্রমিক মালিক ঐক্যগড়ি উন্নয়নের শপথ করি’।

 

আপনার মতামত লিখুন :

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা
আতাউর রহমান আতা, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আতা। ২০০১ সালে নাট্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছিলেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আতাউর রহমানকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে আতাউর রহমানের জন্ম। স্কুলজীবনেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আতাউর রহমান প্রথম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭২ সালে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এর মাধ্যমে তার নাট্য নির্দেশনা শুরু। পরে নিজের দল ও অন্য দলের হয়ে অসংখ্য নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মঞ্চ নাটকের নির্দেশনার পাশাপাশি আতাউর রহমান অভিনয়ও করছেন সমানতালে। এ ছাড়া নাট্য বিষয়ক বই, নাট্যসমালোচনা, উপস্থাপনা, শিক্ষকতা, টেলিভিশন নাট্যকার, প্রবন্ধকার, বক্তা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে আতাউর রহমানের সরব পদচারণা।

বরিশালে কমছে ডেঙ্গু রোগী

বরিশালে কমছে ডেঙ্গু রোগী
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্তরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরিশালে কমতে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও কমছে রোগী ভর্তির সংখ্যা। ঈদুল আজহা ঘিরে এ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তুলনামূলক বাড়েনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ৩৭ জন ‍পুরুষ, ১৫ জন মহিলা ও ৯ জন শিশু। সব মিলিয়ে বর্তমানে শেবাচিমে ২৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার মধ্যে ১৪৬ জন পুরুষ, ৫৬ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু রয়েছে।

বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন শেবাচিম পরিচালক ডাক্তার মোঃ বাকির হোসেন।

এ সময় তিনি জানান, গত তিন থেকে চার দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শেবাচিম হাসপাতালে তুলনামূলক কম ভর্তি হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশাবাদী ঐ পরিচালক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566039735609.gif

শেবাচিমে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুক্রবারের ৫০ জন, বৃহস্পতিবার ৬৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল। এর আগে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ জন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতো।

এদিকে শনিবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী। শুক্রবার সকালের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৯১ জন ও বৃহস্পতিবার ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

ঈদের পরে ১৪ আগস্ট হাসপাতালে ৩৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। ১৫ আগস্ট ছিল ২৯৯ এবং ১৬ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৫৮ জনে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত এক মাসে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত এক হাজার ১৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯১২ জন। আর মৃত্যু হয়েছে শিশুসহ চার জন রোগীর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র