Alexa

‘দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবে না’

‘দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবে না’

মহান মে দিবসেও কাজ করছেন খুলনার শ্রমিকরা, ছবি: মানজারুল ইসলাম

আজ (১ মে) মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এ দিনটি সারা বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বহির্বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে নানা আয়োজনে। কিন্তু যাদের অধিকার আদায়ের জন্য এ দিনটিকে পালন করা হয় তারাই জানে না এ দিবসটি সম্পর্কে।

খুলনার অধিকাংশ শ্রমিক বলছেন, আজো ন্যায্য অধিকার পাননি তারা। অনেকেই জানেই না আজ মহান মে দিবস। তারা বলছেন, বছরের অন্যান্য দিনের মতোই আজকের দিনেরও কাজ করে যেতে হয়।  শ্রমিকদের ভাষায় ‘দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবে না।’

খুলনা মহানগরী ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মে দিবসটি সম্পর্কে জানে না এখানকার অধিকাংশ শ্রমিক। ৩০নং ওয়ার্ডের তুষ মিলের নারী শ্রমিক আফিয়া বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, মে দিবস আবার কি? সারাবছরই সকাল থেকে সন্ধ্যা আমাদের কাজ করতে হয়। দিবস দিয়ে তো আর পেটে ভাত জুটবেনা। আমাদের কাজ তো আর কেউ করবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556696139889.jpg

শেখপাড়ার মিলন কর্মকার বলেন, মে দিবসের কথা জানিনা। সারাদিন কাজ করেও ঠিকমতো টাকা পাইনা। আমাদের তো কেউ কখনো খোঁজও নেয়না। একই কথা জানালেন সাত রাস্তার মোড়ে কাজের জন্য অপেক্ষমাণ নারী শ্রমিক শাহানুর বানু।

তিনি বলেন, সকালে কয়জন লোক আইছিল। আমাগো কইলো কোনো অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবে। দুপুরে খিচুড়ি খাওয়াবে আর দুইশ টাহা দেবে। আমাগো কয়জন গেছে। আমি যাইনি। কাম করলি পাঁশশ(পাঁচশ) টাহা পাবানি। ওই অনুষ্ঠানে গিলি তো আর ইনকাম হবেনানে।

৩১ নং ওয়ার্ডের  গ্রিল মেকানিক হাবিব শেখ বলেন, এই মে দিবস এলেই র‌্যালি আলোচনায় যাওয়ার জন্য ডাক পড়ে। ওখানে গিয়ে কোনো লাভ হয়না। পাঁচ বছর আগেও যে মজুরি পেতাম, এখনো তাই পাই। কাজ করতে হয় ১২ ঘণ্টারও বেশী। এই দিবস দিয়ে কি করব।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556695330872.jpg

কাস্টমস ঘাটে জাহাজ থেকে কয়লা উত্তোলনকালে শ্রমিক সোহরাব আলী বলেন, এক বস্তা কয়লা উঠাইতে ৫ টাকার মত পাই আর এক ঝুড়ি আড়াই টাকা। এর কোনো বেশ কম নাই। মে দিবস হল আমাদের পিকনিক। আমরা মে দিবসে দল বেধে পার্কের আলোচনায় যাই। ওইখান থেকে ফিরে দুপুরে সবাই মিলে খাই দাই করি। যার মনে চায় কাজ করে, আর যার ইচ্ছা সে পিকনিক করে। এছাড়া আর কিছু বুঝি না।

নির্মাণ শ্রমিক আবুল মিয়া বলেন, প্রতিবছর মে দিবস আসে আবার যায়। শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়না। আমরা যেসব দিক দিয়ে বঞ্চিত, তা কখনোই পাইনা। না বাড়ে মজুরি, না কমে কাজের সময়।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালের এ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিলেন। সে আন্দোলনে শ্রমিকরা জীবনও উৎসর্গ করেছিলেন। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের এই দিনকে তখন থেকেই সারা বিশ্বে মে দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শ্রমিক মালিক ঐক্যগড়ি উন্নয়নের শপথ করি’।

 

আপনার মতামত লিখুন :