Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

‘শ্রেণি বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে’

‘শ্রেণি বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে’
মহান মে দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজধানীতে মিছিল করে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, ছবি: সুমন শেখ
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মহান মে দিবস পালন করেছে দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো। এ উপলক্ষে বুধবার (১ মে) রাজধানীসহ প্রায় সব জেলা ও উপজেলায় র‍্যালি ও মানববন্ধন করেছেন শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মালিকপক্ষ জুলুম নির্যাতন করে প্রতিনিয়ত। কিন্তু ডিউটি করার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। আট ঘণ্টা নয়ম ১০ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়। অথচ পান না অতিরিক্ত সময়ের বেতন।

রাজধানীর জাতীয় প্রসক্লাব, নয়াপল্টন, পুরানাপল্টন, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।

শ্রমিক নেতারা বলেন, বেতন-বোনাস ঠিক মতো পান না, এমনকি সাপ্তাহিক ছুটি পর্যন্ত অনেক সময় দেওয়া হয় না। অনেক শ্রমিক মাসিক ভিত্তিতে কাজ করলেও নেই নির্দিষ্ট বেতন। অপর দিকে মালিকদের বেশিরভাগই সরকারের এমপি, মন্ত্রী বা নেতা। ফলে সরকার একটা নিরপেক্ষ অবস্থায় যেতে চাইলেও তাদের প্রভাবে যেতে পারে না। যখন কোনো উপায় না থাকে তখন বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয় শ্রমিকদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556716952271.jpg

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিলেন বেসরকারি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. দুলাল সরদার। আবগাপ্লুত হয়ে বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিনের উপস্থিতির ভিত্তিতে কাজ করি। আমি কাজ করি সরকারি কলেজে। আমাদের চাকরি জাতীয়করণ হয় নাই। আমরা আমাদের পরিবারকে কী জবাব দেব? ২০ বছর পর আমার সন্তানদের কী জবাব দেব? আমরা আমার সন্তানদের বলতে পারি না যে, বাবারা তোমরা হাতে এটা নাও। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন- আমাদের চাকরি যেন জাতীয়করণ করা হয়।

মে দিবসেও গাড়ি চালাচ্ছেন বজলুর রহমান। তিনি এই পেশায় ২০ বছর ধরে কাজ করছেন। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, প্রতিটি ট্রিপের ভিত্তিতে আমরা টাকা পাই। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন নেই, ট্রিপ হলে বেতন, না হলে নাই। ন্যায্য মজুরি পাই না, যানজটে ট্রিপ মারতে পারি না, টাকা পাব কীভাবে!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556716972406.jpg

বাংলাদেশ প্রাইভেট কার চালক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নেতাকর্মীরা তাদের ন্যায্য বেতন ও সুযোগ সুবিধার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন। এ সময় উপস্থিত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমরা অবহেলিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত। আমাদের মালিক পক্ষ বেতন নিয়ে ঝামেলা করে। কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদের চালককে চাকরিচুত্য করে। আমাদের ডিউটির কোনো মাপকাঠি নাই। ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। আমাদের দাবি- আট ঘণ্টা ডিউটি করা হোক, এর পরে যে সময় ডিউটি করা হবে তার ওভার টাইম বিলের ব্যবস্থা করতে হবে। সাপ্তাহিক ছুটি দিতে হবে। প্রতি ঈদে বোনাস দিতে হবে।

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের প্রধান খাত গার্মেন্টস সেক্টর। সেখানেও শ্রমিকরা ন্যায্য বেতন না পাওয়া সহ নানান বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন। তিনি র‍্যালিতে অংশ নিয়ে বার্তা২৪.কমকে বলেন, মূলত সরকারের মধ্যে যারা সংসদ সদস্য তাদের একটি বড় অংশই মালিক গোষ্ঠী, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক। সরকারের মন্ত্রিপরিষদের মধ্যেও অধিকাংশ ব্যবসায়ী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556717036476.jpg

‘স্বাভাবিকভাবেই সরকারের নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা দরকার, যিনি মালিক শ্রমিক উভয়েরই স্বার্থ দেখবে। যেহেতু সরকারের মধ্যে মালিক গোষ্ঠীর প্রভাব অনেক বেশি তাই সরকার শ্রমিকদের পক্ষে সেভাবে অবস্থান নেয় না। তারা মালিকদের স্বার্থ সব সময় বিবেচনা করে। পাবলিক সেক্টরে মেটার্নিটি ছুটি ছয় মাস। আর বেসরকারি সেক্টরে এই ছুটি চার মাস। এই বৈষম্য সরকারের করা উচিৎ নয়। কিন্তু সরকার মালিকদের উপর প্রভাব ফেলতে পারছে না। যে কারণে আমাদের নারী শ্রমিকদের মেটার্নিটি ছুটি ছয় মাস হয় নাই।’

তিনি বলেন, এদেশের কৃষক, শ্রমিকদের অবস্থা দিনদিন খারাপ হচ্ছে। আর কিছু সংখ্যক মানুষ সম্পদের পাহাড় গড়ছে। এই শ্রেণি বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের সঙ্গে রংপুর যাচ্ছেন যারা

এরশাদের সঙ্গে রংপুর যাচ্ছেন যারা
চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ। ফাইল ছবি

রংপুর থেকে: আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বাদ জোহর রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টার যোগে এরশাদের মরদেহ রংপুরে আনা হবে।

এরশাদের মরদেহের সঙ্গে রংপুরে আসবেন দলের শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এরশাদ স্যারের রংপুরের জানাজায় তার মরদেহের সঙ্গে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, স্যারের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতি, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টুসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য।’

জানাজা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ঢাকা বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির উত্তরাঞ্চলের নেতারা ইতোমধ্যে এরশাদের দাফন রংপুরে করার ঘোষণা দিয়ে কবর খনন করেছেন। দাফন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদ মারা যান।

রংপুরেই এরশাদের দাফন চান সাবেক স্ত্রী বিদিশা

রংপুরেই এরশাদের দাফন চান সাবেক স্ত্রী বিদিশা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক, ছবি: সংগৃহীত

রংপুরবাসীর মতো সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন রংপুরেই চান তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, 'আমিও তাই চাই, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মতো রংপুরের মাটি যেন হয় এরশাদের শেষ ঠিকানা। সহধর্মিণী থাকতে বহুবার পল্লী নিবাসের বারান্দায় ছেলে এরিককে কোলে বসিয়ে উনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি আমার ছোট, দেখ আমার মৃত্যু ও যেন আমার ছেলের কাছে থেকে দূরে না রাখে। আমার কবর আমি এই পল্লী নিবাসে চাই। রংপুরের মানুষের ভালোবাসা প্রতিদান আমি দিতে পারিনি আজও। রংপুরের মানুষ আমার কবরে এসে দোয়া করবে এটাই আমার চাওয়া। প্রতিবার এই কথাটি বলতেন তিনি এরিকের দিকে তাকিয়ে, ভিজে চোখে।'

এর আগে রোববার ১৪ জুলাই রোববার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর আজমির শরিফে থাকা বিদিশা এরশাদ ফেসবুকে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে বিদিশা এরশাদ লিখেছেন, 'এ জন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমির শরিফ আসলাম, আর তুমিও চলে গেলে। এত কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়াতে, যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।'

সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা আজ সকালে আজমির শরিফ থেকে দেশে ফিরেন। তিনি সকালে এরশাদের মরদেহ দেখতে এবং ছেলে এরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়ে বাধার মুখে বাসার গেট থেকে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ জুলাই) সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাফন জটিলতা তৈরি হয়। ঢাকার নেতারা চাইছেন এরশাদের দাফন হোক সেনা কবরস্থানে। বিপরীতে রংপুরের নেতাকর্মীরা চাইছেন, রংপুরেই হোক এরশাদের শেষ সমাধি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র