খুলনার বানীশান্তা ইউনিয়নে বাঁধ ভেঙে ৫০০ ঘর প্লাবিত!

মনি আচার্য্য,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভেঙে যাওয়া রক্ষার চেষ্টা করছেন গ্রামবাসী, ছবি: সুমন শেখ, বার্তা২৪

ভেঙে যাওয়া রক্ষার চেষ্টা করছেন গ্রামবাসী, ছবি: সুমন শেখ, বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

মংলা থেকে: দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ ক্ষতির শঙ্কা তেমনটি নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতর।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির তেমন খবর এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে ঘূর্ণিঝড় ফণীর রক্তচক্ষু দেখেছে মংলা উপকূলীয় অঞ্চলের বানীশান্তা ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556957400513.jpg

বানীশান্তা ইউনিয়ন ও মংলার মাঝে দিয়ে পশুর নদীর বয়ে চলে। এই পশুর নদীর হাত থেকে বানীশান্তা ইউনিয়নটিকে রক্ষা করতে সাড়ে ৫'শ ফুটের একটি বাঁধ অনেক আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু উপকূলীয় এই অঞ্চলটিতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে বাঁধটির প্রায় ৩'শ ফুট অংশ ভেঙে যায়। এতে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ৫'শ ঘর প্লাবিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রকোপে বানীশান্তা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের প্রায় ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন৷ ঝড়ের কবলে প্রায় ১৫-২০টি কাঁচা ঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া ঘরে রাখা চাল, ধান ও প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র পানিতে ভেসে যায়। অন্যদিকে ৭০-৮০ টি পুকুর নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। এই পুকুরগুলোতে বিভিন্ন প্রকার মাছ চাষ করতেন স্থানীয়রা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556957415464.jpg

শনিবার (৪ মে) দুপুরে বানীশান্তা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ৫'শ ফুট বাঁধটি সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিজেদের বসতভিটা ও জীবন রক্ষার্থে স্থানীয়রা মিলে বাঁধটি আটকানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু নদীতে জোয়ার থাকায় স্থানীয়দের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। তবে বাঁধটি রক্ষা করতে এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকেই দেখা যায়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556957427666.jpg

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাঁধটি নির্মাণ করেছেন চীনা একটি প্রতিষ্ঠান। বাঁধটি বানানোর সময় থেকে অনেক ত্রুটি ছিল। বাঁধটিতে কংক্রিটের ব্লক দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান তা করেনি। তাই সামান্য জোয়ারেই বাঁধটি রক্ষা করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের।

গ্রামবাসী জানান, শনিবার মধ্য রাতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর গ্রাস থেকে বাঁধটি রক্ষা করতে পারেননি তারা। ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556957439118.jpg

বানীশান্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই শীতাংশু রায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে আমাদের এলাকার বাঁধটি ভেঙে গিয়ে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৫০০ কাঁচা ঘর প্লাবিত হয়ে ২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পরেছেন৷ এছাড়া ঘরে থাকা গবাদিপশু ও চাল ডাল ও ধান পানিতে ভেসে গেছে। এলাকার মানুষজন এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন৷ কোনো ধরনের সরকারি সাহায্য এখনো এসে পৌঁছায়নি।

বাঁধ ভেঙে পূলক মিশ্রের দুচালা কাঁচা ঘর পানিতে ভেসে গেছে। এখন তার থাকার মতো কোনো ঘর নেই। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরে হাঁটু পানি। দ্রুত স্ত্রী ও ৫ বছরের ছেলেকে বের করে দেখি বাঁধ ভেঙে ঘরে অনবরত পানি ঢুকছে। এর কিছুক্ষণ পর ঝড়ের তাণ্ডবে ও জলের ধাক্কায় নিমেষেই আমরা ঘরটি ভেসে যায়। ঘরে থাকা ধান চাল সব পানিতে ভেসে যায়। কোনো মতে সবাইকে নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে গিয়ে প্রাণে বাঁচি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/04/1556957454033.jpg

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, বাঁধ ভেঙে ঘর বাড়ি ভেসে যাওয়ার কারণে তাদের কাছে এখন আর কোনো খাবার নেই। একই সঙ্গে লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে খাওয়ার পানির উৎসগুলো। সে কারণে এই এলাকায় দেখা গেছে খাওয়ার পানির তীব্র সঙ্কট। দ্রুত তাদের কাছে সরকারি সাহায্য না পৌঁছালে তাদের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাবে।

এছাড়া দ্রুত বাঁধটি রক্ষার কাজ শুরু না করলে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে যেতে পারে সমস্ত ইউনিয়নের ঘর বাড়ি। কেননা বাঁধটি এখন প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে যায় যায় অবস্থা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন :