বন্যার আশঙ্কায় তিস্তাপাড়ের ১০ লাখ মানুষ

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর, বার্তা২৪.কম
তিস্তা ব্যারেজ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

তিস্তা ব্যারেজ/ ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সুপার সাইক্লোন ফণীর প্রভাবে ভারত ও বাংলাদেশের নদ-নদীতে গত দুই দিনে কিছুটা পানি বেড়েছে। এখন ফণীর তাণ্ডব শেষে অকাল বন্যার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদী বেষ্টিত রংপুর অঞ্চলের মানুষজন শুনছেন বন্যার আগাম পদধ্বনি।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর তিস্তার দুই পাড়ের ১০ লাখ মানুষের চোখে মুখে এখন বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ভারত গজলডোবার বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দিলে হুহু করে নদ-নদীতে পানি বাড়বে। এতে তিস্তার পানি দুই কূল উপচে অকাল বন্যা হতে পারে।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার উপজেলার বড়খাতার বাসিন্দা শিক্ষক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘হঠাৎ করেই পানি বাড়তে শুরু করেছে। এই অবস্থায় গজলডোবা থেকে যদি পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। তাহলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আবাদি ফসলসহ ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।’

বন্যার আশঙ্কায় ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে। কমিয়ে রাখা হয়েছে ডালিয়ার মূল ক্যানেলের পানি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নেওয়া হয়েছে আগাম প্রস্তুতিও।

বরাবরই ভারত গজলডোবা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় এই অঞ্চলে আগাম বন্যা হয়ে থাকে বলে জানান রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ফণী মোকাবিলায় আমরা যেমন প্রস্তুত ছিলাম। তেমনি ভারতের গজলডোবা থেকে যদি পানি ছেড়ে দেয়, সেক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। বর্তমানে ডালিয়া ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে রেখেছি। এছাড়া মূল ক্যানেলের পানিও কমিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে ভারত থেকে আসা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়।’

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ মে) সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির প্রবাহ ছিল ৫১ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। রাতে ছিল ৫১ দশমিক ৫২ মিটার। এই পয়েন্টে বিপদসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। বর্তমানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ফণীর প্রভাবে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত রংপুরের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। এ সময় বাতাসে ঘণ্টায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার বেগ ছিল।’

শনিবার রংপুর ও আশপাশের এলাকায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডব শঙ্কা কেটে যাওয়ায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মোস্তাফিজার রহমান।

আপনার মতামত লিখুন :