Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

ত্রাণ নয়, প্রয়োজন বাঁধ সংস্কার

ত্রাণ নয়, প্রয়োজন বাঁধ সংস্কার
ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ৩য় বারের মতো খুলনার দাকোপ উপজেলার পশুর নদীর তীরবর্তী বানীশান্তা ইউনিয়নের ওয়াপদার ভেড়িবাঁধে ভাঙ্গন হয়েছে। এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গোটা খুলনায় তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও দাকোপের বানীশান্তা এলাকাবাসীর বিপদ যেনো লেগেই আছে।


রোববার (৫ মে) দুপুরের দিকে পশুর নদীর জোয়ারের পানি বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত চাপে বানীশান্তা বাজারের উত্তর পাশের এলাকায় পাশাপাশি পৃথক ২টি স্থানে প্রায় ১০০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ার ঘটনায় পানিবন্দী হয়ে পরে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরে রাতে আরো ২টি পৃথক স্থানে প্রায় ৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557102378026.jpg
ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। 

 

বেড়িবাঁধের ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্ত বিমল কৃষ্ণ বার্তা২৪.কম কে বলেন, ‘আমাদের এহানের বাঁধ খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝড়ের গোণে ৩ বার বাঁধ ভাঙলো। আগে দুইবার বাঁধ ভাঙ্গার পরে আমরাই আবার বালি আর বস্তা ফেলছি, কিন্তু এহন জোয়ারের জন্যি দেয়া যাচ্ছেনা’। 

দাকোপের সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াদুদ রাতে বার্তা২৪. কম কে বলেন, ‘দুপুরের দিকে দাকোপ বাণীশান্তা বাজারের পাশের বাঁধে ৩য় বারের মতো ভাঙ্গন হয়েছে। তবে মূল সমস্যা হলো, আগের দু’বারের ভাঙ্গনের পরেই গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দ্রুত বাঁধের সংস্কার করেছিলো। কিন্তু এবার জোয়ারের পানির প্রবল স্রোতের কারণে গভীর রাত পর্যন্তও বাঁধের সংস্কার বা পানি আটকানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিয়মিত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। এ পর্যন্ত বাঁধের ভাঙ্গনের কারণে ৫’শ পরিবারের মাঝে ৫ কেজি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। প্রয়োজনে আরো ত্রাণ বিতরণ করা হবে। তবে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার। দিনের আলো ফুটলেই বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হবে’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/06/1557102450388.jpg
উপায়ন্তর না থাকায় পানিতেই চলাচল।

 

এদিকে ত্রাণসামগ্রীর পরিবর্তে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে দাকোপের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী। বারবার বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় সংগ্রামী উপকূলবাসীরা ত্রাণের চেয়ে বাঁধ সংস্কারের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ফণী’র প্রভাবে গত ৪দিনের ভেতরে দাকোপে এ নিয়ে ৩ বার বাঁধ ভাঙ্গলো। এতে স্থানীয় ৯টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার প্রায় সহস্রাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দাকোপের বাণীশান্তা বাজার এলাকার অধিকাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কাঁচা ও আধাঁপাকা ঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩
গ্রেফতারকৃত তিন যুবক, ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী্কে যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল ইসলামের উপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর সোনাদিঘী মোড় থেকে তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা।

পরে তাদের মহানগর পুলিশের পশ্চিম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আমির জাফরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আটককৃতদের। পরে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন জাতীয় দৌঁড়বিদও রয়েছেন।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘তিনজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আমাদের থানায় সোপর্দ করেছেন।’

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মুসতাকের ছেলে বকুল আহমেদ (১৯), রাজপাড়া থানার আলিরমোড় এলাকার দুলালের ছেলে শাহানুর হোসেন খোকন (১৯) ও নগরীর বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুলের ছেলে রিপন মন্ডল (১৮)

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম (প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত) তার স্ত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় একদল বখাটের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর ওই শিক্ষক ফেসবুকে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন। যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের আশ্বাসে গত ১৬ আগস্ট শিক্ষক রাশিদুলের স্ত্রী এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন যুবককে আসামি করা হয়। পুলিশ গুরুত্বসহকারে মামলাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন, রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কিশোরী অপহরণ, ছবি প্রতীকী

রাজশাহীর দুর্গাপুরে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করেছে একদল বখাটে। মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বখাটেদের বাধা দেওয়ায় কিশোরীর মাকেও মারধর করা হয়। ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থও লুট করে নিয়ে যায় বখাটে দল।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের মন্ডলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত কিশোরী কয়ামাজমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। কিশোরীর পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের।

পরিবার সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে টুটুল নামে স্থানীয় এক যুবক উত্যক্ত করে আসছিল। বখাটেদের হাত থেকে রেহাই পেতে কিশোরীর বিয়ে ঠিক করে পরিবার। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর তার বিয়ের দিন ঠিক করা হয়।

অপহৃত কিশোরীর বাবা তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মায়ের বরাত দিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা ছিলেন। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে দু'টি মোটরসাইকেলযোগে ৪/৫ জন যুবক তার বাড়িতে আসেন । প্রথমে তারা অস্ত্রের মুখে কিশোরীর মা ও দাদিকে জিম্মি করে। পরে তার ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে। পরে মেয়েকে নিয়ে যেতে উদ্যত হলে তার স্ত্রী চিৎকার দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার স্ত্রীকে মারপিট করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

কিশোরীর বাবা বলেন, 'যারা বাড়িতে এসেছিল, তাদের একজনের হাতে পিস্তল ও একজনের হাতে ধারালো অস্ত্র (চাকু) ছিল। বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল আরও ২ থেকে ৩ জন।'

কিশোরীর বাবা জানান, প্রায় এক বছর ধরে কায়ামাজমপুর গ্রামের ফেরদৌস আলীর ছেলে টুটুল তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকবার তার বাবাকে অভিযোগও করা হয়। তাতে কোন কাজ হয়নি। টুটুলের বাবা ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে ভয়ে তিনি পুলিশকে অভিযোগও করতে যাননি। বাধ্য হয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। এক সপ্তাহ আগে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার আশীর্বাদ হয়েছে।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খুরশিদা বানু কনা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে নেমেছে।’

তিনি আরও বলেন, 'আমরা আশেপাশের সকল থানায়ও বার্তা পাঠিয়েছি। সবার আগে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।' পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন, রাজশাহীতে দিনে নারী-শিশু নির্যাতনের ১২ মামলা

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র