জলবায়ু খাতে বিনিয়োগে নজির বাংলাদেশের



সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২১) সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ খাতে প্রথম জাতীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বিশ্বের আর কোনো দেশের জাতীয় বিনিয়োগের নজির নেই। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও-এ ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা (সিআইপি)’র উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। দেশে পরিবেশগত সুশাসন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো খাতগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় বিনিয়োগ খুবই কম। এ কারণে এ খাতে বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় অধিকতর অর্থায়নের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। এতে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়ায় বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা দায়ী নই। বিশ্বের পাঁচটি বড় দেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রাজিল ও ভারত ৫৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে। অথচ এসবের ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা। জলবায়ু ঝুঁকি এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আমরা এখন দেখি, উড়োজাহাজে ভ্রমণে ঝাঁকুনি বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পরে উড়োজাহাজের সিটে বসে থাকতে পারবো না। বিশেষ অতিথি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সরকার এমন সব নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থেই সবার জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা যাবে। আমরা আশা করি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সঠিক ও অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্প নির্বাচনে এই কৌশলগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা সহায়ক হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের নীতিগত উদ্দেশ্য সফলভাবে অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জিয়াউপর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইউএসএইডের মিশন ডিরেক্টর জেনিনা জেরুজালস্কি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আবাসিক প্রতিনিধি ডেভিড ডুলান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।