ভেজাল বিরোধী অভিযানের পরও বেপরোয়া অসাধু ব্যবসায়ীরা

শাহরিয়ার হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজাল বিরোধী অভিযান, ছবি: সংগৃহীত

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজাল বিরোধী অভিযান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে খাদ্যে ভেজাল ও পচা খাবার বিক্রির বিষয়টি নতুন কিছু নয়। চলতি রমজান মাসে অধিক মুনাফার লোভে সেই চক্রটি আরও বেপরোয়া ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একাধিক সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে তৎপর থাকলেও কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না এই ভেজাল খাদ্য। নিয়মিত মনিটরিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও মিলছে না সুফল।

সর্বশেষ, দুদিন আগে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার (সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড) পুষ্টি সয়াবিন তেলপ্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিক্রি না হওয়া, মেয়াদ উত্তীর্ণ তেল ফেরত এনে পাইপ লাইনে ঢুকিয়ে নতুন করে তেল তৈরি করায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‍্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (১০ মে) রাজধানীর সোয়ারীঘাটে মাছের আড়তে ভেজাল খাদ্যের অভিযানের পাশাপাশি বিক্রি নিষিদ্ধ ২১ টন জাটকা জব্দ করেছে র‍্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকা। যেটাও ব্যবসায়ীদের প্রতারণা।

আরও পড়ুন: 'ভেজাল খাদ্য বিক্রি করলে ঈদ কাটবে জেলে'

সরেজমিনে রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, নকল-ভেজালের বিরুদ্ধে বছরজুড়ে অভিযান চললেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। প্রতিদিন একাধিক সংস্থা বারবার একই ধরনের অপরাধ করা প্রতিষ্ঠান গুলোকে জরিমানা করছে। তবুও তারা খাদ্যে ভেজাল দিয়ে যাচ্ছে।

এত অভিযানেও যখন খাদ্যে ভেজাল দেওয়া রোধ হচ্ছে না তখন র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ সংশোধন করার দাবি জানিয়েছেন।

র‌্যাব প্রধান বলেন, ‘কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর জন্য বাজারে মূল্য বাড়ছে। এই অংশকে আমরা সার্জারি করে আলাদা করে দেব। এদেরকে অপারেশন করে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হবে। দরকার নেই এই অংশের।’

তিনি বলেন, ‘যারা খাদ্যে ভেজাল করে তারা খুনি। খুন করলে যদি ফাঁসি হয়, যে খাদ্যে ভেজাল মেশায় তারও ফাঁসি হতে হবে।’

আরও পড়ুন: ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ দোকানের জরিমানা

বাজারে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়াও প্রায় একই রকম। তারা বলছেন, লঘু সাজার কারণে নকল-ভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য কিছুতেই থামছে না। সারা দেশে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মানহীন পণ্য। এর ফলে আমরা (ক্রেতারা) যেমন প্রতারিত হচ্ছি, তেমনি হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য।’

দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকায় ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রমজান আসলে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে আমাদের নজরদারি বাড়াতে হয়। এই সময়ে অধিক মুনাফার লোভে অনেকে খাদ্যে ভেজাল করতে চান। আমরা চেষ্টা করে যাই নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ভেজাল মুক্ত খাদ্য পরিবেশ তৈরি করার। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতার বড় অভাব রয়েছে।’

এদিকে, রমজানের শুরু থেকেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। তবুও কোনো সুফল মিলছে না এই অভিযানে। অসাধু ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ভেজাল দিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: নিউমার্কেটে তিন দোকানকে জরিমানা

ভেজাল বিরোধী অভিযানের সুফল সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র সাঈদ খোকন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভেজাল বিরোধী অভিযানে আমরা জড়িতদের নিয়মিত জরিমানা করছি। এটাতে মনে হয় খুব একটা কাজে আসছে না। তাই ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতদের আমরা আর জরিমানা করব না। এবার জেলে পাঠাব। পাশাপাশি ভেজাল বন্ধ করতে নগরবাসীকেও সচেতন করব।’

আরও পড়ুন: মেয়র আসবেন তাই...

আপনার মতামত লিখুন :