পদ্মাসেতুর কথিত দুর্নীতি তদন্ত : কমিশন গঠনের অগ্রগতি প্রতিবেদন ১১ ফেব্রুয়ারি

সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
পদ্মাসেতু নির্মাণচুক্তি নিয়ে তোলা কথিত দুর্নীতির অভিযোগ, এর নেপথ্যের প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মিথ্যা মামলার কারণ উদঘাটনে কমিশন গঠনের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত সময় পেলো সরকার। সরকারপক্ষের আবেদনের পেরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক এবং বিচারতি মোহাম্মদউল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ এ তারিখ ধার্য করেন। এর মধ্যে পদ্মাসেতুর কথিত দুর্নীতি অভিযোগ তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। আদেশকালে সরকারপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি এটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ^াস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের  বলেন, কমিশনের তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে আদালত আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছর  ২০ মার্চ পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি এবং দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তোলার কারণ উদঘাটন এবং বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে সেতু নির্মাণ না হওয়ার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত কুশীলবদের  খুঁজে বের করতে  তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে  কমিশন গঠনের পর গত বছর ৭ মে  অগ্রগতি প্রতিবেদন  দাখিলের নির্দেশ দেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু নির্মাণচুক্তি নিয়ে তোলা দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ এবং প্রকৃত  ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কেন তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না- মর্মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে  জড়িতদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও যোগাযোগ সচিব এবং দুদকের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী  কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে তা ৩০ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে একটি জাতীয় দৈনিক। প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালত আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলের রুল শুনানির ধারাবাহিকতায় ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।  চলতি বছর ২ আগস্ট পর্যন্ত কোনো তদন্ত  কমিশন গঠন না হওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ নভেম্বর তদন্ত  কমিশনের সদস্য হিসেবে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের নাম প্রস্তাব করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বর্তমান পর্যায়ে সরকারপক্ষ তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের সময় চেয়ে আবেদন জানালে  হাইকোর্ট আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি  পর্যন্ত সময় অনুমোদন করেন।

আপনার মতামত লিখুন :