Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মধুমাসের রসাল ফল খুলনার বাজারে

মধুমাসের রসাল ফল খুলনার বাজারে
খুলনার বাজারে এসেছে রসে ভরা নানা প্রজাতির ফল। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
খুলনা


  • Font increase
  • Font Decrease

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই খুলনার বাজারে এসেছে রসে ভরা নানা প্রজাতির ফল। আম, লিচু, তরমুজ, বাঙ্গি, সফেদা, কাঁঠাল, জামরুল, নাশপাতি, আনারসসহ রসাল নানা ফলের পসরা নিয়ে বসেছে ফল বিক্রেতারা। তবে চাহিদা অনুযায়ী ফল সরবরাহ না হওয়ায় এসব দেশি ফলের দাম বেশ চড়া।

বুধবার (১৫ মে) সরেজমিনে খুলনা নগরী ঘুরে দেখা যায়, জ্যৈষ্ঠের শুরুতে দেশীয় ফলের আগমনে ফলের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা বেড়েছে আড়ত ও বাজারগুলোতে। আম, লিচু, কাঁঠাল, বাঙ্গি, আনারস, জামরুল, সফেদাসহ মৌসুমী ফলের বিপুল সমারোহ দেখা দিয়েছে বাজারে। আশপাশের অঞ্চল থেকে মধুমাসের বিভিন্ন রসাল ফল আসতে শুরু করেছে আড়তে।

আবার আড়ত থেকে খুচরা বিক্রেতারা ফল কিনে নিয়ে বিভিন্ন বাজারের দিকে ছুটছে। তবে ফলের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে থাকায় ক্রেতারা অনেকে শূন্য হাতে ফিরছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557927578639.jpg

ফল বিক্রেতারা জানায়, রমজানে ফলের চাহিদা থাকে প্রচুর। এছাড়া তীব্র গরমেও নগরবাসী ফলের দিকে ঝুঁকে। কিন্তু ফলের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অনেক কম। তাই দাম একটু বেশি।

নগরীর হেলাতলার ফল বিক্রেতা আব্দুল মুন্সি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি দিনাজপুরের আম আর লিচু বিক্রি করছি। আমের কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, আর ১০০ লিচু ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা। বাজারে কাস্টমার অনেক, কিন্তু বিক্রি কম। দাম একটু বেশি হওয়ায় না কিনেই চলে যাচ্ছে ক্রেতারা। তবে রাজশাহীর ফল আসলে দাম কমতে পারে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557927604854.jpg

ফল কিনতে আসা চাকরিজীবী সোহেলুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ফলের বাজারে এসে দাম শুনে ভয় পেলাম। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটা ফলের দাম বেড়েছে। তাছাড়া রমজান এলেই লাগামহীন হয়ে যায় সবকিছুর দাম।’

খুলনা ফল আমদানিকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো খুলনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেশি ফল আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফল আসেনি। রাজশাহীর ফল আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এখন মূলত সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফল আসছে।

তিনি আরও জানান, খুলনায় আড়তের সংখ্যা ৬০ এর মতো। এখন আড়তে গোবিন্দ ভোগ, হিমসাগর, গোপাল ভোগ, গ্রেট বোম্বাই আম আসছে। প্রতিবছরের মতো এবারো খুলনার ফলের বাজার ফরমালিনমুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের কবরের পাশে জায়গা চাইলেন রওশন

এরশাদের কবরের পাশে জায়গা চাইলেন রওশন
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদ

রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফনের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। একই সঙ্গে রংপুরের পল্লী নিবাসে স্বামী এরশাদের কবরের পাশে নিজের কবরের জন্য জায়গাও চেয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক বিবৃতি এ ইচ্ছের কথা জানান সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ।

এরশাদের দাফন প্রশ্নে রংপুরবাসীর আবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি রংপুরে দাফনের অনুমতি দেন। তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তার সম্মতির কথা জানান।

বিবৃতিতে রওশন বলেন, তার মৃত্যুতে আপনারা যে অভাবনীয় শ্রদ্ধা সম্মান ও সহানুভুতি প্রকাশ করেছেন। তার জন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। প্রিয় দেশবাসী, বিশেষত তার প্রাণপ্রিয় রংপুবাসীর আবেগ ও ভালোবাসায় সম্মানার্থে তাকে রংপুরের মাটিতে সমাধিস্থ করার বিষয়ে আমি,ও আমার পরিবার সম্মতি প্রদান করছি। সেই সঙ্গে পল্লী নিবাসে এরশাদের কবরের পাশে নিজের জন্য জায়গা চাইছি।

 

খুলনায় গণধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যা, ৫ আসামির ফাঁসি

খুলনায় গণধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যা, ৫ আসামির ফাঁসি
এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তার বৃদ্ধ বাবা, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষনের পর তার বাবা ইলিয়াছ আলীকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে খুলনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ মহিদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে এ মামলাটি পরিচালনা করছেন স্পেশাল পিপি এড. ফরিদ আহমেদ। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তার জন্য ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে এড. কাজী সাব্বির আহমেদ, এড. মোমিনুল ইসলাম, এড. তসলিমা খাতুন, এড. কুদরত ই খুদা।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগা রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০), তার ভাই মো. শরিফুল (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাইদ (২৫) ও মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)। এদের মধ্যে শরিফুল ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563268750618.JPG
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টফোর.কম

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২২ জন ও গণধর্ষনের মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালে মামলাটির যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুরু হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন গ্রেফতার হয়।

এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় পিটিলের স্ত্রী আসমা খাতুন, নোয়াব আলি গাজী ও আসলাম মিস্ত্রি নামের একজন সন্দেহভাজনকে। তাদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে বলে, ‘ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন অফিসে আসা-যাওয়ার পথে আসামিরা কু-প্রস্তাবসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি করতেন। এর প্রতিবাদ করায় ঘটনার দিন রাতে বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ৫ আসামি। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীনের বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পাশের রুমে থাকা পারভীনকে ৫ জন মিলে গণধর্ষণের পর হত্যা করে সেফটি ট্যাংকির মধ্যে বাবা ও মেয়ের মরদেহ ফেলে দেয়। পরে ঘরে লুটতরাজ চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563268830192.JPG
আসামিদের কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে উত্যক্ত করতেন এলাকার কয়েকজন বখাটে সন্ত্রাসী। তাদের উত্যক্তের প্রতিবাদের কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষনসহ হত্যা ও তার পিতা ইলিয়াস চৌধুরীকেসহ হত্যা করা হয়। নগরীর লবণচরা থানাধিন ব্যুরো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩নং গলির ঢাকাইয়া হাউজ এ.পি ভিলা নামের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নৃশংস এ খুনের ঘটনা ঘটে। বাবা- ও মেয়েকে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে সেফটি ট্যাংকির মধ্যে লাশ ফেলে দেয় খুনিরা। পরে তারা ওই ঘরের টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় লবনচরা থানায় পারভীন সুলতানার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব বাদী হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন। পারভীন সুলতানাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর আরও মামলা দায়ের হয়। ২০১৬ সালের ৯ মে হত্যাকাণ্ডের ও একই বছরের ২৪ মার্চ গনধর্ষণের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোঃ কাজী বাবুল ওই ৫ জনকে অভিযুক্ত করে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র