Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ঋণের বোঝা বেড়ে গেল: কাদের

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ঋণের বোঝা বেড়ে গেল: কাদের
সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন কাদের, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মমতাময়ী মা’ সম্বোধন করে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল।’

দীর্ঘ দুই মাস ১০ দিন সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা শেষে বুধবার (১৫ মে) বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গত ৩ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সিঙ্গাপুর যাওয়া থেকে চিকিৎসাসহ সব কিছুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে তদারকি করেন। কাদের অসুস্থ হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন ভর্তি হন সেদিনও প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্দেশ দেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557933628448.jpg

সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এরকম সংকটে মধ্যে মা তার সন্তানের জন্যে যা করেন, আমাদের নেত্রী তাই করেছেন। তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একজন মমতাময়ী মা, তিনি সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল। বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা কোরআন শরীফ পড়ে আমার জন্য দোয়া করেছেন। তার কাছেও আমার কৃতজ্ঞতা।’

কাদের বলেন,  ‘শুনেছি, আমার মতো মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে শেখ হাসিনা নাম ধরে ডেকেছিলেন। পরে শুনেছি শুধু তার ডাকে চোখ খুলে দেখেছি।’

কাদের আরও বলেন, ‘সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা। জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার মতো। এই শিক্ষা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি এই শিক্ষাও পেয়েছি, একজন রাজনীতিকের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা। বড় সম্পদ হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা। কিছুটা হলেও এই শিক্ষা নিয়ে কাজ দিয়ে ভালোবাসা অর্জন করতে পেয়েছি।’

দলের বাইরে অন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পার্টির বাইরেও অন্য দলের নেতৃবৃন্দ আমাকে দেখতে এসেছেন, দোয়া করেছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার অনুপস্থিতে দলের নেতাকর্মীরা যে টিম ওয়ার্ক করে দলের কাজ করেছেন। দলকে এগিয়ে নিতে তারা সবাই একযোগে কাজ করেছেন, দলকে এগিয়ে নিয়েছেন- এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

এদিকে দলের নেতা সুস্থ হয়ে ফিরে আসায় তাকে অভ্যর্থনা জানান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওবায়দুল কাদের এ সময় বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। 

বিমানবন্দরের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক; সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী; বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান সম্পাদক আব্দুস সবুর, সদস্য মারুফা আক্তার পপিসহ আরও অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :

শাহজালালে পায়ুপথে ১ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

শাহজালালে পায়ুপথে ১ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২
আটককৃত দুইজন, ছবি: সংগৃহীত

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারীসসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুল (২৮) ও মোছা. মুন্নি (২৭)।

রোববার (২১ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) আলমগীর হোসেন।

আলমগীর হোসেন বলেন, 'সাড়ে ৫ টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বহিরাঙ্গন থেকে আটক করা হয় সাইফুলকে। সে সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। পরবর্তীতে সেখানে আসে মোছা. মুন্নি। তাদের সঙ্গে কথা বললে পুলিশ সদস্যদের বিভ্রান্তিকর ও সন্দেহজনক তথ্য দেয়।'

তিনি বলেন, 'পরবর্তীতে দুজনকে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তার কাছে ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে দেহ তল্লাশি করে সাইফুলের পায়ুপথ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মুন্নির কাছ থেকে ৯৬ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়।'

জিজ্ঞাসাবাদে মুন্নি মাদক কেনার জন্য এই টাকা এনেছিল বলে স্বীকার করে। আটককৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

৪৫ হাজার প্লেনের টিকিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে!

৪৫ হাজার প্লেনের টিকিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে!
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ছবি: সংগৃহীত

সর্ষে ভেতর ভুত-এর মতো কাণ্ড ঘটিয়েছে বিমান বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের পকেটে পুরেছে ৪৫ হাজার প্লেনের টিকিট। এই টিকিটের কোনটি শতভাগ কনসেশনে নেয়া আবার কোনটি ৯০ ভাগ কনসেশনে। গত ১০ বছরের এভাবে ৪৫ হাজার টিকিট নিজেদের পকেটে পুরেছেন বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসব টিকিটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও রয়েছে। যে কারণে বিমান প্রতি বছরই লোকসানের বিত্তের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উপস্থাপিত কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার (২১ জুলাই) সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত কার্য বিবরণী উপস্থাপন করা হয়।

উত্থাপিত কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বিমানের অর্থ পরিদপ্তর, উচ্চ পদস্থ থেকে কনিষ্ঠ কর্মকর্তা সবাই এ সুবিধা নিয়েছেন। একই ভাবে প্রকিউরমেন্ট এন্ড লজিস্টিক সাপোর্ট পরিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী-পরিজনদের নামেও নিয়েছেন একাধিক টিকিট। তিনি এবং তার পরিবার মিলে একাই সুবিধা নিয়েছেন ১০ বছরে ৪৬ টিকিট। এর কোনটিতে শতভাগ কমিশন, কোনটিতে ৯০ ভাগ। একই ভাবে, প্রকিউরমেন্ট এবং লজিস্টিক শাখার উপ-ব্যবস্থাপকও কম যাননি। তিনি এবং তার পরিবারের নামে নিয়েছেন ১১ টি টিকিট।  আর ওই বিভাগের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো সরোয়ার হোসেন নিয়েছেন ১৩ টি টিকিট। এসব টিকিটের কোনটি শতভাগ কমিশন সুবিধা নিয়েছেন।

সিনিয়র সাইন রাইটার মোহাম্মদ মহসীন নিয়েছেন ২২টি টিকিট। নিজ, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে এ তালিকায়। সব টিকিট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার। সহব্যবস্থাপক প্রকিউরমেন্ট স্বপন কুমার দে তিনি অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে নিজে এবং পরিবার-পরিজনের নামে কমিশনে টিকিট নিয়েছেন ৬৮ টি। তার প্রতিটি টিকিট কমিশনের পরিমাণ শতভাগ।

সহব্যবস্থাপক মোঃ নুরুজ্জামান ১২ টি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোকসানা আক্তার ১৮ টি, প্রশাসনিক সহকারী দিলরুবা আফরোজা  নিজ, স্বামী, ছেলে-মেয়ে এবং পিতা-মাতার নামে নিয়েছেন ২৬ টি ওয়ানওয়ে টিকিট। আবুল হাসেম ১৭ টি, একেএম শাহফুজুর রহমান ১৪ টি, মানিকুর রহমান ২ টি, লামিয়া শারমিন একাই নিয়েছেন ৫০ টি। নিজাম উদ্দিন ৮ টি, ফকির আবদুল হালিম ৮ টি, আবদুল খালেক ১৪ টি, আলমগীর কবির ১৮ টি, আবু তালেব ১৭ টি, গোলাম রসুল ১ টি, ইষ্টার হালদার ২২ টি, সাইফ উদ্দিন ১৬ টি, আবদুর রশীফ ১৩ টি, ফরহাদুর রেজা ১৮ টি, মাছুদুল আলম খান ৬ টি, শরীফুল ইসলাম ১৩ টি, শরিফ হাসান ১৩ টি, হাবিবা মির্জা ২০ টি, নেছার আলী গাজী ৪৬ টি, জাহাঙ্গীর আলম তোকদার ২০ টি, রবিউল ইসলাম ২০ টি, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ৪ টি এবং মতিউর রহমান ৪ টি। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিক পরিদপ্তরের কর্মরত ছিলেন।

প্রশাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কেউ নিয়েছেন একাই ২৯ টি টিকিট, কেউ ২০ টি,  কেউ ১৮ টি। এর মধ্যে মো আল মাসুদ খান ও কামাল হোসেন ১৮ টি করে টিকিটি নিয়েছেন। ফখরুল আলম চৌধুরী নিয়েছেন ২৯ টি। যার প্রত্যেকটি টিকিটে কমিশন ধরা হয়েছে ৯৫ শতাংশ।  এ শাখার ৪২ জন কর্মকর্তার সবাই ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কমিশন নিয়েছেন টিকিট প্রতি। আন্তর্জাতিক পরিভ্রমণে এ জেড এম আরিফ সহকারি ব্যবস্থাপক ও সংগঠন ও পদ্ধতি এ কর্মকর্তা ভারত সফরে ২০১২ ও ১৪ সালেই ২টি টিকিট নিয়েছেন। প্রতিটিতে ৯০ শতাংশ কমিশন নেন।  আইটি ডিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোস্তাক হোসেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রুটে নিজ পরিবারের নামে ৩৩ টি টিকিট নিয়েছেন। প্রতিটি টিকিটে কমিশন ৮৫-৯০ শতাংশ।

আর আরিফুল হাসান সাধন  (সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট) নিয়েছেন ৮৭ টি টিকিট। সব নিজ ছেলে-মেয়ে এবং পিতা-মাতাসহ আত্মীয় পরিজনের নামে। তিনিও ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কমিশন নিয়েছেন প্রতিটি টিকেটের জন্য। তার পুরো পরিবার গত ১০ বছরে দেশের ভিতরে বিমানে ছাড়া অন্যকোনো যানবাহন ব্যবহার করেনি। নার্গিস আক্তার নিয়েছেন ৪৩টি টিকিট। সব টিকিটে পরিবার পরিজনের সুবিধা নিয়েছেন। এখানেও কমিশন পেয়েছেন ৮৫-থেকে ১০০ ভাগ।

এভাবে গত ১০ বছরে বিমানে কর্মকর্তা সব বিভাগ কমিশনে টিকিট গ্রহণ করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কয়েকশ কোটি টাকা। আগামীতে এসব কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করতে বিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়য়ে সুপারিশ জানিয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, কি হয়েছে সেটা আমরা বলতে পারব না। আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাছাড়া কে কিভাবে নিয়েছে সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র