Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শুক্রবার থেকে আবারও বাড়বে তাপমাত্রা

শুক্রবার থেকে আবারও বাড়বে তাপমাত্রা
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে পানি পান করছেন এক শ্রমিক / পুরনো ছবি
শাদরুল আবেদীন নিউজরুম এডিটর বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার (১৩ মে) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়। মঙ্গলবারও ছিল এর প্রভাব। কিছুটা তাপমাত্রাও কমে। এর ফলে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতের পরবর্তী সময় থেকে তীব্র দাবদাহের পর জনজীবনে ফিরে স্বস্তি। এছাড়া রমজান মাস হওয়ায় রোজাদারদের মধ্যেও কিছুটা ফিরে প্রশান্তি।

তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাজধানীসহ দেশের কয়েক জায়গায় বৃষ্টি শেষে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে তাপমাত্রা। ৩৪ ডিগ্রি থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত এ তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রোদের প্রখরতাও বাড়বে। আবারও দাবদাহে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। রোজাদারদের মধ্যেও পড়বে এর প্রভাব।

বুধবার (১৫ মে) সকালে রাজধানীতে রোদের তাপ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের ফাঁকে ফাঁকে মেঘও চোখে পড়ে। ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রোববার থেকে রংপুর বিভাগে বৃাষ্টি হয়। সোমবার রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, খুলনা বিভাগে বৃষ্টি হয়। এরপর মঙ্গলবার দু-একটি জেলা ছাড়া দেশের সব বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। আজও বেশ কয়েকটি স্থানে হচ্ছে। তবে ঢাকায় রাতের দিকে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কালকেও (বৃহস্পতিবার) বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার থেকে তাপমাত্রা আবারও বৃদ্ধি পাবে। এ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। তবে সপ্তাহ দুইয়ের মধ্রে আবারও বৃষ্টি দেখা মিলতে পারে। আর এখন গ্রীষ্মকাল হওয়ায় দেশে গরম বিরাজমান থাকবে।’

বুধবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঢাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব থেকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া বাতাস বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুলনা ও পটুয়াখালীতে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপামাত্রা রংপুরে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনায় ৩৬ দশমিক 8 ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ডিমলায় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ১৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারের তাপমাত্রা ছিল ৩৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নদীবন্দরের সর্তক বর্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি, স্বস্তিতে রাজধানীবাসী

আরও পড়ুন: রাজধানীতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি

আপনার মতামত লিখুন :

শাহজালালে পায়ুপথে ১ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

শাহজালালে পায়ুপথে ১ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২
আটককৃত দুইজন, ছবি: সংগৃহীত

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারীসসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সাইফুল (২৮) ও মোছা. মুন্নি (২৭)।

রোববার (২১ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) আলমগীর হোসেন।

আলমগীর হোসেন বলেন, 'সাড়ে ৫ টার দিকে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের বহিরাঙ্গন থেকে আটক করা হয় সাইফুলকে। সে সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। পরবর্তীতে সেখানে আসে মোছা. মুন্নি। তাদের সঙ্গে কথা বললে পুলিশ সদস্যদের বিভ্রান্তিকর ও সন্দেহজনক তথ্য দেয়।'

তিনি বলেন, 'পরবর্তীতে দুজনকে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তার কাছে ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে দেহ তল্লাশি করে সাইফুলের পায়ুপথ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মুন্নির কাছ থেকে ৯৬ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়।'

জিজ্ঞাসাবাদে মুন্নি মাদক কেনার জন্য এই টাকা এনেছিল বলে স্বীকার করে। আটককৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

৪৫ হাজার প্লেনের টিকিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে!

৪৫ হাজার প্লেনের টিকিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পকেটে!
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ছবি: সংগৃহীত

সর্ষে ভেতর ভুত-এর মতো কাণ্ড ঘটিয়েছে বিমান বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের পকেটে পুরেছে ৪৫ হাজার প্লেনের টিকিট। এই টিকিটের কোনটি শতভাগ কনসেশনে নেয়া আবার কোনটি ৯০ ভাগ কনসেশনে। গত ১০ বছরের এভাবে ৪৫ হাজার টিকিট নিজেদের পকেটে পুরেছেন বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসব টিকিটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও রয়েছে। যে কারণে বিমান প্রতি বছরই লোকসানের বিত্তের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উপস্থাপিত কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার (২১ জুলাই) সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত কার্য বিবরণী উপস্থাপন করা হয়।

উত্থাপিত কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বিমানের অর্থ পরিদপ্তর, উচ্চ পদস্থ থেকে কনিষ্ঠ কর্মকর্তা সবাই এ সুবিধা নিয়েছেন। একই ভাবে প্রকিউরমেন্ট এন্ড লজিস্টিক সাপোর্ট পরিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামের পাশাপাশি স্ত্রী-পরিজনদের নামেও নিয়েছেন একাধিক টিকিট। তিনি এবং তার পরিবার মিলে একাই সুবিধা নিয়েছেন ১০ বছরে ৪৬ টিকিট। এর কোনটিতে শতভাগ কমিশন, কোনটিতে ৯০ ভাগ। একই ভাবে, প্রকিউরমেন্ট এবং লজিস্টিক শাখার উপ-ব্যবস্থাপকও কম যাননি। তিনি এবং তার পরিবারের নামে নিয়েছেন ১১ টি টিকিট।  আর ওই বিভাগের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো সরোয়ার হোসেন নিয়েছেন ১৩ টি টিকিট। এসব টিকিটের কোনটি শতভাগ কমিশন সুবিধা নিয়েছেন।

সিনিয়র সাইন রাইটার মোহাম্মদ মহসীন নিয়েছেন ২২টি টিকিট। নিজ, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে এ তালিকায়। সব টিকিট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার। সহব্যবস্থাপক প্রকিউরমেন্ট স্বপন কুমার দে তিনি অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে নিজে এবং পরিবার-পরিজনের নামে কমিশনে টিকিট নিয়েছেন ৬৮ টি। তার প্রতিটি টিকিট কমিশনের পরিমাণ শতভাগ।

সহব্যবস্থাপক মোঃ নুরুজ্জামান ১২ টি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোকসানা আক্তার ১৮ টি, প্রশাসনিক সহকারী দিলরুবা আফরোজা  নিজ, স্বামী, ছেলে-মেয়ে এবং পিতা-মাতার নামে নিয়েছেন ২৬ টি ওয়ানওয়ে টিকিট। আবুল হাসেম ১৭ টি, একেএম শাহফুজুর রহমান ১৪ টি, মানিকুর রহমান ২ টি, লামিয়া শারমিন একাই নিয়েছেন ৫০ টি। নিজাম উদ্দিন ৮ টি, ফকির আবদুল হালিম ৮ টি, আবদুল খালেক ১৪ টি, আলমগীর কবির ১৮ টি, আবু তালেব ১৭ টি, গোলাম রসুল ১ টি, ইষ্টার হালদার ২২ টি, সাইফ উদ্দিন ১৬ টি, আবদুর রশীফ ১৩ টি, ফরহাদুর রেজা ১৮ টি, মাছুদুল আলম খান ৬ টি, শরীফুল ইসলাম ১৩ টি, শরিফ হাসান ১৩ টি, হাবিবা মির্জা ২০ টি, নেছার আলী গাজী ৪৬ টি, জাহাঙ্গীর আলম তোকদার ২০ টি, রবিউল ইসলাম ২০ টি, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ৪ টি এবং মতিউর রহমান ৪ টি। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিক পরিদপ্তরের কর্মরত ছিলেন।

প্রশাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কেউ নিয়েছেন একাই ২৯ টি টিকিট, কেউ ২০ টি,  কেউ ১৮ টি। এর মধ্যে মো আল মাসুদ খান ও কামাল হোসেন ১৮ টি করে টিকিটি নিয়েছেন। ফখরুল আলম চৌধুরী নিয়েছেন ২৯ টি। যার প্রত্যেকটি টিকিটে কমিশন ধরা হয়েছে ৯৫ শতাংশ।  এ শাখার ৪২ জন কর্মকর্তার সবাই ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কমিশন নিয়েছেন টিকিট প্রতি। আন্তর্জাতিক পরিভ্রমণে এ জেড এম আরিফ সহকারি ব্যবস্থাপক ও সংগঠন ও পদ্ধতি এ কর্মকর্তা ভারত সফরে ২০১২ ও ১৪ সালেই ২টি টিকিট নিয়েছেন। প্রতিটিতে ৯০ শতাংশ কমিশন নেন।  আইটি ডিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোস্তাক হোসেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রুটে নিজ পরিবারের নামে ৩৩ টি টিকিট নিয়েছেন। প্রতিটি টিকিটে কমিশন ৮৫-৯০ শতাংশ।

আর আরিফুল হাসান সাধন  (সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট) নিয়েছেন ৮৭ টি টিকিট। সব নিজ ছেলে-মেয়ে এবং পিতা-মাতাসহ আত্মীয় পরিজনের নামে। তিনিও ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কমিশন নিয়েছেন প্রতিটি টিকেটের জন্য। তার পুরো পরিবার গত ১০ বছরে দেশের ভিতরে বিমানে ছাড়া অন্যকোনো যানবাহন ব্যবহার করেনি। নার্গিস আক্তার নিয়েছেন ৪৩টি টিকিট। সব টিকিটে পরিবার পরিজনের সুবিধা নিয়েছেন। এখানেও কমিশন পেয়েছেন ৮৫-থেকে ১০০ ভাগ।

এভাবে গত ১০ বছরে বিমানে কর্মকর্তা সব বিভাগ কমিশনে টিকিট গ্রহণ করেছেন। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে কয়েকশ কোটি টাকা। আগামীতে এসব কমিশন বাণিজ্য বন্ধ করতে বিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয়য়ে সুপারিশ জানিয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, কি হয়েছে সেটা আমরা বলতে পারব না। আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাছাড়া কে কিভাবে নিয়েছে সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র