Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজশাহীর আম উঠেনি, লিচুর দখলে বাজার

রাজশাহীর আম উঠেনি, লিচুর দখলে বাজার
আমের রাজ্য খ্যাত রাজশাহীতে আম এখনো বাজারে না উঠলেও বাজার লিচু ব্যবসায়ীদের দখলে/ ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

মধুমাস জৈষ্ঠ্যের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৬ মে)। চারিদিকে নানা ফলের সমাহার। বাজারে জমে উঠছে ফলের বিকিকিনি। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে এই মাসে শুরু হয় ‘ফল উৎসব’। মধুমাস শেষেও চলে এই উৎসবের রেশ।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় আম। জৈষ্ঠ্য মাস শুরুর আগেই আম ব্যবসায়ীরা বাজার দখলে নেন। তবে গেল তিন বছর ধরে প্রশাসন আম পাড়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। চাইলেও কেউ বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে আম বাজারে আনতে পারছেন না। ফলে মধুমাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজশাহীর বাজারে উঠছে আম।

চলতি বছরও সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় এখনও বাজারে তেমন আম চোখে পড়েনি। কেউ কেউ সাতক্ষীরার গোপালভোগ বলে কিছু আম বিক্রি করছেন। যা খেতে টক। বুধবার (১৫ মে) থেকে রাজশাহীর দেশি জাতের ‘গুটি’ আম পাড়া শুরু হলেও এখনো তা পাকিয়ে বাজারে আনতে পারেনি চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558004998670.jpg

তবে মধুমাসের শুরুতেই বাজার দখলে নিয়েছে লিচু ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীতে আবাদকৃত বারি-১ লিচু এখন শহরের অলি-গলিতেও বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গেলেই চোখে পড়ছে লিচু বিক্রেতাদের দাম হাঁকা ও ক্রেতাদের দর কষাকষির দৃশ্য।

বিক্রেতারা বলছেন, বৈশাখ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে লিচু পাড়া শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিকে বিক্রি হওয়া লিচু অনেকটা অপরিপক্ক ছিল। রমজানে ভালো দামের আশায় অনেকে লিচু পেড়েছিল। তা ক্রেতা টানতে পারেনি।

গত দুই থেকে তিন দিন ধরে পুরোদমে লিচু পাড়া শুরু হয়েছে। এখন লোভনীয় এই ফলটি বেশ পরিপক্কও হয়েছে। তবুও বাজারে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ চাষি, ইজারাদার ও বিক্রেতাদের।

রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট, আরডিএ মার্কেটের সামনে, সোনাদিঘী মোড়, নিউমার্কেট, শিরোইল বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন চত্বর, বিনোদপুর, কোর্টবাজার, হড়গ্রাম, রেলগেট, লক্ষ্মীপুর মোড়সহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্রি হচ্ছে লিচু।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি একশ লিচুর দাম হাঁকা হচ্ছে ২২০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। তবে ভালো রঙ এবং সাইজে বড় লিচু পেতে প্রতি শতে ৩৫০ টাকা গুণতে হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558005129618.jpg

কাদিরগঞ্জ এলাকার লিচু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে গত দুই দিন ধরে লিচু নিয়ে বসছেন। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘বাজারে অন্যরা যে লিচু বেঁচছে, তার চেয়ে আমার লিচু বেশ বড়। আমি ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করছি না।’

সোনাদিঘী মোড়ে ভ্যানে লিচু বিক্রি করা মাজেদুর রহমান বলেন, ‘এ বছর আবহাওয়ার কারণে লিচু কিছুটা ছোট হয়েছে। দেশি জাতের লিচু হালকা টক থাকে। কিন্তু এবার একটু বেশিই। রোজা রেখে কেউ টক লিচু খেতে চাইছেন না। ফলে লিজের টাকা তোলা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।’

রবিউল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমার বাড়ি নোয়াখালি। রাজশাহীতে বিশেষ কাজে এসেছিলাম। বিকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা দেব। বাড়ি থেকে মেয়ে রাজশাহীর লিচু নিয়ে যেতে বলেছে। সোনাদিঘীর মোড় থেকে ২২৫ টাকা দরে দুইশ লিচু কিনেছি।’

আয়েশা সিদ্দিকা নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘চাকরির সুবাদে ছয় বছর রাজশাহীতে আছি। লিচুর সময়ে প্রতিদিন অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে অন্তত একশ লিচু কিনেই ফেরা হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/16/1558005108210.jpg

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে এখন যে লিচু পাওয়া যাচ্ছে, সেটা বারি-১ জাতের লিচু। আগামী ২০ মে এর পর থেকে যদি এই লিচু পাড়া হতো, তবে টক লাগতো না।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বোম্বে লিচু বলে পরিচিত উন্নত জাতের লিচু উঠবে। যদি এর মাঝে একবার বৃষ্টি হয়, তবে ঐ লিচু খেতে খুবই সুস্বাদু হবে।’

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ দফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, চলতি বছর রাজশাহীতে ৪৯০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। জেলার বাঘা উপজেলার পদ্মার চর, মোহনপুর, চারঘাট, পুঠিয়ায় বেশি লিচু চাষ করা হয়। তবে কেউ কেউ বসতবাড়িতেও অল্প সংখ্যক লিচু গাছ লাগিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ ক্রমেই লিচু চাষে ঝুঁকছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা
আতাউর রহমান আতা, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আতা। ২০০১ সালে নাট্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছিলেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আতাউর রহমানকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে আতাউর রহমানের জন্ম। স্কুলজীবনেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আতাউর রহমান প্রথম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭২ সালে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এর মাধ্যমে তার নাট্য নির্দেশনা শুরু। পরে নিজের দল ও অন্য দলের হয়ে অসংখ্য নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মঞ্চ নাটকের নির্দেশনার পাশাপাশি আতাউর রহমান অভিনয়ও করছেন সমানতালে। এ ছাড়া নাট্য বিষয়ক বই, নাট্যসমালোচনা, উপস্থাপনা, শিক্ষকতা, টেলিভিশন নাট্যকার, প্রবন্ধকার, বক্তা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে আতাউর রহমানের সরব পদচারণা।

বরিশালে কমছে ডেঙ্গু রোগী

বরিশালে কমছে ডেঙ্গু রোগী
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্তরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরিশালে কমতে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও কমছে রোগী ভর্তির সংখ্যা। ঈদুল আজহা ঘিরে এ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তুলনামূলক বাড়েনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ৩৭ জন ‍পুরুষ, ১৫ জন মহিলা ও ৯ জন শিশু। সব মিলিয়ে বর্তমানে শেবাচিমে ২৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার মধ্যে ১৪৬ জন পুরুষ, ৫৬ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু রয়েছে।

বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন শেবাচিম পরিচালক ডাক্তার মোঃ বাকির হোসেন।

এ সময় তিনি জানান, গত তিন থেকে চার দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শেবাচিম হাসপাতালে তুলনামূলক কম ভর্তি হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশাবাদী ঐ পরিচালক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566039735609.gif

শেবাচিমে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুক্রবারের ৫০ জন, বৃহস্পতিবার ৬৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল। এর আগে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ জন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতো।

এদিকে শনিবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী। শুক্রবার সকালের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৯১ জন ও বৃহস্পতিবার ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

ঈদের পরে ১৪ আগস্ট হাসপাতালে ৩৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। ১৫ আগস্ট ছিল ২৯৯ এবং ১৬ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৫৮ জনে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত এক মাসে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত এক হাজার ১৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯১২ জন। আর মৃত্যু হয়েছে শিশুসহ চার জন রোগীর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র