কারওয়ান বাজারের তিন প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কারওয়ান বাজারের একটি গুদামে হলুদে ম্যাজিস্ট্রেট হাত দিলে এভাবেই রং লেগে যায়, ছবি: বার্তা২৪

কারওয়ান বাজারের একটি গুদামে হলুদে ম্যাজিস্ট্রেট হাত দিলে এভাবেই রং লেগে যায়, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রং মেশানো হলুদ বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন র‍্যাব-২ ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বাজারের হাসিনা মার্কেটে র‍্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের সামনে হলুদকে চাকচিক্য করে তুলতে মেশানো হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হলুদ রং। অভিযানের সময় র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম এসব হলুদে হাত দিয়ে কৃত্রিম রং তার হাতে লেগে যায়। পরে তিনি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে দেখেন এগুলো হলুদের প্রাকৃতিক রং নয় ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল রং।

এ সময় রং মেশানো হলুদের গুদাম মেসার্স করিম এন্টারপ্রাইজের মালিককে র‍্যাব সদস্যদের অনেকবার খোঁজাখুঁজি করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গুদামটিকে সিলগালা করা হয় এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সময় মসলার আরও চারটি গুদামকে নষ্ট হয়ে যাওয়া হলুদ ও মরিচ রাখার দায়ে সিলগালা করা হয়।

কারওয়ান বাজারের তিন প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

এ বিষয়ে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যামিকেল রং এই গুদামের হলুদগুলোতে মেশানো হয়েছিল। যা মানব শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই পাঁচটি গুদামকে সিলগালা করা হয়েছে। আর এদের মধ্যে একটি গুদামকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব গুদামের মালিকরা অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হলুদের গুদামে অভিযান শেষ করে র‍্যাব-৩ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয় হাসিনা মার্কেটে খাবারের দু’টি হোটেলের বিরুদ্ধে।

কারওয়ান বাজারের তিন প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড

স্বপ্নীল রেস্তোরাঁ-২ ও জনপ্রিয় খাবারের হোটেলের রান্না একই জায়গায় হয়। এই দুই খাবারের হোটেলের রান্না ঘরের দেখা যায় অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল। রান্না ঘরটির চারিদকে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। এছাড়া খাবার রাখার ফ্রিজগুলো ছিল নষ্ট আর ভেতরে পচা বাসি খাবারের পরিপূর্ণ। হোটেল দুইটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সাজানো-গোছানো হলেও জঘন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করে গ্রাহকদের পরিবেশন করতেন। আর এসব অপরাধের দায় হোটেল দুইটিকে দুই লাখ টাকা করে চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন র‍্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ বিষয়ে সারওয়ার আলম বলেন, তারা অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির করে ক্রেতাদের পরিবেশন করে আসছে। এছাড়া তাদের খাবার রাখার ফ্রিজগুলোতে পচা খাবারের পরিপূর্ণ ছিল। তাই আদালত বয়িসে এই দুই হোটেলকে দুই লাখ করে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া র‍্যাব-২ নির্দেশ দেওয়া তাদের ওপর নজরদারি রাখতে৷ এর পরেও যদি এমন অবস্থা পাওয়া যায় তাহলে হোটলে দুইটিকে সিলগালা করা হবে এবং মালিককে জেলে যেতে হবে।