Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘পুরান ঢাকাকে সিঙ্গাপুরের আদলে সাজাতে চাই’

‘পুরান ঢাকাকে সিঙ্গাপুরের আদলে সাজাতে চাই’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন / ছবি / বার্তা২৪
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পুরান ঢাকাকে নতুন রূপে নতুনভাবে সাজাতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

তিনি বলেছেন, ‘পুরান ঢাকা রি-ডেভলপমেন্ট করতে চাই। সিঙ্গাপুর, টোকিও শহরও আমাদের পুরান ঢাকারমত ছিল। সেই শহর যেভাবে পরিকল্পনা করে সাজিয়েছে আমরাও সেই মানের উন্নত শহর করতে চাই। পুরান ঢাকাকে নিয়ে নতুন গল্প নতুন করে লিখতে চাই। এটা আমাদের পরিকল্পনায় আছে।’

শুক্রবার (১৭ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সিটি করপোরেশনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এই চারবছরে যেসকল কাজ করেছেন তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন মেয়র। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছাতে পারেননি বলেও জানান মেয়র। এর জন্য সেবাসংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করলেন তিনি।

সাঈদ খোকন বলেন, ‘সুষ্ঠু নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা একটা বড় মাত্রার প্রতিবন্ধকতা। আমরা যদি আমাদের রাজধানীর সেবায় নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে সঠিক সমন্বয় করতে পারি, তাহলে আমাদের অনেক সমস্যাই সমাধান করতে সক্ষম হতে পারি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558109412766.jpg

এ সময় উদাহরণ টেনে মেয়র বলেন, ‘আমাদের অনেক রাস্তা মাত্র করেছি, সেই রাস্তা করতে অনেক ব্যয়ও হয়েছে, উন্নয়নকাজের সময় নাগরিকদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কাজ শেষ হবার সময় দেখা গেলো কোনো সংস্থা রাস্তা কাটার অনুমতি চাইছে নাগরিকদের প্রয়োজনে আমরা অনুমতি দিতে বাধ্য হই। যে কারণে একটি রাস্তা বার বার খোঁড়াখুঁড়ি হয়, হচ্ছে। যদি সমন্বয় থাকত তাহলে কাজগুলো এক সঙ্গে করতে পারতাম। এরপর ৫-১০ বছরের ভেতরে আর কাটতে হতো না। তাই আমি মনে করি সমন্বয়হীনতা নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বড় রকমের প্রতিবন্ধকতা। এই প্রতিবন্ধকতা যত দ্রুত সম্ভব দূর করা যায় তাহলে অবশ্যই পরিকল্পিতি নাগরিক সেবা দিতে পারব।’

মেয়র নাগরিক সেবাবৃদ্ধির জন্য রাজধানীর অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোরও বিভক্ত করার পক্ষে মতামত দেন। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সেবা সংস্থাকে উত্তর দক্ষিণে ভাগ করা হলে আরও বেশি সেবা নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় এসেছে, ভাববার সময় এসেছে।’

আগামী এক বছরে যেসকল কাজের পরিকল্পনায় রয়েছে সেগুলো উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আমরা এই চার বছরে শহরে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে সক্ষম হয়েছি। মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করেছি। সড়কে এলইডি বাতি স্থাপন করেছি। ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ রাস্তা চলাচলের উপযোগী করেছি। এখন নবসংযুক্ত ইউনিয়নগুলো নিয়ে মহাপরিকল্পনা করছি। এছাড়া বুড়িগঙ্গার চ্যানেলে হাতিরঝিলের মতো আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’

কাজ করতে যেয়ে বাঁধা আসলেও বসে থাকেননি বলে জানিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধকতা থাকবেই কিন্তু সেটাকে বড় করে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিবন্ধকতা আসবে আবার চলেও যাবে। শেষ বছরে আমার লক্ষ্য থাকবে প্রকল্পগুলো সুচারু রূপে সম্পন্ন করার। আর কাজের ব্যর্থতা সফলতার ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। বাকি সময়ও নগরবাসীকে পাশে চাই।’

সংবাদ সম্মেলন পরবর্তী ইফতার মাহফিলে অংশ নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, ডিএসসিসি সচিব মোস্তফা কামাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব নজিবুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসীম এ খান, প্রকৌশলী আজম খান, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিরুৎসাহী করছেন রোহিঙ্গা নেতারা

প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিরুৎসাহী করছেন রোহিঙ্গা নেতারা
সংগৃহীত ছবি

রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ই ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। তবে কিছু রোহিঙ্গা নেতা ও এনজিও তাদের ফিরে যেতে নিরুৎসাহিত করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. মোমেন বলেন, আমরা শুনেছি কিছু রোহিঙ্গা নেতা সেখানে উদয় হয়েছেন। তারা কোনও রোহিঙ্গা (তাদের জন্মভূমিতে) ফেরত যাক সেটা চান না। তারা প্রত্যাবর্তনকারীদের থামানোর চেষ্টা করছেন। কিছু আন্তর্জাতিক এনজিও তাদের (রোহিঙ্গা) উস্কানি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে দেবে। বৃহস্পতিবার থেকে দুই দেশই স্বল্প পরিসরে প্রত্যাবাসন পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে। আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং তাদের নিজস্ব অঞ্চলে স্বাধীন চলাচলের অধিকার চাই। মিয়ানমার এ বিষয়ে একমত হয়েছে। অনেক রোহিঙ্গাই ফিরে যেতে ইচ্ছুক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা মূলত নাগরিকত্ব চাইছে। তাদের দাবি অনুযায়ী নাগরিকত্ব না দেওয়া পর্যন্ত তারা যাবে না। কিন্তু মিয়ানমার বলছে এটি একটি প্রক্রিয়া। রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে পরে কার্ড পাবে এবং তারপরে তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে যাচ্ছে। ওই দিন ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে স্থল ও নৌ পথে মিয়ানমার সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে।

গত জুলাই মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থু’র নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিমের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

সবজি রফতানিতে দুটি কার্গো প্লেন কেনার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

সবজি রফতানিতে দুটি কার্গো প্লেন কেনার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে সবজি রফতানির জন্য সংশ্লিষ্টদের দুটি কার্গো বিমান কেনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের এই পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে প্রচুর সবজি চাষ হচ্ছে। প্রচলিত কৃষির বাইরে বিদেশি জাতের বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, ফল-ফুল চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়েছে বাংলাদেশ। সবজি চাষে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। আমারা সবজি বিভিন্ন দেশে রফতানি করেছি। এখন কার্গো প্লেন কেনার সময় এসেছে। দুটি কার্গো প্লেন কিনে ফেলেন।'

এর পরে অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, 'বিমানের অবস্থা ভালো। বিমান নিজের টাকা দিয়েই দুটি কার্গো কিনতে পারবে। একনেক সভায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।'

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

তিনি বলেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবজি রফতানি করা হচ্ছে। সবজি রফতানিতে আমরা কার্গো বিমান ভাড়া করছি। তাই দুটি হিমায়িত কার্গো বিমান কেনার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।'

বিদ্যুতের লাইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভবিষ্যতে সকল বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে স্থাপন করতে হবে। ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খুলনা লবণাক্ত পানি প্রবণ এলাকা। এখানে ভবন নির্মাণের সময় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। বৃহৎ সরকারি ভবনে ডে কেয়ার সেন্টার ব্যবস্থা করতে হবে।'

নানা নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বৃষ্টির পানিতে ভাঙন রোধে পার্বত্য এলাকায় সড়কের উভয় পাশে চিকন বাঁশ রোপণ করতে হবে। নদী ভাঙন রোধে ক্যাপিটাল ড্রেইজিংয়ে জোর দিতে হবে।'

মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ; প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। একই প্রকল্পে এক কর্মকর্তা গাফিলতি করেছিলেন।

বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রকল্পের ভুল অ্যাসেসমেন্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সড়ক নির্মাণের সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে বর্ষার সময় পানি প্রবাহ যেন আটকে না থাকে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র