Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

শিগগিরই দূর হচ্ছে ক্যাডার বৈষম্য

শিগগিরই দূর হচ্ছে ক্যাডার বৈষম্য
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, ছবি: বার্তা২৪.কম
শাহজাহান মোল্লা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে লেখাপড়া শেষে ভালো কোথাও চাকরি করার। আর সেটা যদি হয় বিসিএস’র মাধ্যমে, তাহলে স্বপ্নের ষোলো কলা পূর্ণ হয়ে যায়। তবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে যখন কেউ উত্তীর্ণ হন, তখন ক্যাডার আর নন-ক্যাডারভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়।

যারা একটু বেশি নম্বর পান, তাদের স্থান হয় ক্যাডারে আর কম নম্বর প্রাপ্তদের স্থান হয় নন-ক্যাডারে। ফলে এক ধরনের বিভাজন সৃষ্টি হয় শুরু থেকেই।

আবার ওই ক্যাডারের মধ্যেও রয়েছে বৈষম্য। যারা প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান, তারা শুরু থেকেই বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। অথচ একই গ্রেডে চাকরিতে যোগদান করে কয়েকটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা যখন পদোন্নতি পেয়ে সচিব, সিনিয়র সচিব বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হচ্ছেন, তখন অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এই ক্যাডার বৈষম্য নিয়ে প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলে আসছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিভিন্ন বৈষম্য প্রশাসন ক্যাডার বাদে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে।

অথচ ক্যাডার বৈষম্য দূর করতে ১৯৭৫ সালের চাকরি পুনর্গঠন ও শর্তাবলী অ্যাক্টেই সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেই অ্যাক্ট অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাডারে একই গ্রেডের কর্মকর্তারা সমান সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। তাদের মধ্যে বেতন বা অন্য কোনো বৈষম্য করা যাবে না। কিন্তু সুদমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা ও সুপারনিউমারারি পদন্নোতির অতিরিক্ত সুবিধা প্রশাসন ক্যাডাররাই পেয়ে আসছেন। এক্ষেত্রে অন্যরা বঞ্চিত। যা ওই অ্যাক্টের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিষয়টির সুরাহা চাইতে বিসিএস ২৬ ক্যাডার সমন্বয় কমিটি ২০১২ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। সেসময় প্রধানমন্ত্রী তার জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে ক্যাডার বৈষম্য দূর করার নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ওই কমিটি প্রধানত তিনটি বৈষম্য দূর করার জন্য কাজ শুরু করে। সেই প্রধান তিন বৈষম্য হচ্ছে-প্রতিটি ক্যাডারে একটি করে গ্রেড-১ পদ থাকতে হবে, সব ক্যাডারের কর্মকর্তা চতুর্থ গ্রেডের টাইম স্কেল পাবেন (যা আগে শুধু প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা পেতেন) এবং সব ক্যাডারে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দেওয়া হবে।

পরে সেই সুপারিশের প্রথম ও দ্বিতীয়টি আংশিক মানা হলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না সুপারনিউমারারি পদোন্নতির সুপারিশ। অথচ প্রশাসন ক্যাডারে পর্যাপ্ত পদ না থাকা সত্ত্বেও পদের অতিরিক্ত সুপারনিউমারারি পদোন্নতি পাচ্ছেন। কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। ইদানিং পুলিশ ও শিক্ষা ক্যাডারে সুপারনিউমারারি পদন্নোতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা এখনও কোনো আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না। এনিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা দক্ষতা বাড়াতে বছর ধরেই চাকরি জীবনে একাধিকবার বিভিন্ন দেশে একাধিক প্রশিক্ষণ কোর্সে যাচ্ছেন, কিন্তু কয়েকটি ক্যাডার বাদে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পুরো চাকরি জীবনে একবারও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ জুটছে না। যা এক ধরনের বৈষম্য বলে মনে করছেন তারা। এছাড়াও প্রশাসন ক্যাডার বাদে অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি উপ সচিব ও তার ওপরের গ্রেডের কর্মকর্তারা বিনা সুদে গাড়ি কেনার সুবিধা পেলেও একই গ্রেড বা উপ-সচিব সমমানের অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যা অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। সেই ক্ষোভ থেকে এরই মধ্যে কৃষি ক্যাডারের কর্মকর্তারা হাইকোর্টে একটি রিটও করেছেন।

বিদ্যমান ক্যাডার বৈষম্য নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের কাছে। তিনি গত ১৩ মে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা সবার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমাদের যে প্রস্তুতি রয়েছে তাতে আমরা হয়তো খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বৈষম্য দূর করে নিশ্চিত সমাধান দিতে পারব। আমরা সব ক্যাডারের মধ্যে আন্তঃবৈঠক করেছি। আশা করি, ১৫ দিনের মধ্যে ভালো সমাধান উপস্থাপন করতে পারব।

এ বিষয়ে বিসিএস ২৬ ক্যাডার সমন্বয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শ ম গোলাম কিবরিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ক্যাডার বৈষম্যটা দীর্ঘ দিন ধরেই চলে আসছে। এখন বর্তমান মন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে চান, তাহলে হয়তো সমাধান হবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা যদি চাকরি এত বছর হয়েছে তার ভিত্তিতে পদোন্নতি পেতে পারেন, তাহলে অন্যান্য ক্যাডারে নিয়োজিতরাও কেন পাবেন না? বঙ্গবন্ধুর সরকারের সময় সংসদে চাকরি পুনর্গঠন ও শর্তাবলী অ্যাক্টেই উল্লেখ করা আছে, কোনো বৈষম্য করা যাবে না। এখন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ৩০ লাখ টাকায় সুদমুক্ত গাড়ি কেনার যে ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, সেটা ওই শর্তাবলীর পরিপন্থি। এর একটা যৌক্তিক সমাধান হওয়া উচিত।

মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী যদি এবার সেই ক্যাডার বৈষম্যের অবসান ঘটে, তাহলে দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার অবসান ঘটবে। পাশাপাশি সরকারি কাজের অগ্রগতিও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, আসলেই সমাধান হবে কি না সেটা সময়ই বলে দেবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

ফরিদপুরের আ. লীগ নেতা ও তার ভাইকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

ফরিদপুরের আ. লীগ নেতা ও তার ভাইকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক আলী আকবর। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত দুই দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে বরকত ও রুবেলকে চিঠি দিয়ে তলব করে দুদক।

অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আলী আকবর বলেন, ‘অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের দুজনকে (বরকত ও রুবেল) দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদক কার্যালয়ে আসলে প্রথমে সাজ্জাদ হোসেন বরকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।’

দুদক সূত্র জানায়, বরকতকে সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন, ফরিদপুরের এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নদী গবেষণাসহ সরকারি বিভিন্ন সেবাখাতের অফিসের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন আদায়, পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি, মাদকবাণিজ্য, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

সূত্র জানায়, পরে বেলা ২টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে নেওয়া হয়। তাকে বেলা সাড়ে চারটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, বালুমহল ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার কাছেও এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

জানতে চাইলে দুদকের উপ-পরিচালক আলী আকবর বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তার আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা কিছু তথ্য দিয়েছেন। অনুসন্ধানের প্রয়োজনে আবারও ডাকা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধানের জন্য নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ কর্মদিবস সময় আছে। আশা করি এর মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারব। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আরো ৩০ কর্মদিবস নেওয়া যাবে।’

এর আগে গত ১ মে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক চিঠিতে দুদকের ফরিদপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত ২০ মে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা চিঠি দিয়ে বরকত ও রুবেলকে দুদকে তলব করে। ২২ মে তারা ফরিদপুর দুদক কার্যালয়ে হাজির হন।

দুদক সূত্রে জানায়, দুদক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বরকত ও রুবেলের সখ্যের অভিযোগ ওঠে। গত রমজান মাসে তাদেরকে একসঙ্গে ইফতার পার্টিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে পরে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে অব্যাহতি দিয়ে অনুসন্ধান কাজ ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আলী আকবরকে।

অনুসন্ধান কাজ তদারকির দায়িত্বে আছেন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। অনুসন্ধান চলছে। অগ্রগতি সম্পর্কে এখন বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।’

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে
পলাতক আসামি তারেক রহমান ও মো. তাজউদ্দিন

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জঙ্গি নেতা মাওলানা মো. তাজউদ্দিন। এদের মধ্যে তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে ও তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তাদের দেশে ফেরাতে নানা ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে সরকার। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাদের গ্রেফতারে রেড অ্যালার্ট জারি করলেও তাদের ফেরানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, আফগান-ফেরত মুজাহিদদের নিয়ে বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম (হুজি-বি)। ২০০০ সাল ও তার পরবর্তী পাঁচ বছর এই জঙ্গি সংগঠনটি ভয়ানক হয়ে ওঠে। ওই পাঁচ বছরে তারা শতাধিক মানুষ হত্যাসহ ১৩টি গ্রেনেড হামলা চালায়। যার মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলা অন্যতম। অভিযোগ আছে, পরবর্তী সময়ে ওই হামলার তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে বিএনপি-জামায়াত সরকার। আর সেটিরও নেতৃত্ব দেন বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পরবর্তী সময়ে আসামিদের স্বীকারোক্তিতে হামলায় তারেক রহমানের সমর্থন থাকার প্রমাণ মেলে। আর অভিযোগ প্রমাণিত হাওয়ায় গত বছর ১৯ জনকে ফাঁসি, তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ১৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো পলাতক।

এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা হয় তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে। তিনি এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এই আসামি এখন লন্ডনে পালিয়ে আছেন।’

এই মামলার রায় হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয় তরেক রহমানের নামে। পরে এ মামলার রায়ের পর দ্বিতীয়বারের মতো নোটিশ জারি করে সংস্থাটি। তবে কোনো নোটিশেই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও হুজির শীর্ষ নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। তাকেও ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টের পরও পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে থাকি। আগেও ৩-৪ জন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল আমাদের সহায়তা করেছে। আশা করছি, সংস্থাটির সহায়তায় বাকিদেরও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘তারেক রহমান এই ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তিনি সময়মতো দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করে আপিল করবেন।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র