রাজস্ব বাড়াতে গিয়ে জনভোগান্তি যেন না হয়: প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুরনো ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুরনো ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির জন্য সরকারি-বেসরকারি উভয় পক্ষকেই জোরদার তৎপরতা চালাতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বেসরকারিভাবে যদি কেউ নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, তাহলে তাদেরকে বিভিন্ন রেয়াতি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। এমন ঘোষণা থাকবে আসন্ন বাজেটে।

আসন্ন বাজেটে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ধরা হচ্ছে। যদিও চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি খাতের বাম্পার ফলন আর উচ্চ রফতানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করে সরকার। এছাড়া নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ ৫ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সোমবার (২০ মে) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আসন্ন বাজেটের একটা প্রেজেন্টেশন দেন। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজস্ব ঘাটতির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আগামী দিনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। রাজস্ব বাড়ানোর জন্য নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মানুষের জীবন ধারণের ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব যেন না পড়ে, যেদিকেও নজর রাখতে হবে।

প্রয়োজনে ব্যাংক, শেয়ারবাজার, শ্রমবাজারসহ সামগ্রিক আর্থিক সংস্কার আনারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে যে খাতেই যে কোনো ধরনের সংস্কারই আনা হোক না কেন, তা হতে হবে জনকল্যাণ, জনস্বস্তি ও জনহিতকর। মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে কোনো ধরনের সংষ্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম না নেওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

প্রেজেন্টেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছর যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তাতে করের বোঝা কোনোভাবেই বাড়বে না। তবে করের আওতা বাড়বে। অন্তত এক কোটি মানুষকে নতুন করে করের আওতায় আনা হবে। যার মাধ্যমে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে করপোরেট কর হার কমানো হবে। সেই সঙ্গে টানা প্রায় ১০ বছর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তিকরণ চালু করা হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হবে।

সূত্র জানায়, আসন্ন বাজেটের মোট আকার হতে পারে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আসন্ন বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, আগামী বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালন করা হবে। যার কিছু প্রতিফলন থাকবে আগামী বাজেটেও। এজন্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরাঞ্চলে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য শহরে যেন আসতে না হয়। সেজন্য গ্রামেই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এজন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কেন্দ্রীভূত কার্যক্রম মফস্বল এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

আসন্ন বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২ লাখ ৭ হাজার ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এডিপি-তে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যোগাযোগ খাতকে। একইভাবে গ্রামীণ জনপথের উন্নয়ন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসারকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচেছ আগামী বাজেটে।

আপনার মতামত লিখুন :