Alexa

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : পরিকল্পিতভাবে আলামত ধ্বংস করা হয়

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : পরিকল্পিতভাবে আলামত ধ্বংস করা হয়

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলার পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধারকৃত অবিস্ফোরিত আর্জেস গ্রেনেডগুলো আলামত হিসেবে সংরক্ষণ না করে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরস্পর যোগসাজসে তা ধ্বংস করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার আদালতে যুক্তিতর্কের শুনানির ১৬তম দিবসে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষি ঘটনাকালীন ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার এস এম মিজানুর রহমানের জবানবন্দির আলোকে এতথ্য প্রকাশ করেন। সরকারি কৌসুলি বলেন, সাক্ষি মিজানের দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী অপরাধীদের অপরাধ সংঘটন নির্বিঘœ করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঐ ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ঘটানো হয়। সাক্ষির জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয, আওয়ামী লীগের ঐ সমাবেশে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সাক্ষিকে সমাবেশের মাত্র ৩ ঘন্টা আগে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এ সাক্ষিকে ২১ আগস্ট ঘটনার সঠিক তদন্তে তৎকালিন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিরত থাকতে বলেছিলেন। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে রাষ্ট্রের কৌসুলি রেজাউর রহমান অপর সাক্ষি ডিজিএফআই-এর তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাদিক হাসান রুমির দেয়া সাক্ষ্যের বরাত দিয়ে আদালতে বলেন, সাক্ষি রুমি এ মামলার ২৫ আসামিকে সম্পৃক্ত করে আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাঁর তালিকাভুক্ত আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন প্রবাসি বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামও রয়েছে। মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর দলের প্রথম সারির নেতৃবর্গ ঐ গ্রেনেড হামলা থেকে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।