Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের
ট্রেনের টিকিটের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়, ছবি: সুমন শেখ
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো রাজধানীর পাঁচটি স্থান থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট দেওয়া হচ্ছে। টিকিট পেতে স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, রাতভর অপেক্ষা ও মানুষের ভোগান্তি কমাতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। তবে রেল মন্ত্রণালয়ের এই মহৎ উদ্যোগ কোন কাজেই আসেনি। উল্টো আরও ভোগান্তির শিকার হয়েছে অধিকাংশ টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীরা।

বুধবার (২২ মে) সকাল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে ঘুরে দেখা যায়, টিকিট প্রাপ্তির সঠিক স্টেশন জানা না থাকায় ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের জন্য রাতভর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন অপেক্ষা করেন টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীরা। কিন্তু সকালবেলা শুনতে পান এখানে এই রুটের টিকিট দেওয়া হবে না। এতে হতাশ হয়ে ফিরে যান অনেকে। ঠিক তেমনি বনানীতে পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট না পেয়ে ১০টার সময় কমলাপুর এসে লম্বা লাইনের পেছনে দাঁড়িয়েছেন দু-চারজন।

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের

এমন ভোগান্তির শিকার মিতু বেগম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'সকাল ৫ টার দিকে বনানী গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। যখন টিকিট দেওয়া শুরু হয়েছে তখন জানতে পেরেছি, এই জায়গা থেকে ময়মনসিংহ-জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। এটার জন্য অন্য স্টেশনে যেতে হবে। ভাবলাম এটা কমলাপুর পাওয়া যাবে। এখানে এসে শুনি, তেজগাঁও স্টেশন থেকেই পাওয়া যাবে। তাছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না।'

একই ভোগান্তির স্বীকার আতিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বনানী থেকে ঘুরে এলাম। ভুল করে ওখানে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। কোথাও কোনো প্রচারণা নেই। কিভাবে বুঝবো কোথায় থেকে টিকিট পাওয়া যাবে।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/22/1558541045666.jpg

টিকিট প্রত্যাশী আব্দুল জাব্বার বলেন, 'সরকারের উদ্যোগ ভালোই, কিন্তু এই ভালো করতে গিয়ে আরও খারাপ হয়ে গেল। যদি শুধু সঠিক প্রচারণা কিংবা স্টেশনগুলোতে লেখা থাকতো। তাহলেই এই সমস্যায় আমরা পড়তাম না।'

এদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা স্টেশনগুলো হলো- কমলাপুর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর স্টেশন, বনানী স্টেশন, তেজগাঁও স্টেশন ও ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন) স্টেশন।

প্রচারণার অভাবে টিকিট প্রাপ্তির স্থান জানা নেই যাত্রীদের

যার মধ্যে কমলাপুর স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট। এসব ট্রেন যমুনা সেতুর উপর দিয়ে যাবে। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম-নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। তেজগাঁও স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে ময়মনসিংহ-জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। বনানী স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন) থেকে দেওয়া হচ্ছে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট।

অন্যদিকে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন রেলের অগ্রিম টিকিট পরিদর্শনকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে এসে, অ্যাপে টিকিট দিতে না পারা ব্যর্থতা স্বীকার করলেও প্রচারণার অভাবে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিরুৎসাহী করছেন রোহিঙ্গা নেতারা

প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, নিরুৎসাহী করছেন রোহিঙ্গা নেতারা
সংগৃহীত ছবি

রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়ই ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’। তবে কিছু রোহিঙ্গা নেতা ও এনজিও তাদের ফিরে যেতে নিরুৎসাহিত করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. মোমেন বলেন, আমরা শুনেছি কিছু রোহিঙ্গা নেতা সেখানে উদয় হয়েছেন। তারা কোনও রোহিঙ্গা (তাদের জন্মভূমিতে) ফেরত যাক সেটা চান না। তারা প্রত্যাবর্তনকারীদের থামানোর চেষ্টা করছেন। কিছু আন্তর্জাতিক এনজিও তাদের (রোহিঙ্গা) উস্কানি দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে দেবে। বৃহস্পতিবার থেকে দুই দেশই স্বল্প পরিসরে প্রত্যাবাসন পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে। আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং তাদের নিজস্ব অঞ্চলে স্বাধীন চলাচলের অধিকার চাই। মিয়ানমার এ বিষয়ে একমত হয়েছে। অনেক রোহিঙ্গাই ফিরে যেতে ইচ্ছুক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা মূলত নাগরিকত্ব চাইছে। তাদের দাবি অনুযায়ী নাগরিকত্ব না দেওয়া পর্যন্ত তারা যাবে না। কিন্তু মিয়ানমার বলছে এটি একটি প্রক্রিয়া। রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে পরে কার্ড পাবে এবং তারপরে তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আগামী বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে যাচ্ছে। ওই দিন ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে স্থল ও নৌ পথে মিয়ানমার সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে।

গত জুলাই মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থু’র নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিমের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

সবজি রফতানিতে দুটি কার্গো প্লেন কেনার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

সবজি রফতানিতে দুটি কার্গো প্লেন কেনার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে সবজি রফতানির জন্য সংশ্লিষ্টদের দুটি কার্গো বিমান কেনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের এই পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে প্রচুর সবজি চাষ হচ্ছে। প্রচলিত কৃষির বাইরে বিদেশি জাতের বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, ফল-ফুল চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়েছে বাংলাদেশ। সবজি চাষে বাংলাদেশ সাফল্য দেখিয়েছে। আমারা সবজি বিভিন্ন দেশে রফতানি করেছি। এখন কার্গো প্লেন কেনার সময় এসেছে। দুটি কার্গো প্লেন কিনে ফেলেন।'

এর পরে অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, 'বিমানের অবস্থা ভালো। বিমান নিজের টাকা দিয়েই দুটি কার্গো কিনতে পারবে। একনেক সভায় ১৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।'

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

তিনি বলেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সবজি রফতানি করা হচ্ছে। সবজি রফতানিতে আমরা কার্গো বিমান ভাড়া করছি। তাই দুটি হিমায়িত কার্গো বিমান কেনার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।'

বিদ্যুতের লাইন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভবিষ্যতে সকল বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে স্থাপন করতে হবে। ৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা কর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খুলনা লবণাক্ত পানি প্রবণ এলাকা। এখানে ভবন নির্মাণের সময় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। বৃহৎ সরকারি ভবনে ডে কেয়ার সেন্টার ব্যবস্থা করতে হবে।'

নানা নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বৃষ্টির পানিতে ভাঙন রোধে পার্বত্য এলাকায় সড়কের উভয় পাশে চিকন বাঁশ রোপণ করতে হবে। নদী ভাঙন রোধে ক্যাপিটাল ড্রেইজিংয়ে জোর দিতে হবে।'

মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ; প্রকল্পটি সংশোধিত আকারে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। একই প্রকল্পে এক কর্মকর্তা গাফিলতি করেছিলেন।

বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রকল্পের ভুল অ্যাসেসমেন্ট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সড়ক নির্মাণের সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে বর্ষার সময় পানি প্রবাহ যেন আটকে না থাকে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র