Alexa

নজরুল জন্মজয়ন্তী

ত্রিশালে নজরুলপ্রেমীদের পদচারণায় প্রাণের ছোঁয়া

ত্রিশালে নজরুলপ্রেমীদের পদচারণায় প্রাণের ছোঁয়া

ছবি: বার্তা২৪

সাম্য, বিরহ, বিদ্রোহ, প্রেম; সব কিছুর কবিই কাজী নজরুল ইসলাম। ভারতের আসানসোল থেকে দারোগা রফিজ উল্লাহর হাত ধরে এসেছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশালে। নিজের শৈশব-কৈশোরের দুরন্ত সময় কাটিয়েছেন এখানে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন স্থানীয় দরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

নিজের প্রিয় শিক্ষকের শ্যালিকার সঙ্গে প্রণয়, সুকনী বিলের প্রান্তরের সেই বটবৃক্ষের নিচে বাঁশি বাজানো বা ছোট্ট কবিতা লেখাসহ নানা কারণে নজরুল স্মৃতিময় ত্রিশাল। কবির প্রিয় বটতলা থেকেই যাত্রা শুরু করেছে তাঁর নামের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। নাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি)।

সব সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষকদের পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখর থাকলেও বিদ্রোহী কবির স্মৃতিকে অম্লান করতে উপজেলার নামাপাড়া বিচ্যুতিয়া বেপারী বাড়ি ও কাজির শিমলা দারোগা বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত দু’টি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র গোটা বছরই খাঁ খাঁ করে। তবে জয়ন্তী এলেই এসব নজরুল স্থাপনা যেন প্রাণের ছোঁয়া পায়। হয়ে ওঠে নজরুল ভক্ত ও গবেষকদের তীর্থ ভূমি।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা

উপজেলার নামাপাড়া বিচ্যুতিয়া বেপারী বাড়ির নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে জন্ম জয়ন্তীর সময়টিতে। এখানকার নজরুলের থাকার ঘরটিতে গড়ে উঠেছে নজরুল আর্কাইভ। তিন তলার দেখার মতো এ স্মৃতি কেন্দ্রে রয়েছে ২০০ আসনের একটি অডিটরিয়াম।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আছে নজরুল জাদুঘর কাম পাঠাগার। বছরের অন্যান্য সময় স্মৃতিকেন্দ্রটির দিকে কারো খেয়াল থাকে না। তবে জয়ন্তীকে ঘুরে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয় এ স্মৃতি কেন্দ্রটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ স্মৃতিকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্কট প্রকট হলেও সেদিকে নজর নেই কারো।

উপজেলার কাজীর শিমলা গ্রামেই প্রথম এসেছিলেন কবি। এ মধুর স্মৃতিকে চির অমলিন করে রাখতে ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে গড়ে তোলা হয় নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। দুই তলা ভবনের এ স্মৃতিকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর ভাগ্যে জুটেছে অনাদর। এখানে যেমন জনবলের প্রকট অভাব তেমনি বই পুস্তুক ছাড়া দর্শনার্থী টানার মতোই কিছু নেই।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা

অথচ ১০০ আসনের এ মিলনায়তনটিকে কাজে লাগিয়ে নজরুল ভক্ত-গবেষকদের সারা বছরই ধরে রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু উদ্যোগ না থাকায় বছরের অন্যান্য সময় এখানকার পাঠাগার কক্ষের বইসমূহ ছুঁয়ে দেখার মতোও কেউ থাকে না। এ নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই স্থানীয় কাজির শিমলার বাসিন্দাদের।

ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ২০০৬ সালের ৯ মে সুকনী বিলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে এখানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও সঙ্গীত বিভাগ থাকলেও এখন এখানে চার অনুষদে বিভাগ রয়েছে ২৩টি।

এখানে পড়াশোনা করছেন সাত হাজারের মতো শিক্ষার্থী। প্রতিটি বিভাগে আছে ‘নজরুল স্টাডিজ’ নামে ১০০ নম্বরের একটি বাধ্যতামূলক বিষয়। কবির জীবন ও কর্মের ওপর গবেষণা এবং উচ্চতর শিক্ষার জন্য রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে কবির ম্যুরাল, ছবি, গান ও কবিতার বাণী।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা

এখানকার স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের নাম ‘চির উন্নত মম শির’। ক্যাফেটেরিয়ার নাম ‘চক্রবাক’। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল দুটির নামও কবির সাহিত্যকর্মের ‘অগ্নিবীণা’ ও ‘দোলনচাঁপা’। উপাচার্যের বাংলোর নাম ‘দুখুমিয়া বাংলো’।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ত্রিশালে নজরুল কেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিবর্তন গোটা এলাকার শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ নজরুল প্রেমিক ভক্ত অনুরাগী ও গবেষকদের কাছে ত্রিশাল এখন নজরুল গবেষণার চারণভূমি ও পর্যটনের নগরী।

এদিকে, কবি নজরুলের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে কবির স্মৃতিঘেরা এ ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শনিবার (২৫ মে) বিকেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানকে ঘিরে উপজেলায় বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। কবির ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা।

আপনার মতামত লিখুন :