Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

নজরুল জন্মজয়ন্তী

ত্রিশালে নজরুলপ্রেমীদের পদচারণায় প্রাণের ছোঁয়া

ত্রিশালে নজরুলপ্রেমীদের পদচারণায় প্রাণের ছোঁয়া
ছবি: বার্তা২৪
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

সাম্য, বিরহ, বিদ্রোহ, প্রেম; সব কিছুর কবিই কাজী নজরুল ইসলাম। ভারতের আসানসোল থেকে দারোগা রফিজ উল্লাহর হাত ধরে এসেছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশালে। নিজের শৈশব-কৈশোরের দুরন্ত সময় কাটিয়েছেন এখানে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়েছেন স্থানীয় দরিরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

নিজের প্রিয় শিক্ষকের শ্যালিকার সঙ্গে প্রণয়, সুকনী বিলের প্রান্তরের সেই বটবৃক্ষের নিচে বাঁশি বাজানো বা ছোট্ট কবিতা লেখাসহ নানা কারণে নজরুল স্মৃতিময় ত্রিশাল। কবির প্রিয় বটতলা থেকেই যাত্রা শুরু করেছে তাঁর নামের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। নাম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি)।

সব সময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষকদের পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখর থাকলেও বিদ্রোহী কবির স্মৃতিকে অম্লান করতে উপজেলার নামাপাড়া বিচ্যুতিয়া বেপারী বাড়ি ও কাজির শিমলা দারোগা বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত দু’টি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র গোটা বছরই খাঁ খাঁ করে। তবে জয়ন্তী এলেই এসব নজরুল স্থাপনা যেন প্রাণের ছোঁয়া পায়। হয়ে ওঠে নজরুল ভক্ত ও গবেষকদের তীর্থ ভূমি।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা

উপজেলার নামাপাড়া বিচ্যুতিয়া বেপারী বাড়ির নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে জন্ম জয়ন্তীর সময়টিতে। এখানকার নজরুলের থাকার ঘরটিতে গড়ে উঠেছে নজরুল আর্কাইভ। তিন তলার দেখার মতো এ স্মৃতি কেন্দ্রে রয়েছে ২০০ আসনের একটি অডিটরিয়াম।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আছে নজরুল জাদুঘর কাম পাঠাগার। বছরের অন্যান্য সময় স্মৃতিকেন্দ্রটির দিকে কারো খেয়াল থাকে না। তবে জয়ন্তীকে ঘুরে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয় এ স্মৃতি কেন্দ্রটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ স্মৃতিকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্কট প্রকট হলেও সেদিকে নজর নেই কারো।

উপজেলার কাজীর শিমলা গ্রামেই প্রথম এসেছিলেন কবি। এ মধুর স্মৃতিকে চির অমলিন করে রাখতে ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে গড়ে তোলা হয় নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। দুই তলা ভবনের এ স্মৃতিকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর ভাগ্যে জুটেছে অনাদর। এখানে যেমন জনবলের প্রকট অভাব তেমনি বই পুস্তুক ছাড়া দর্শনার্থী টানার মতোই কিছু নেই।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা

অথচ ১০০ আসনের এ মিলনায়তনটিকে কাজে লাগিয়ে নজরুল ভক্ত-গবেষকদের সারা বছরই ধরে রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু উদ্যোগ না থাকায় বছরের অন্যান্য সময় এখানকার পাঠাগার কক্ষের বইসমূহ ছুঁয়ে দেখার মতোও কেউ থাকে না। এ নিয়ে আক্ষেপের শেষ নেই স্থানীয় কাজির শিমলার বাসিন্দাদের।

ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ২০০৬ সালের ৯ মে সুকনী বিলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। শুরুতে এখানে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও সঙ্গীত বিভাগ থাকলেও এখন এখানে চার অনুষদে বিভাগ রয়েছে ২৩টি।

এখানে পড়াশোনা করছেন সাত হাজারের মতো শিক্ষার্থী। প্রতিটি বিভাগে আছে ‘নজরুল স্টাডিজ’ নামে ১০০ নম্বরের একটি বাধ্যতামূলক বিষয়। কবির জীবন ও কর্মের ওপর গবেষণা এবং উচ্চতর শিক্ষার জন্য রয়েছে ‘ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ’। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে কবির ম্যুরাল, ছবি, গান ও কবিতার বাণী।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা

এখানকার স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভের নাম ‘চির উন্নত মম শির’। ক্যাফেটেরিয়ার নাম ‘চক্রবাক’। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল দুটির নামও কবির সাহিত্যকর্মের ‘অগ্নিবীণা’ ও ‘দোলনচাঁপা’। উপাচার্যের বাংলোর নাম ‘দুখুমিয়া বাংলো’।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ত্রিশালে নজরুল কেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিবর্তন গোটা এলাকার শিক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামোসহ ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ নজরুল প্রেমিক ভক্ত অনুরাগী ও গবেষকদের কাছে ত্রিশাল এখন নজরুল গবেষণার চারণভূমি ও পর্যটনের নগরী।

এদিকে, কবি নজরুলের ১২০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে কবির স্মৃতিঘেরা এ ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শনিবার (২৫ মে) বিকেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অনুষ্ঠানকে ঘিরে উপজেলায় বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। কবির ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা।

আপনার মতামত লিখুন :

ঈশ্বরগঞ্জে ৩ খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

ঈশ্বরগঞ্জে ৩ খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত আসামি আব্দুর রশিদ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই ভাইয়ের পরিবারের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রশিদকে (৭২) গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত রোববার (১৮ আগস্ট) রাতে অভিযান চালিয়ে নান্দাইল উপজেলার পাঁচরুখি এলাকা থেকে ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঈশ্বরগঞ্জের কাঁঠাল গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই ভাইয়ের পরিবারের সংঘর্ষে আবুল হাসেম, তার ছেলে জহিরুল ইসলাম ও ভাতিজা আজিবুল হক নিহত হন।

পরে এ ঘটনায় শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ জনসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন নিহত আবুল হাসেমের মেয়ে রোকসানা বেগম।

২০২০ সাল নাগাদ আসবে ২শ’ মিটারগেজ কোচ

২০২০ সাল নাগাদ আসবে ২শ’ মিটারগেজ কোচ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জনসাধারণকে নিরাপদ, আরামদায়ক, সহজলভ্য ও পরিবেশবান্ধব রেলসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০ মিটারগেজ কোচ আমদানি করছে। ২০২০ সাল নাগাদ কোচগুলো বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ বা কোচ সংগ্রহ’ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকল্প দফতর এ তথ্য জানায়।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় নয় ধাপে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০টি মিটারগেজ কোচ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। এর মধ্যে গত ১ আগস্ট প্রথম ধাপে ২৬টি মিটারগেজ কোচ দেশে এসে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ধাপে চলতি বছরের ১ অক্টোবর আরও ২২টি মিটারগেজ কোচ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় ধাপ থেকে অষ্টম ধাপ পর্যন্ত প্রতি ধাপে ২২টি করে মোট ১৩২টি কোচ আসবে। সবশেষে নবম ধাপে ২০২০ সালের জুলাই মাস নাগাদ আরও ২০টি মিটারগেজ কোচ বাংলাদেশ এসে পৌঁছাবে।

প্রকল্পের বিষয়ে সাবস্টেশন ইঞ্জিনিয়ার মো. সাখাওয়াত হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যেই ইন্দোনেশিয়া থেকে তিন ধাপে ৫০টি ব্রডগেজ কোচ দেশে নিয়ে আসা হয়েছে। বিভিন্ন রুটে কোচগুলো চলাচল করছে। আমদানি করা ব্রডগেজ কোচ দিয়ে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, বনলতা এক্সপ্রেস, বেনাপোল এক্সপ্রেস চালানো হচ্ছে। এ তিন ট্রেনের প্রতিটিতে ১২টি করে কোচ সংযোজন করা হয়েছে অর্থাৎ তিনটি ট্রেনে মোট ৩৬টি কোচ ব্যবহার করা হয়েছে। আমদানি করা ৫০টি ব্রডগেজ কোচের মধ্যে এখনও ১৪টি কোচ আমাদের স্টকে আছে, প্রয়োজনে এসব কোচ বিভিন্ন রুটে নামোনো হবে।

রেলের প্রকল্প দফতর থেকে আরও জানা যায়, ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা প্রতিটি মিটারগেজ কোচের মূল্য ৩.০৩ কোটি টাকা‌ এবং প্রতিটি ব্রডগেজ কোচের মূল্য ৪.২২ কোটি টাকা। আমদানি করা মিটারগেজ কোচের ১৮টি এসি বার্থ বা প্রথম শ্রেণির এসি স্লিপারযুক্ত কোচ থাকবে ১০টি। ৫৫ সিট বিশিষ্ট এসি চেয়ার কোচ থাকবে ৪০টি। ৬০ সিট বিশিষ্ট শোভন চেয়ার কোচ থাকবে ১১২টি। ১৫ সিট বিশিষ্ট খাবার গাড়ি ও গার্ড ব্রেকসহ কোচ থাকবে ২৫টি। পাওয়ার কার ও নামাজ ঘরসহ কোচ থাকবে ১৩টি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের সদ্য বিদায় নেওয়া পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় মিটারগেজ ও ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার কোচ ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যেই ৫০টি ব্রডগেজ কোচ চলে এসেছে, যা দিয়ে আমরা যাত্রীসেবা দিচ্ছি। মিটারগেজ কোচগুলো ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে চলে আসবে। আধুনিক এসব মিটারগেজ কোচ দেশে চলে আসার পরে বিভিন্ন রুটে সেগুলো নামানো হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেলপথের দৈর্ঘ্য এখন পর্যন্ত ২৯২৯.৫০ কিলোমিটার। সারাদেশে চলাচলকারী মোট যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৬২টি। এরমধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা ৯৬টি। এ দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টেশন চালুসহ এখন পর্যন্ত সর্বমোট স্টেশন রয়েছে ৪০০টি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, যাত্রীসেবা উন্নত করার জন্য নতুন নতুন কোচ বিদেশ থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। নতুন আমদানিকৃত কোচ সমূহের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো একেবারেই আধুনিক কোচ। এসব কোচে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে তার মধ্যে হলো—যাত্রী সাধারণের জন্য আধুনিক মানসম্মত চেয়ার, বার্থ, স্টেয়ার, পার্সেল রেক, টিভি মনিটর হ্যাঙ্গার, ওয়াইফাই রাউটার হ্যাঙ্গার,মোবাইল চার্জারসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র