Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

রাজধানীতে পাকিস্তানি-ভারতীয় কাপড়ে আগ্রহ ক্রেতাদের

রাজধানীতে পাকিস্তানি-ভারতীয় কাপড়ে আগ্রহ ক্রেতাদের
জমে উঠেছে রাজধানীর বিপণী বিতানগুলো, ছবি: সৈয়দ মেহেদী হাসান
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠছে রাজধানীর বিপণী বিতানগুলো। শিশু,বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই ছুটছেন এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে। মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতেও সমানতালে চলছে বেচাবিক্রি। বরাবরের মতো দাম নিয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্যবার দেশীয় কাপড়ে চাহিদা থাকলেও এবার তা দখল করে নিয়েছে পাকিস্তানি ও ভারতীয় কাপড়। শনিবার (২৫ মে) নয়াপল্টনের সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্স, পলওয়েল এবং মৌচাকের মৌচাক এবং ফরচুন মার্কেট ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558785444658.jpgদুপুরে সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, থ্রি পিস ও শাড়ি দোকানের পাশাপাশি বাচ্চাদের কাপড় এবং জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। কাপড়ের দোকানে ছেলে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন লাইক আহমেদ।

কুষ্টিয়ার এ বাসিন্দা ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করেন। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, সাড়ে ১১টার দিকে শপিং করতে এসেছি। এবার হালকা দামের একটি থ্রি পিস ও একটি শাড়ি কিনেছি। ছেলের জন্য শার্ট ও প্যান্ট আর নিজের জন্য টি-শার্ট কিনেছি।

তিনি বলেন, এবারের ঈদে বাজেট পনেরো হাজার টাকা। এই টাকায় অনেক কিছু কিনতে হবে। তাই যাচাই-বাছাই করে একটু কম দাম পেলেই কিনছি। কিন্তু এবার জামা কাপড়ের দাম অনেক বেশি। আরেক ক্রেতা সাদিয়া জামানও পরিবার নিয়ে এসেছেন ঈদবাজার করতে। তিনিও জানালেন, কাপড়ের বাড়তি দামের কথা।

তাদের সঙ্গে কথা শেষে কয়েক পা ফেলতেই দেখা গেল বুটিক কাপড়ের দোকান ‘মমতা’। সেখানেও উপচে পড়া ভিড় ক্রেতাদের। ওই বুটিকের দোকান মালিক মো. মামুন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘লোকজন আসছে, বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে। তবে গতবারের মত নয়।’ 

তিনি বলেন, আমার দোকানে ১৫ বছরের বেশি মেয়েদের কাপড় রয়েছে। সর্বনিন্ম এক হাজার ১০০ টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত কাপড় রয়েছে।তার পাশের দোকান ইকরা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহবুল আলম। ঈদের বেচাবিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার বেচা-কেনা খারাপ হচ্ছে না। তবে প্রত্যাশা অনুসারে হচ্ছে না। এবার পাকিস্তানি আর ভারতীয় কাপড়েই বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। বিক্রিও হচ্ছে বেশি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558785587927.jpgসেন্টাল টার্চ নামের অপর এক দোকানের মালিক মো. শাহদাত হোসাইন বলেন, কাস্টমার আসছেন, দেখছেন, কেনা-বেচাও হচ্ছে। তবে বড়দের চেয়ে এবার বাচ্চাদের কাপড় বিক্রি বেশি হচ্ছে। একই কথা জানালেন, কচি এন্টারপ্রাইজের মালিক এলমানও। তিনি বলেন, বেচা-কেনা ভালই হচ্ছে। তার দোকানে ছেলেদের সবধরনের জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট রয়েছে। দামও কম।

তবে পলওয়েল মাকের্টের পাঞ্জাবী, টি-শার্ট ও শার্টের দোকান ফারাবী ট্রেডাসের মালিকের দাবি তাদের ব্যবসা নেই। তিনি বলেন, ওভার অল ব্যবসা খারাপ হওয়ার কেনা বেচাও কম। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ পরই ৯দিনের ছুটি। সবাই গ্রামের বাড়ি চলে যাবে। আশা ছিল এখনি কেনা-বেচা হবে কিন্তু কাস্টমার নেই।  

মেন্স ক্লাব জুতার দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর কিছু কেনা বেচা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় দোকান খুলেছি এখন পর্যন্ত কেবল একজোড়া জুতা বিক্রি হয়েছে। এখন সময় দুপুর দেড়টা। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, এবার ছোটদের কাপড়ের দোকানেই ভিড় বেশি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558785483481.jpgতানজিনা এন্টারপ্রাইজ, সোনিয়ার বস্ত্র বিতানসহ বাচ্চাদের কাপড়ের দোকানগুলোতেই ভিড় ক্রেতাদের। একই অবস্থা ফরচুন ও মৌচাক মার্কেটেও। বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ বিষয়ে অধিকাংশ দোকানদার বলেন, তারা এবার তুলনামূলক কম লাভেই বিক্রি করছেন পণ্য। দামও ক্রেতাদের হাতের নাগালেই রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

গান্ধী আশ্রমের ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই

গান্ধী আশ্রমের ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই
ঝর্ণা ধারা চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত

একুশে পদক, রোকেয়া পদক ও ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই। মুত্যৃকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় স্কয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

ঝর্ণা ধারা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাহা নব কুমার বলেন, ‘ঝর্ণা ধারা চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। পরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাকে রাজধানীতে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে আজ ভোরে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।’

ঝর্ণাধারা ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মানব সেবায় নিয়োজিত এই নারী সংসার জীবনে যাননি। গান্ধী আশ্রমের সমাজকর্মী হিসেবে ছুটে চলেন গ্রাম থেকে গ্রামে
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত হন।

সমাজসেবক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক বাজাজ পুরস্কার ১৯৯৮, শান্তি পুরস্কার ২০০০, অনন্যা ২০০১, দুর্বার নেটওয়ার্ক পুরস্কার ২০০৩, কীর্তিমতি নারী পুরস্কার ২০১০, একুশে পদক ২০১৫, বেগম রোকেয়া পদক ২০১৩, সাদা মনের মানুষ পদক ২০০৭ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পদক পেয়েছেন।

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষর দিবস উদযাপন
প্রতীকী স্বাক্ষর করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিস্কোতে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন স্বাক্ষরিত হয় জাতিসংঘ সনদ। দিনটি স্মরণে এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বুধবার (২৬ জুন) এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ।

সনদ স্বাক্ষরের দিনটির প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠানে প্রতীকী স্বাক্ষর করেন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের পক্ষে প্রতীকী স্বাক্ষর
করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

প্রতীকী স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে জাতিসংঘের ছয়টি দাফতরিক ভাষায় জাতিসংঘ সনদের মুখবন্ধ সম্বলিত একটি পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সনদ স্বাক্ষরের সেই ঐতিহাসিক দিনের (১৯৪৫ সালের ২৬ জুন) তথ্য সম্বলিত একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য দেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ এবং জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনের বিশেষ উপদেষ্টা ফ্যাবরিজিও হচ্চাইল্ড ড্রামমন্ড।

a
বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি মিস মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ, ছবি: সংগৃহীত

 

জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরের দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে সাধারণ পরিষদ সভাপতি বলেন, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজও আমরা সান ফ্রানসিস্কোর সেই দিনটির শক্তিকে অনুভব করতে পারি। আজ আমরা এখানে প্রতীকী স্বাক্ষর করলাম। এজেন্ডা ২০৩০ এবং প্যারিস চুক্তিসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করা অন্যান্য চুক্তি ও কনভেনশন যেমন অভিবাসন, সমুদ্র সম্পদ ও আইন, খাদ্য নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, স্বাস্থ্য অথবা নারীর ক্ষমতায়ন
ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের প্রতিজ্ঞাগুলো অটুট রাখতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের সপ্তাহেও আমরা দূরদর্শী ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেব।”

বহুপক্ষবাদ এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী বছর জাতিসংঘের পঁচাত্তর বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশেগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র