রাজধানীতে পাকিস্তানি-ভারতীয় কাপড়ে আগ্রহ ক্রেতাদের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জমে উঠেছে রাজধানীর বিপণী বিতানগুলো, ছবি: সৈয়দ মেহেদী হাসান

জমে উঠেছে রাজধানীর বিপণী বিতানগুলো, ছবি: সৈয়দ মেহেদী হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠছে রাজধানীর বিপণী বিতানগুলো। শিশু,বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই ছুটছেন এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে। মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতেও সমানতালে চলছে বেচাবিক্রি। বরাবরের মতো দাম নিয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, অন্যান্যবার দেশীয় কাপড়ে চাহিদা থাকলেও এবার তা দখল করে নিয়েছে পাকিস্তানি ও ভারতীয় কাপড়। শনিবার (২৫ মে) নয়াপল্টনের সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্স, পলওয়েল এবং মৌচাকের মৌচাক এবং ফরচুন মার্কেট ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558785444658.jpgদুপুরে সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, থ্রি পিস ও শাড়ি দোকানের পাশাপাশি বাচ্চাদের কাপড় এবং জুতার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের চেয়ে বেশি। কাপড়ের দোকানে ছেলে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন লাইক আহমেদ।

কুষ্টিয়ার এ বাসিন্দা ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি করেন। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, সাড়ে ১১টার দিকে শপিং করতে এসেছি। এবার হালকা দামের একটি থ্রি পিস ও একটি শাড়ি কিনেছি। ছেলের জন্য শার্ট ও প্যান্ট আর নিজের জন্য টি-শার্ট কিনেছি।

তিনি বলেন, এবারের ঈদে বাজেট পনেরো হাজার টাকা। এই টাকায় অনেক কিছু কিনতে হবে। তাই যাচাই-বাছাই করে একটু কম দাম পেলেই কিনছি। কিন্তু এবার জামা কাপড়ের দাম অনেক বেশি। আরেক ক্রেতা সাদিয়া জামানও পরিবার নিয়ে এসেছেন ঈদবাজার করতে। তিনিও জানালেন, কাপড়ের বাড়তি দামের কথা।

তাদের সঙ্গে কথা শেষে কয়েক পা ফেলতেই দেখা গেল বুটিক কাপড়ের দোকান ‘মমতা’। সেখানেও উপচে পড়া ভিড় ক্রেতাদের। ওই বুটিকের দোকান মালিক মো. মামুন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘লোকজন আসছে, বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে। তবে গতবারের মত নয়।’ 

তিনি বলেন, আমার দোকানে ১৫ বছরের বেশি মেয়েদের কাপড় রয়েছে। সর্বনিন্ম এক হাজার ১০০ টাকা থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত কাপড় রয়েছে।তার পাশের দোকান ইকরা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাহবুল আলম। ঈদের বেচাবিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার বেচা-কেনা খারাপ হচ্ছে না। তবে প্রত্যাশা অনুসারে হচ্ছে না। এবার পাকিস্তানি আর ভারতীয় কাপড়েই বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। বিক্রিও হচ্ছে বেশি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558785587927.jpgসেন্টাল টার্চ নামের অপর এক দোকানের মালিক মো. শাহদাত হোসাইন বলেন, কাস্টমার আসছেন, দেখছেন, কেনা-বেচাও হচ্ছে। তবে বড়দের চেয়ে এবার বাচ্চাদের কাপড় বিক্রি বেশি হচ্ছে। একই কথা জানালেন, কচি এন্টারপ্রাইজের মালিক এলমানও। তিনি বলেন, বেচা-কেনা ভালই হচ্ছে। তার দোকানে ছেলেদের সবধরনের জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট রয়েছে। দামও কম।

তবে পলওয়েল মাকের্টের পাঞ্জাবী, টি-শার্ট ও শার্টের দোকান ফারাবী ট্রেডাসের মালিকের দাবি তাদের ব্যবসা নেই। তিনি বলেন, ওভার অল ব্যবসা খারাপ হওয়ার কেনা বেচাও কম। তাছাড়া আগামী সপ্তাহ পরই ৯দিনের ছুটি। সবাই গ্রামের বাড়ি চলে যাবে। আশা ছিল এখনি কেনা-বেচা হবে কিন্তু কাস্টমার নেই।  

মেন্স ক্লাব জুতার দোকানদার জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর কিছু কেনা বেচা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় দোকান খুলেছি এখন পর্যন্ত কেবল একজোড়া জুতা বিক্রি হয়েছে। এখন সময় দুপুর দেড়টা। মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, এবার ছোটদের কাপড়ের দোকানেই ভিড় বেশি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558785483481.jpgতানজিনা এন্টারপ্রাইজ, সোনিয়ার বস্ত্র বিতানসহ বাচ্চাদের কাপড়ের দোকানগুলোতেই ভিড় ক্রেতাদের। একই অবস্থা ফরচুন ও মৌচাক মার্কেটেও। বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ বিষয়ে অধিকাংশ দোকানদার বলেন, তারা এবার তুলনামূলক কম লাভেই বিক্রি করছেন পণ্য। দামও ক্রেতাদের হাতের নাগালেই রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :