দিন ভালো যাচ্ছে না জ্যোতিষী রাখাল বাবুদের

নূর আহমদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
রাখাল বাবু। ছবি: বার্তা২৪.কম

রাখাল বাবু। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আমি জ্যোতিষীর কাছে যাব/ তারে গোপনে সুধাব/ যারে আমার ভালো লাগে/ তারে কী পাব- গো’ এমন সব জনপ্রিয় গানে উঠে এসেছে জ্যোতিষীদের কথা। চাকরি, প্রেম, বিয়ে, পরিবার ও স্বাস্থ্যের মতো ব্যক্তিগত বিষয়েও করেন ভবিষ্যৎ বাণী।

‘সামনে আপনার ভীষণ বিপদ’ অথবা ‘আর কদিন পরেই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে আপনার ভবিষ্যৎ’ এমন সব চমকপদ বাণী দিয়েও বিশ্বাস অর্জন করে নিতে জুড়ি ছিল না তাদের। তবে আজ আর সেই দিন নেই গ্রামীণ জনপদে ‘গণক’ হিসেবে পরিচিত জ্যোতিষীদের।

গ্রামীণ জ্যোতিষীদের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ আর হাতে ছাতা নিয়ে মেঠো পথ ধরে হেঁটে চলা ছিল চিরাচরিত দৃশ্য। আজ আর সেই দৃশ্য খুব একটা চোখে পড়ে না। জ্যোতিষীদের কথায় যুক্তিবাদীদের বিশ্বাস রাখা কষ্টকর হলেও যেকারো মন দুর্বল হয়ে যাওয়াটা ছিল স্বাভাবিক।

বিশেষ করে সাধারণ নারীরা প্রবল বিশ্বাস থেকে দরজার ওপাশ থেকে মেহেদি রাঙা হাত বাড়িয়ে দিতেন গণকের দিকে। গণকও হাতের রেখা দেখে বিরামহীন বলে যেতেন ভবিষ্যৎ বাণী। বিনিময়ে ভালোই রোজগার হতো তাদের।

জ্যোতিষী রাখাল আচার্য্যের মতে, এখন আর আগের মতো ভালো নেই তারা। নতুন প্রজন্ম খুব একটা গুরুত্ব দেয় না তাদের জ্যোতিষী বিদ্যায়।

রাখাল আচার্য্যের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার আকিলপুর গ্রামে। সবার কাছে তিনি ‘রাখাল বাবু’ হিসেবে পরিচিত। মানুষের ভবিষ্যৎ বাণী বলে দেয়ার উদ্দেশে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের চাতলীবন্দ গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরছিলেন তিনি। এমন সময় বার্তা২৪.কমের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় রাখাল বাবুর।

রাখাল বাবু জানান, মেট্রিক পাশ করেছিলেন সত্তরের দশকে। এরপর জ্যোতিষী বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে নেমে পড়েন হাতের রেখা গণনায়। ভাগ্য বলে দিয়ে এমন রোজগারে ভালোই চলছিল তার। এরপর পরিচিতি পান রাখাল বাবু নামে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে রাখাল বাবুর সুনাম। হাতের রেখা দেখে বলে দেয়া ভবিষ্যৎ বাণীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অনেকে খুশি হয়ে বাড়তি টাকা পয়সা দিত। আবার কেউ কেউ বাড়ি থেকে খুঁজে নিয়ে আসত তাকে। অবশ্য সেই পণ্ডিত রাখাল বাবু জানান, আগের দিন আর এখন নেই। গ্রাম ছেড়ে এখন শহরমুখী তিনি।

রাখাল বাবু বার্তা২৪.কমকে জানান, বর্তমান প্রজন্মের এখন আর এই বিদ্যায় পাণ্ডিত্য অর্জনে আগ্রহ নেই। এক সময় গ্রামের সাধারণ মানুষ ঘরের মেঝেতে চেয়ার বের করে দিত। এমনকি মুসলিম ঘরের নববধূও দরজার আড়ালে থেকে হাত বের করে দিয়ে বলতেন- দেখেনতো আমার ভাগ্যে কী আছে। এ রকম কতো স্মৃতিই না আছে তার জীবনে।

এখন আয় কেমন হয় এমন প্রশ্নে রাখাল বাবু জানান, দিনে ৭-৮শ টাকা মিলে। গ্রামে গেলে ১০-২০ টাকার বেশি কেউ দিতে চায় না। আগে অনেক টাকা আয় হতো।

তিনি জানান, তার এক ছেলে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এবার মাস্টার্স পাশ করেছে। অন্য ছেলে সিলেট এম এ জি ওসমানী নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা করছে।

রাখাল বাবুর মতে, জীবনে চলার পথে কতো কিছুর উপরে মানুষের জানার আগ্রহ থাকে। সেই অদম্য ইচ্ছা জাগ্রত করে এই বিদ্যায় নতুন প্রজন্মকে পারদর্শী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অবশ্য তার পরিবারের কেউ আর এই পেশায় নেই বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :