Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

পুঠিয়ায় কার্ডধারী কৃষক সেজে গুদামে ধান দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা!

পুঠিয়ায় কার্ডধারী কৃষক সেজে গুদামে ধান দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা!
ধান বিক্রি করা কার্ডধারীদের অধিকাংশই আড়তদার, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় আড়তদারদের কার্ডধারী কৃষক সাজিয়ে তাদের থেকে ধান ক্রয় করে গুদামে দিচ্ছে প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন উপজেলার কৃষকরা। তবে প্রশাসন বলছে- অনেক ব্যবসায়ীও পেশায় কৃষক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, শনিবার (২৫ মে) বেলা ১১টার দিকে পুঠিয়া পৌরসভার ঝলমলিয়া বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান ক্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ধান ক্রয় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওলিউজ্জামান ও উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিলিটি) জালাল উদ্দীন সরর্দার উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের নামে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের কাছ থেকে ধান কেনে প্রশাসন। কৃষকরা ধান দিতে গেলে কার্ডধারী ছাড়া কারও কাছ থেকে ধান নেওয়া হবে না বলে জানানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558787244100.jpg
সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু, ছবি: বার্তা২৪

শফিকুল আলম নামের এক কৃষক বার্তা২৪.কম-কে অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসনের ধান কেনার বিষয়টি জেনে তিনি সেখানে ধান নিয়ে যান। কিন্তু তার ধান নেননি তারা। কৃষক শফিকুল কারণ জিজ্ঞেস করলে প্রশাসনের লোকজন তাকে জানায়- ‘কার্ডধারী কৃষকদের কাছ থেকে শুধু ধান নেওয়া হচ্ছে।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওখানে যারা ধান দিচ্ছে, তাদের অধিকাংশই আমাদের চেনা-জানা। তাদের মাঠে কোনো চাষাবাদ নেই। ঝলমলিয়া বাজারে তাদের আড়ত আছে। ধান কিনে আড়তে রাখেন। তারাই কার্ডধারী কৃষক সেজে ধান বিক্রি করছে। আর আমরা বাধ্য হয়ে আড়তদারদের কাছেই ধান বিক্রি করছি।’

আব্দুল ওয়াহাব নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘ধান ক্রয় কর্মসূচি প্রশাসনের ফটোসেশন ছাড়া কিছুই না। সাংবাদিকদের সামনে আজ যারা ধান বিক্রি করল, তারা ব্যবসায়ী এটা সবাই জানে। অথচ ক্যামেরার সামনে তারা হঠাৎ কার্ড বের করে কার্ডধারী কৃষক হয়ে গেল।’

কৃষক রঞ্জু বলেন, ‘ধান নিচ্ছে আড়তদারদের। আমরা ধান নিয়ে এসে ওখানে (গুদামে) দিতে না পেরে বাধ্য হয়ে আড়তে দিলাম। মণপ্রতি দেড়শো টাকা কমে বিক্রি করতে হল। আমাদের কাছ থেকে প্রশাসন গুদামে দেওয়ার জন্য ধান কিনল আমরা মনপ্রতি দেড়শো টাকা লাভবান হতে পারতাম।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেন উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দীন সরর্দার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনেই ধান কিনেছি। অনেক সময় দেখা যায়- কৃষকরাই ব্যবসায়ী হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার কাছ থেকে আমি যখন ধান কিনছি, অন্যরা তখন ভাবতে পারে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কিনছি। বিষয়টি আসলে তেমন নয়, এ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য ক্রয় কমিটির সভাপতি মো. ওলিউজ্জামান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে আজ ঝলমলিয়া হাটে ধান কেনা হয়। কৃষি বিভাগের তালিকা অনুসারে ধান কেনা হয়েছে।’ তবে এতে যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছর পুঠিয়া উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের নিকট থেকে ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ৮৮ মেট্রিকটন ধান ক্রয় করা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা
আতাউর রহমান আতা, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আতা। ২০০১ সালে নাট্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছিলেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আতাউর রহমানকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে আতাউর রহমানের জন্ম। স্কুলজীবনেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আতাউর রহমান প্রথম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭২ সালে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এর মাধ্যমে তার নাট্য নির্দেশনা শুরু। পরে নিজের দল ও অন্য দলের হয়ে অসংখ্য নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মঞ্চ নাটকের নির্দেশনার পাশাপাশি আতাউর রহমান অভিনয়ও করছেন সমানতালে। এ ছাড়া নাট্য বিষয়ক বই, নাট্যসমালোচনা, উপস্থাপনা, শিক্ষকতা, টেলিভিশন নাট্যকার, প্রবন্ধকার, বক্তা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে আতাউর রহমানের সরব পদচারণা।

বরিশালে কমছে ডেঙ্গু রোগী

বরিশালে কমছে ডেঙ্গু রোগী
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্তরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরিশালে কমতে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতেও কমছে রোগী ভর্তির সংখ্যা। ঈদুল আজহা ঘিরে এ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তুলনামূলক বাড়েনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে ৩৭ জন ‍পুরুষ, ১৫ জন মহিলা ও ৯ জন শিশু। সব মিলিয়ে বর্তমানে শেবাচিমে ২৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার মধ্যে ১৪৬ জন পুরুষ, ৫৬ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু রয়েছে।

বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন শেবাচিম পরিচালক ডাক্তার মোঃ বাকির হোসেন।

এ সময় তিনি জানান, গত তিন থেকে চার দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী শেবাচিম হাসপাতালে তুলনামূলক কম ভর্তি হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশাবাদী ঐ পরিচালক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566039735609.gif

শেবাচিমে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুক্রবারের ৫০ জন, বৃহস্পতিবার ৬৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল। এর আগে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ জন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হতো।

এদিকে শনিবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী। শুক্রবার সকালের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৯১ জন ও বৃহস্পতিবার ১১৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

ঈদের পরে ১৪ আগস্ট হাসপাতালে ৩৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। ১৫ আগস্ট ছিল ২৯৯ এবং ১৬ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৫৮ জনে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত এক মাসে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত এক হাজার ১৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯১২ জন। আর মৃত্যু হয়েছে শিশুসহ চার জন রোগীর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র