Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই খাল খনন

দলিল হাতে দিনভর জমি পাহারা দিচ্ছেন রহিমা

দলিল হাতে দিনভর জমি পাহারা দিচ্ছেন রহিমা
জমি হারানোর শঙ্কায় দলিল হাতে পাহারা দিচ্ছেন রহিমা বেগম/ ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বেলগাছি গ্রামের বৃদ্ধা রহিমা বেগম (৭০)। দলিল-পর্চাসহ কাগপত্র নিয়ে গেল সপ্তাহ ধরে দিনভর জমি পাহারা দিচ্ছেন। শনিবারও (২৫ মে) তীব্র রোদ উপক্ষো করে জমি পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। তার পিছনের জমিতে চলছে ভ্যাকু দিয়ে খাল খনন। দুপুর দেড়টার দিকে সেখানে গিয়ে কাগজ নিয়ে জমিতে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন বৃদ্ধা রহিমা।

জানালেন, ৪৮ বছর আগে স্বামী হারানো রহিমার শেষ সম্বল ১৮ কাঠা জমি। ঐ জমির এক কোণে তার ছোট্ট কুঁড়েঘর। চলতি বছর জমি থেকে ১৮ মণ ধান পেয়েছেন। এ ধানেই সংসার চলে তার। পাঁচ মেয়ের সবাইকে বিয়ে দিয়েছেন। আয়ের উৎস জমিটুকুই। যা হারানোর শঙ্কায় ক্ষণ গুণছেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558793404549.jpg
রহিমা বেগমের ঘর/ ছবি: বার্তা২৪.কম

 

রহিমা বেগম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ক’দিন আগেও এই জমিতে ছয়টি মেহগনি গাছ ছিল। খাল খোঁড়ার কথা বলে অপরিচিত লোকজন এসে তা কেটে ফেলেছে। এলাকার অনেক হোমড়া-চোমড়া নেতাদের কাছে গেছি, সবাই বলছে- তারা কিছুই করতে পারবে না। এত জায়গা রেখে আমার জমিটুকুই কি ওদের (প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা) নজরে পড়ল!’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুকনো মৌসুমে পানি রাখা ও বর্ষা মৌসুমে নিষ্কাশনের জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী- বাঘার মোশিদপুর থেকে নওটিকা আরিফপুর পর্যন্ত আট দশমিক দুই কিলোমিটার জমিতে খাল খনন করা হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, অধিগ্রহণ ছাড়াই ফসলি জমিতে খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন করানো হয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে এলাকার কৃষকদের না খেয়ে থাকতে হবে।

বিএমডিএ’র প্রকৌশলীরা বলছেন, কোনো প্রকার সার্ভে না করেই প্রকল্প শুরু করার কারণে এমনটি হচ্ছে।

রহিমা বেগম যে জমি পাহারা দিচ্ছেন তার পাশের জমিতে ধান কাটছিলেন চন্ডিপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামের আশাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনুমোদিত প্রকল্পের সম্পূর্ণটা ফসলি জমি। আমাদের কিছু না জানিয়ে, ভূমি অধিগ্রহণ না করে প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। আমার সব মিলিয়ে ৩২ কাঠার মতো জমি আছে। খাল খনন হলে প্রায় সবটুকু খালে চলে যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558793673420.jpg

চাকিপাড়া গ্রামের এক একর ৩২ শতাংশ জমির মালিক একরামূল হক। যার সবটুকু খনন প্রকল্পের আওতায় পড়েছে। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘৩৫ বছর আগে খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেয়। তখনও আমাদের বাপ-চাচারা কাগজপত্র দেখানোয় জমির উপর দিয়ে আর খাল খনন করেনি। এখন অধিগ্রহণ ছাড়াই গোপনে প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে খাল খনন প্রকল্প চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ৩০ জন ভুক্তভোগী একসঙ্গে আদালতে মামলা করেছি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছি। বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না প্রশাসন ও প্রকল্পের লোকজন। প্রকল্পের টাকায় আর্থিকভাবে লাভবান হতে বিএমডিএ ও স্থানীয় প্রশাসন ফসলি জমিতে খাল খনন করতে মরিয়া।’

এদিকে, ফসলি জমি দখল করে খাল খনন বন্ধের দাবিতে শনিবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রগাথী গ্রামে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। কর্মসূচিতে দুই শতাধিক জমির মালিক জমির কাগজপত্র নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা ভূমি অধিগ্রহণ করে খাল খননের দাবি জানান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558793643046.jpg

মানববন্ধনের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে খাল খনন ও মানববন্ধন কর্মসূচি দুটোই বন্ধ করে দেন।

জানতে চাইলে ইউএনও বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘খাল খননের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ঝামেলা হচ্ছে শুনে সেখানে গিয়েছিলাম। খনন কাজ একদিনের জন্য বন্ধ করে দিয়ে এসেছি। ভুক্তভোগীদের বলেছি- একদিনের মধ্যে তারা যেন উপযুক্ত কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে দেখায়। কাগজপত্র দেখার পর এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানতে চাইলে বিএমডিএ-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী খান জাফরুল মাহমুদ মেহেদী বলেন, ‘স্থানীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশে খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের আওতায় পড়া জমি সার্ভে করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। সার্ভে করা গেলে হয়তো এমন অসুবিধায় পড়তে হতো না।’

আপনার মতামত লিখুন :

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে
পলাতক আসামি তারেক রহমান ও মো. তাজউদ্দিন

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জঙ্গি নেতা মাওলানা মো. তাজউদ্দিন। এদের মধ্যে তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে ও তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তাদের দেশে ফেরাতে নানা ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে সরকার। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাদের গ্রেফতারে রেড অ্যালার্ট জারি করলেও তাদের ফেরানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, আফগান-ফেরত মুজাহিদদের নিয়ে বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম (হুজি-বি)। ২০০০ সাল ও তার পরবর্তী পাঁচ বছর এই জঙ্গি সংগঠনটি ভয়ানক হয়ে ওঠে। ওই পাঁচ বছরে তারা শতাধিক মানুষ হত্যাসহ ১৩টি গ্রেনেড হামলা চালায়। যার মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলা অন্যতম। অভিযোগ আছে, পরবর্তী সময়ে ওই হামলার তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে বিএনপি-জামায়াত সরকার। আর সেটিরও নেতৃত্ব দেন বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পরবর্তী সময়ে আসামিদের স্বীকারোক্তিতে হামলায় তারেক রহমানের সমর্থন থাকার প্রমাণ মেলে। আর অভিযোগ প্রমাণিত হাওয়ায় গত বছর ১৯ জনকে ফাঁসি, তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ১৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো পলাতক।

এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা হয় তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে। তিনি এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এই আসামি এখন লন্ডনে পালিয়ে আছেন।’

এই মামলার রায় হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয় তরেক রহমানের নামে। পরে এ মামলার রায়ের পর দ্বিতীয়বারের মতো নোটিশ জারি করে সংস্থাটি। তবে কোনো নোটিশেই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও হুজির শীর্ষ নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। তাকেও ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টের পরও পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে থাকি। আগেও ৩-৪ জন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল আমাদের সহায়তা করেছে। আশা করছি, সংস্থাটির সহায়তায় বাকিদেরও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘তারেক রহমান এই ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তিনি সময়মতো দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করে আপিল করবেন।’

‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে হাল ছাড়েনি সরকার’

‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে হাল ছাড়েনি সরকার’
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ছবি: বার্তা২৪

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাল ছাড়েনি সরকার। এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সেদেশে কোনো ক্রিমিনাল রাখবেন না। তার এই নীতি ঠিক থাকলে সেদেশে অবস্থানকারী রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।’

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ঢাকা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতি এ সভার আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর ঘটনাই বলে জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের নায়কদের ধরার জন্য অবশ্যই কমিশন গঠন করা হবে। তবে এই কমিশনের কাজ অতটা সহজ হবে না। কারণ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৪ বছর পর এই কমিশন গঠন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জানে যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত তাই তারা এর বিচার করেনি। এমনকি ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর উচ্চ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কাজ বন্ধ করে রেখেছিল।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। তাই আসুন আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে সকল ষড়যন্ত্র নষ্যাৎ করি।’

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান প্রমুখ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নিষ্ঠুরতার কথা তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র