Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন কাজী নজরুল’

‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন কাজী নজরুল’
নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেছেন, ‘নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। শোষণের বিরুদ্ধে লিখে তিনি ব্রিটিশদের রোষানলে পড়ে কারাবরণ করেছেন। ধর্ম ব্যবসায়ীদের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন। এতে কাফের নামেও অভিহিত হয়েছিলেন। তার চিন্তা ও কর্মে ছিল মানবতার মুক্তি ও শোষণের বিরুদ্ধে আহ্বান।’

শনিবার (২৫ মে) বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুল একাডেমি মাঠের নজরুল মঞ্চে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নজরুল জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

জাতীয় কবির কাছ থেকে বাঙালি জাতি অর্জন করেছে প্রতিবাদের ভাষা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার কারণে কবি নজরুল ইসলামকে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে। তবুও তিনি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লিখেছেন। লিখেছেন মানবতার পক্ষে। তাই নজরুল ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন। কিন্তু কোনো কিছুই জাতীয় কবিকে ভীত করে দমাতে পারেনি। আমরা তাঁর কাছ থেকে লাভ করেছি সাহস ও শৌর্য অর্জন করেছি প্রতিবাদের ভাষা। আর তাই ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং আজও আমাদের যেকোনো প্রতিবাদে নজরুল আমাদের নিত্যসঙ্গী।’

নজরুলের সঙ্গীত ও সাহিত্যকে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘নজরুল ইন্সটিটিউট অনেক গবেষণা করছে। নজরুল সাহিত্যকে বিশ্ববাসীর সামনে পরিচিত ও আদৃত করতে বাংলার সৃজনশীল সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে বিদেশি ভাষায় আমাদের সাহিত্যকে আরও অনুবাদ করা জরুরি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558797814098.jpg

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কাজী নজরুলের চিন্তার দারুণ মিল ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নজরুলের লেখনি থেকেই বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন আমাদের মুক্তির সেই অমর স্লোগান- জয় বাংলা। তার লেখা থেকেই বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন এই দেশটির নাম- বাংলাদেশ।’

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কাজী খালিদ বাবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মো. হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবিপৌত্রী ও কবি নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য খিলখিল কাজী। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ নজরুল স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

এদিকে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলেক্ষে নজরুল একাডেমি স্কুল মাঠে বসেছে গ্রামীণ মেলা। নানা স্থান থেকে মেলায় এসেছে কারুপণ্যের শত শত স্টল। এছাড়া রয়েছে বাঁশের বাঁশি, নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী সামগ্রী ও হরেক রকমের খাবার। রোববার (২৬ মে) ও সোমবার (২৭ মে) একই মঞ্চে নজরুলের জীবনী নিয়ে আলোচনা, গান, নৃত্য ও নাট্যানুষ্ঠান হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টেও ফেরানো যাচ্ছে না তারেক-তাজউদ্দীনকে
পলাতক আসামি তারেক রহমান ও মো. তাজউদ্দিন

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের মধ্যে অন্যতম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জঙ্গি নেতা মাওলানা মো. তাজউদ্দিন। এদের মধ্যে তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে ও তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তাদের দেশে ফেরাতে নানা ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে সরকার। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাদের গ্রেফতারে রেড অ্যালার্ট জারি করলেও তাদের ফেরানো সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, আফগান-ফেরত মুজাহিদদের নিয়ে বাংলাদেশে গড়ে তোলা হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম (হুজি-বি)। ২০০০ সাল ও তার পরবর্তী পাঁচ বছর এই জঙ্গি সংগঠনটি ভয়ানক হয়ে ওঠে। ওই পাঁচ বছরে তারা শতাধিক মানুষ হত্যাসহ ১৩টি গ্রেনেড হামলা চালায়। যার মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলা অন্যতম। অভিযোগ আছে, পরবর্তী সময়ে ওই হামলার তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে বিএনপি-জামায়াত সরকার। আর সেটিরও নেতৃত্ব দেন বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পরবর্তী সময়ে আসামিদের স্বীকারোক্তিতে হামলায় তারেক রহমানের সমর্থন থাকার প্রমাণ মেলে। আর অভিযোগ প্রমাণিত হাওয়ায় গত বছর ১৯ জনকে ফাঁসি, তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ১৮ জন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো পলাতক।

এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা হয় তারেক রহমানের হাওয়া ভবনে। তিনি এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া এই আসামি এখন লন্ডনে পালিয়ে আছেন।’

এই মামলার রায় হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয় তরেক রহমানের নামে। পরে এ মামলার রায়ের পর দ্বিতীয়বারের মতো নোটিশ জারি করে সংস্থাটি। তবে কোনো নোটিশেই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও হুজির শীর্ষ নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। তাকেও ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টের পরও পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিয়ে থাকি। আগেও ৩-৪ জন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল আমাদের সহায়তা করেছে। আশা করছি, সংস্থাটির সহায়তায় বাকিদেরও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘তারেক রহমান এই ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তিনি সময়মতো দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করে আপিল করবেন।’

‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে হাল ছাড়েনি সরকার’

‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনতে হাল ছাড়েনি সরকার’
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ছবি: বার্তা২৪

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাল ছাড়েনি সরকার। এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সেদেশে কোনো ক্রিমিনাল রাখবেন না। তার এই নীতি ঠিক থাকলে সেদেশে অবস্থানকারী রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।’

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ঢাকা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা আইনজীবী সমিতি এ সভার আয়োজন করে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর ঘটনাই বলে জিয়াউর রহমান এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের নায়কদের ধরার জন্য অবশ্যই কমিশন গঠন করা হবে। তবে এই কমিশনের কাজ অতটা সহজ হবে না। কারণ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৪ বছর পর এই কমিশন গঠন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি জানে যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত তাই তারা এর বিচার করেনি। এমনকি ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর উচ্চ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কাজ বন্ধ করে রেখেছিল।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। তাই আসুন আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে সকল ষড়যন্ত্র নষ্যাৎ করি।’

সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গাজী মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান প্রমুখ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নিষ্ঠুরতার কথা তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন আলেখ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র