Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজশাহীতে দুই রোহিঙ্গা নারী ও তিন দালাল আটক

রাজশাহীতে দুই রোহিঙ্গা নারী ও তিন দালাল আটক
আটককৃত রোহিঙ্গা নারী ও দালালরা, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রাম থেকে দুই রোহিঙ্গা নারীসহ তিন দালালকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে আলীপুর গ্রামের হেলার চৌধুরীর বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। তাদেরকে দুর্গাপুর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আটককৃত রোহিঙ্গা নারীরা হলেন- উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা ওরফে রোমানা এবং আরমানের স্ত্রী পারভীন ওরফে ইয়াসমিন।

আটক তিন দালাল হলেন- রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামের আলী আহমেদ চৌধুরীর ছেলে হেলাল চৌধুরী, ঝিনাইদহের শৈলকূপার রঘুনাথপুরের আজিম উদ্দিন মোল্লার ছেলে আল মামুন, মেহেরপুরের গাংনী ইউনিয়নের বাথানপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে সাগর আহমেদ।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব দুপুর আড়াইটার দিকে বার্তা২৪.কম-কে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর রাতে তাদেরকে আটক করে থানায় আনা হয়। এখনও তাদেরকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসানও এখানে উপস্থিত রয়েছেন।

ওসি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে- বাংলাদেশি পাসপোর্ট করে ওই দুই রোহিঙ্গা নারীকে রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে ভারত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের পরিকল্পনা করছিল দালাল চক্রের সদস্যরা। সেই অনুযায়ী তাদেরকে আলীপুর গ্রামের বাড়িতে রেখে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্নও করে তারা। এরই মধ্যেই পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।'

তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে বিস্তারিত জানানো যাবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে অপহরণ, দুর্গম চর থেকে উদ্ধার

রাজধানীতে অপহরণ, দুর্গম চর থেকে উদ্ধার
অপহৃতকে উদ্ধার করে র‍্যাব, ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর হতে প্রাইভেটকারসহ অপহরণের চারদিন পর দুর্গম চর এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এছাড়া অপহরণের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) র‍্যাব সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, 'রাজধানী থেকে অপহরণের চারদিন পর, মাদারীপুরের শিবচর থানা এলাকার পদ্মার দুর্গম চরের কাশবন থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া এ ঘটনার সংঘবদ্ধ অপহরণকারীচক্রের চার সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।'

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা
চাকরিপ্রাপ্ত সেফহোমের বাকপ্রতিবন্ধীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মায়া, তারা, লতা, আসমা, সকলেই বাকপ্রতিবন্ধী। কেউ কথা বলতে পারেন না। এমনকি কেউ কেউ আবার কানেও শুনতে পান না। কথা বলেন ইশারায়। রাজশাহী সেফহোমে থাকা মায়া ও আসমার মত আরও ১০ জন মেয়েকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সেফহোমের ব্যবস্থাপক লাইজু রাজ্জাক।

ফলে সেফহোমের বন্দী জীবন ছেড়ে নতুন পৃথিবীতে পা রাখছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ওদের বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেফহোম কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান শুরুর পর আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অতিথিদের অনেকের চোখই ভিজে ওঠে।

বেসরকারি সংস্থা ‘ইউসেফ বাংলাদেশে’র পক্ষ থেকে এই মেয়েদের সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর তাদের মাধ্যমেই স্কয়ার গ্রুপের টেক্সটাইল ডিভিশনে এদের চাকরির বন্দোবস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অবস্থিত।

অনুষ্ঠানে ইউসেফ’র প্রশিক্ষক রউফুল ইসলাম বলেন, তারা এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন। প্রশিক্ষণ নেওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরা হলেন- মায়া সুলতানা (১৮), আসমা খাতুন (২০), নাসরিন খাতুন (২৪), তারা (২৫), সালমা (২১), তানিয়া (২৫), আলোকি (২৪), লতা (২৬), জাহানারা (৩০) ও হাজেরা (১৮)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518368316.jpg

তাদের বিদায় অনুষ্ঠানে সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক শোনালেন কীভাবে তাদের চাকরির জোগাড় হলো। তিনি একদিন ইউসেফ বাংলাদেশের রাজশাহী কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন ‘চাকরির মেলা’ শিরোনামে একটি নোটিশ ঝুলছে। সেখানে গিয়ে তিনি বিস্তারিতভাবে সব তথ্য জানতে পারেন।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার পর তারা মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য যে, এই চাকরির মেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোটা ছিল। পরবর্তিতে সেফহোমের ১৫ জন মেয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্কয়ার গ্রুপ’র কর্মকর্তারা আসেন পরীক্ষা নিতে। সেফহোমেই পরীক্ষা নেওয়া হয় তাদের কাজের। সে পরীক্ষায় পাস করেন ১০ জন এবং পাস করার সাথে সাথেই তাদের দেওয়া হয় নিয়োগপত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518405236.jpg

প্রথম অবস্থায় তারা মাসে ছয় হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। কাজে ভালো করলে পরের বছরই বেতন বেড়ে হবে ১২ হাজার। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা তারাই করবে। এজন্য মাসে বেতন থেকে ২ হাজার টাকা কাটা যাবে।

সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জানান, আগামী শনিবার তিনি এই মেয়েদের নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাবেন। নিজ হাতে তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে দিয়ে আসবেন। যাওয়ার আগেই তাদের জন্য নতুন জমা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেকের জন্য একটা করে কম্বল, মশারি, এক জোড়া করে স্যান্ডেল ও একটি করে ব্যাগ কিনে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের উদ্দেশ্যে সমাজসেবা অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক রাশেদুল কবীর বলেন, ‘তোমাদের হয়তো ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারিনি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও’।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র