Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

কলকাতামুখী ঈদ বাজার, লোকসানের আশঙ্কায় খুলনার ব্যবসায়ীরা

কলকাতামুখী ঈদ বাজার, লোকসানের আশঙ্কায় খুলনার ব্যবসায়ীরা
ভারতে কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশিরা, ছবি: বার্তা২৪
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
খুলনা


  • Font increase
  • Font Decrease

বছর জুড়ে ঈদের জন্য অপেক্ষা করেন ব্যবসায়ীরা। রমজান আসার আগে থেকে প্রস্তুতিও শুরু হয় জোরেশোরে। এসময়ে সারা বছরের ঘাটতি পুষিয়ে ক্রেতাদের কাছে পোশাক বিক্রি করাই ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য। কিন্তু ব্যবসায়ীদের হতাশ করে এবার খুলনার ঈদবাজার কলকাতামুখী। আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন খুলনা থেকে বেনাপোলগামী দু’টি ট্রেনে চেপে খুলনার মানুষ কলকাতার দিকে ছুটছেন। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে একদিন খুলনা থেকে সরাসরি কলকাতাগামী ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ এ ট্রেনের চাপ বেড়েছে যাত্রীদের।

খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রোজায় বেনাপোলগামী ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিন ভোর ৬ টা ও বেলা ১২ টায় দু’টি কমিউটার ট্রেনেই যাত্রীদের চাপে তিল ধারণের জায়গা থাকেনা। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ট্রেন যাতায়াত করছে। বন্ধন এক্সপ্রেসেও কিছুটা যাত্রীর চাপ বেড়েছে।’

খুলনার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘খুলনা রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার যাত্রী কলকাতায় যাচ্ছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/26/1558870988206.jpg
ভারতে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় যাত্রীরা, ছবি: বার্তা২৪

খুলনা নিউ মার্কেটের জামদানি হাউজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হালিম মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত ৩ বছর যাবত খুলনার বেচাকেনায় ভাটা পরেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে কলকাতার ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো ব্যবসা হচ্ছে। আরেকদিকে আমরা লোকসানের মুখে আছি।’

খুলনা নিউ মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গাফফার বিশ্বাস বার্তা২৪. কমকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন পোশাক এনে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বিক্রি নেই। ব্যবসায়ীরা সঠিক নিয়মে রাজস্ব দিয়ে পণ্য এনে বিক্রি করছেন, কিন্তু ক্রেতারা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কেনাকাটা করে আনছে। দেশের ঈদ বাজার এভাবে কলকাতামুখী হয়ে গেলে ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পরবে।’

তবে ভিন্ন সুর শোনা গেল কলকাতামূখী যাত্রীদের কাছে। তারা বলেছেন, অন্যান্য দেশে ঈদকে কেন্দ্র করে পোশাক বা সবধরনের পণ্যের মূল্য কমানো হয়। আর আমাদের দেশে রোজা শুরুর আগে থেকেই সবকিছুর দাম বেড়ে যায় কয়েকগুণ। যে কারণে কলকাতায় স্বল্প খরচে ঈদের বাজার কেনাকাটা করা যায়।

বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী খালিশপুরের বাসিন্দা আইরীন পারভীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এ নিয়ে দু’বছর ধরে কলকাতায় কেনাকাটা করতে যাচ্ছি। আমাদের এখানের সব কিছুর দাম বেশি। কলকাতায় গেলে অন্য দেশে ঘোরাও হয়, আবার কেনাকাটাও হয়। কেন ৩ গুণ বেশি দামে পণ্য কেনাকাটা করব।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/26/1558871040340.jpg
খুলনা স্টেশনে ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে, ছবি: বার্তা২৪

কলকাতা থেকে কেনাকাটা করে ফেরত আসা জাকারিয়া হোসাইন শাওন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে কলকাতায় শপিং করেছি। দু’দিন ছিলাম ওখানে। তাতে যা খরচ হয়েছে তাতে দেশে কেনাকাটা হতোনা।’

বেনাপোল চেকপোস্টের তথ্যমতে, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাওয়া আসা করে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে অপহরণ, দুর্গম চর থেকে উদ্ধার

রাজধানীতে অপহরণ, দুর্গম চর থেকে উদ্ধার
অপহৃতকে উদ্ধার করে র‍্যাব, ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর হতে প্রাইভেটকারসহ অপহরণের চারদিন পর দুর্গম চর এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এছাড়া অপহরণের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) র‍্যাব সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, 'রাজধানী থেকে অপহরণের চারদিন পর, মাদারীপুরের শিবচর থানা এলাকার পদ্মার দুর্গম চরের কাশবন থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া এ ঘটনার সংঘবদ্ধ অপহরণকারীচক্রের চার সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।'

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা
চাকরিপ্রাপ্ত সেফহোমের বাকপ্রতিবন্ধীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মায়া, তারা, লতা, আসমা, সকলেই বাকপ্রতিবন্ধী। কেউ কথা বলতে পারেন না। এমনকি কেউ কেউ আবার কানেও শুনতে পান না। কথা বলেন ইশারায়। রাজশাহী সেফহোমে থাকা মায়া ও আসমার মত আরও ১০ জন মেয়েকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সেফহোমের ব্যবস্থাপক লাইজু রাজ্জাক।

ফলে সেফহোমের বন্দী জীবন ছেড়ে নতুন পৃথিবীতে পা রাখছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ওদের বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেফহোম কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান শুরুর পর আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অতিথিদের অনেকের চোখই ভিজে ওঠে।

বেসরকারি সংস্থা ‘ইউসেফ বাংলাদেশে’র পক্ষ থেকে এই মেয়েদের সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর তাদের মাধ্যমেই স্কয়ার গ্রুপের টেক্সটাইল ডিভিশনে এদের চাকরির বন্দোবস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অবস্থিত।

অনুষ্ঠানে ইউসেফ’র প্রশিক্ষক রউফুল ইসলাম বলেন, তারা এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন। প্রশিক্ষণ নেওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরা হলেন- মায়া সুলতানা (১৮), আসমা খাতুন (২০), নাসরিন খাতুন (২৪), তারা (২৫), সালমা (২১), তানিয়া (২৫), আলোকি (২৪), লতা (২৬), জাহানারা (৩০) ও হাজেরা (১৮)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518368316.jpg

তাদের বিদায় অনুষ্ঠানে সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক শোনালেন কীভাবে তাদের চাকরির জোগাড় হলো। তিনি একদিন ইউসেফ বাংলাদেশের রাজশাহী কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন ‘চাকরির মেলা’ শিরোনামে একটি নোটিশ ঝুলছে। সেখানে গিয়ে তিনি বিস্তারিতভাবে সব তথ্য জানতে পারেন।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার পর তারা মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য যে, এই চাকরির মেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোটা ছিল। পরবর্তিতে সেফহোমের ১৫ জন মেয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্কয়ার গ্রুপ’র কর্মকর্তারা আসেন পরীক্ষা নিতে। সেফহোমেই পরীক্ষা নেওয়া হয় তাদের কাজের। সে পরীক্ষায় পাস করেন ১০ জন এবং পাস করার সাথে সাথেই তাদের দেওয়া হয় নিয়োগপত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518405236.jpg

প্রথম অবস্থায় তারা মাসে ছয় হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। কাজে ভালো করলে পরের বছরই বেতন বেড়ে হবে ১২ হাজার। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা তারাই করবে। এজন্য মাসে বেতন থেকে ২ হাজার টাকা কাটা যাবে।

সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জানান, আগামী শনিবার তিনি এই মেয়েদের নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাবেন। নিজ হাতে তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে দিয়ে আসবেন। যাওয়ার আগেই তাদের জন্য নতুন জমা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেকের জন্য একটা করে কম্বল, মশারি, এক জোড়া করে স্যান্ডেল ও একটি করে ব্যাগ কিনে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের উদ্দেশ্যে সমাজসেবা অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক রাশেদুল কবীর বলেন, ‘তোমাদের হয়তো ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারিনি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও’।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র