Alexa

সন্ধ্যা নামলেই ভয়ঙ্কর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ

সন্ধ্যা নামলেই ভয়ঙ্কর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ

মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ছদ্মবেশে চালানো অভিযানে আটক ডাকাতদলের পাঁচ সদস্য, ছবি:বার্তা২৪

সন্ধ্যা নামার পর থেকেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের বেড়িবাঁধ এলাকায় একদল ডাকাত দল সক্রিয় হয়ে ওঠে। কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো নির্জন রাতে অস্ত্র ঠেকিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেয় এ পথের যাত্রীদের।

সর্বশান্ত হওয়া মানুষগুলো অভিযোগ নিয়ে কখনো থানায় যায়নি। তাই পুলিশের অগোচরেই দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে দলটি। পুলিশ না জানলেও স্থানীয়রা নিয়মিতই ভিকটিমদের সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার গল্প শুনে।

তবে ভিকটিমরা শুধু সম্পদ হারানোই না, জীবন হারানোরও শঙ্কা তৈরি হয় মাঝে মাঝে। এমনটাই জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের তিন রাস্তা মাথার চায়ের দোকানদার সজিব।তিনি বলেন, টাকা বা মূল্যবান জিনিস দিয়ে, সুস্থ শরীরে ফিরে যেতে পারে না কেউ। পিছু আক্রমণ করতে পারে এমন ভাবনায় ভিকটিমের পেটে চাকু মারা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558900298731.jpg

স্থানীয়রা বলছেন, এখানে ছিনতাই বা ডাকাতি। যে ঘটনাই ঘটুক না কেন, ভিকটিমকে অধিকাংশ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের কাছে থেকে এমন অভিযোগ শোনার পর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ অভিযান চালায়। 

ছদ্মবেশে চালানো অভিযানে যাওয়া গোয়েন্দা পুলিশের জালে আটকা পড়ে সংশ্লিষ্ট ডাকাতদলের পাঁচ সদস্য। 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ দুদিন আগে রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে স্বামী-স্ত্রী একটি রিকশায় করে বাসা ফিরছিলেন। বেড়িবাঁধের ওই রাস্তা অতিক্রম করতে গেলে হঠাৎ ডাকাত দলের ৪-৫ জন সদস্য চারদিক থেকে রিকশাটি ঘিরে ফেলে। গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে নেয়।

পরে স্বামীকে রিকশায় ধারালো চাকু দিয়ে আহত করে, স্ত্রীকে রিকশা থেকে টেনে রাস্তার পাশে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় চারজন পথচারী রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এমন ঘটনা দেখতে পায়। তখন নারী ভিকটিমকে ছেড়ে দিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558900146962.jpg

গোয়েন্দা পুলিশের করা ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিম ও সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‌‌‌এই ডাকাতদলের ডাকাতির পাশাপাশি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া ও অন্য অপরাধের উদ্দেশ্য আমরা জানতে পারি। গতকাল (২৫ মে) রাতে ওৎ পেতে থেকে তাদের স্বাভাবিক দিনের ডাকাতির কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলি। তারা সাধারণ ডাকাত সদস্য না। ডাকাতির কাজে তারা মাইক্রোবাস ব্যবহার করাসহ আধুনিক ধারালো অস্ত্রসস্ত্র ব্যবহার করে থাকেন।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে, এই পাঁচ ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ছিনতাই ও ডাকাতি মামলা করেন।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস বার্তা২৪.কমকে বলেন, পেনাল কোড ৩৯৯/৪০২ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৫৯। তাছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ডাকাত দলের একটি মাইক্রো বাস জব্দ আছে।

আপনার মতামত লিখুন :