Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

সন্ধ্যা নামলেই ভয়ঙ্কর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ

সন্ধ্যা নামলেই ভয়ঙ্কর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ
মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় ছদ্মবেশে চালানো অভিযানে আটক ডাকাতদলের পাঁচ সদস্য, ছবি:বার্তা২৪
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সন্ধ্যা নামার পর থেকেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানের বেড়িবাঁধ এলাকায় একদল ডাকাত দল সক্রিয় হয়ে ওঠে। কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো নির্জন রাতে অস্ত্র ঠেকিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নেয় এ পথের যাত্রীদের।

সর্বশান্ত হওয়া মানুষগুলো অভিযোগ নিয়ে কখনো থানায় যায়নি। তাই পুলিশের অগোচরেই দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে দলটি। পুলিশ না জানলেও স্থানীয়রা নিয়মিতই ভিকটিমদের সবকিছু হারিয়ে যাওয়ার গল্প শুনে।

তবে ভিকটিমরা শুধু সম্পদ হারানোই না, জীবন হারানোরও শঙ্কা তৈরি হয় মাঝে মাঝে। এমনটাই জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের তিন রাস্তা মাথার চায়ের দোকানদার সজিব।তিনি বলেন, টাকা বা মূল্যবান জিনিস দিয়ে, সুস্থ শরীরে ফিরে যেতে পারে না কেউ। পিছু আক্রমণ করতে পারে এমন ভাবনায় ভিকটিমের পেটে চাকু মারা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558900298731.jpg

স্থানীয়রা বলছেন, এখানে ছিনতাই বা ডাকাতি। যে ঘটনাই ঘটুক না কেন, ভিকটিমকে অধিকাংশ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের কাছে থেকে এমন অভিযোগ শোনার পর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ অভিযান চালায়। 

ছদ্মবেশে চালানো অভিযানে যাওয়া গোয়েন্দা পুলিশের জালে আটকা পড়ে সংশ্লিষ্ট ডাকাতদলের পাঁচ সদস্য। 

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ দুদিন আগে রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে স্বামী-স্ত্রী একটি রিকশায় করে বাসা ফিরছিলেন। বেড়িবাঁধের ওই রাস্তা অতিক্রম করতে গেলে হঠাৎ ডাকাত দলের ৪-৫ জন সদস্য চারদিক থেকে রিকশাটি ঘিরে ফেলে। গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে নেয়।

পরে স্বামীকে রিকশায় ধারালো চাকু দিয়ে আহত করে, স্ত্রীকে রিকশা থেকে টেনে রাস্তার পাশে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় চারজন পথচারী রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এমন ঘটনা দেখতে পায়। তখন নারী ভিকটিমকে ছেড়ে দিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558900146962.jpg

গোয়েন্দা পুলিশের করা ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া অর্গানাইজড ক্রাইম প্রিভেনশন টিম ও সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নাজমুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‌‌‌এই ডাকাতদলের ডাকাতির পাশাপাশি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া ও অন্য অপরাধের উদ্দেশ্য আমরা জানতে পারি। গতকাল (২৫ মে) রাতে ওৎ পেতে থেকে তাদের স্বাভাবিক দিনের ডাকাতির কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলি। তারা সাধারণ ডাকাত সদস্য না। ডাকাতির কাজে তারা মাইক্রোবাস ব্যবহার করাসহ আধুনিক ধারালো অস্ত্রসস্ত্র ব্যবহার করে থাকেন।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে, এই পাঁচ ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ছিনতাই ও ডাকাতি মামলা করেন।

জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জি জি বিশ্বাস বার্তা২৪.কমকে বলেন, পেনাল কোড ৩৯৯/৪০২ ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৫৯। তাছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ডাকাত দলের একটি মাইক্রো বাস জব্দ আছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজধানীতে অপহরণ, দুর্গম চর থেকে উদ্ধার

রাজধানীতে অপহরণ, দুর্গম চর থেকে উদ্ধার
অপহৃতকে উদ্ধার করে র‍্যাব, ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর হতে প্রাইভেটকারসহ অপহরণের চারদিন পর দুর্গম চর এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। এছাড়া অপহরণের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) র‍্যাব সদর দফতরের সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, 'রাজধানী থেকে অপহরণের চারদিন পর, মাদারীপুরের শিবচর থানা এলাকার পদ্মার দুর্গম চরের কাশবন থেকে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া এ ঘটনার সংঘবদ্ধ অপহরণকারীচক্রের চার সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।'

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা

সেফহোম থেকে নতুন জীবন পেল মায়া তারা লতারা
চাকরিপ্রাপ্ত সেফহোমের বাকপ্রতিবন্ধীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মায়া, তারা, লতা, আসমা, সকলেই বাকপ্রতিবন্ধী। কেউ কথা বলতে পারেন না। এমনকি কেউ কেউ আবার কানেও শুনতে পান না। কথা বলেন ইশারায়। রাজশাহী সেফহোমে থাকা মায়া ও আসমার মত আরও ১০ জন মেয়েকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সেফহোমের ব্যবস্থাপক লাইজু রাজ্জাক।

ফলে সেফহোমের বন্দী জীবন ছেড়ে নতুন পৃথিবীতে পা রাখছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ওদের বিদায় উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেফহোম কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান শুরুর পর আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অতিথিদের অনেকের চোখই ভিজে ওঠে।

বেসরকারি সংস্থা ‘ইউসেফ বাংলাদেশে’র পক্ষ থেকে এই মেয়েদের সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর তাদের মাধ্যমেই স্কয়ার গ্রুপের টেক্সটাইল ডিভিশনে এদের চাকরির বন্দোবস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে অবস্থিত।

অনুষ্ঠানে ইউসেফ’র প্রশিক্ষক রউফুল ইসলাম বলেন, তারা এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন। প্রশিক্ষণ নেওয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরা হলেন- মায়া সুলতানা (১৮), আসমা খাতুন (২০), নাসরিন খাতুন (২৪), তারা (২৫), সালমা (২১), তানিয়া (২৫), আলোকি (২৪), লতা (২৬), জাহানারা (৩০) ও হাজেরা (১৮)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518368316.jpg

তাদের বিদায় অনুষ্ঠানে সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক শোনালেন কীভাবে তাদের চাকরির জোগাড় হলো। তিনি একদিন ইউসেফ বাংলাদেশের রাজশাহী কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন ‘চাকরির মেলা’ শিরোনামে একটি নোটিশ ঝুলছে। সেখানে গিয়ে তিনি বিস্তারিতভাবে সব তথ্য জানতে পারেন।

পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার পর তারা মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেন। উল্লেখ্য যে, এই চাকরির মেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোটা ছিল। পরবর্তিতে সেফহোমের ১৫ জন মেয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর নির্ধারিত সময়ে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্কয়ার গ্রুপ’র কর্মকর্তারা আসেন পরীক্ষা নিতে। সেফহোমেই পরীক্ষা নেওয়া হয় তাদের কাজের। সে পরীক্ষায় পাস করেন ১০ জন এবং পাস করার সাথে সাথেই তাদের দেওয়া হয় নিয়োগপত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566518405236.jpg

প্রথম অবস্থায় তারা মাসে ছয় হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। কাজে ভালো করলে পরের বছরই বেতন বেড়ে হবে ১২ হাজার। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা তারাই করবে। এজন্য মাসে বেতন থেকে ২ হাজার টাকা কাটা যাবে।

সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জানান, আগামী শনিবার তিনি এই মেয়েদের নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাবেন। নিজ হাতে তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে দিয়ে আসবেন। যাওয়ার আগেই তাদের জন্য নতুন জমা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেকের জন্য একটা করে কম্বল, মশারি, এক জোড়া করে স্যান্ডেল ও একটি করে ব্যাগ কিনে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাদের উদ্দেশ্যে সমাজসেবা অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক রাশেদুল কবীর বলেন, ‘তোমাদের হয়তো ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারিনি, তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও’।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র