Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

খুলনায় গরিবের মার্কেটে ধনীদের কেনাকাটা

খুলনায় গরিবের মার্কেটে ধনীদের কেনাকাটা
ছবি: বার্তা২৪
মানজারুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
খুলনা


  • Font increase
  • Font Decrease

সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়হীনতার মাঝেও স্বল্প আয়ের মানুষ ঈদ বাজারে সীমিত বাজেটে পুরো পরিবারের কেনাকাটা করেন। দর কষাকষিতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা বেশ এগিয়ে থাকলেও এবার তাদের পথে বাধা হচ্ছেন বিত্তবানরা। খুলনার দরিদ্রদের অধিকাংশ মার্কেটে ধনীরা হানা দিচ্ছেন।

সোমবার (২৭ মে) খুলনার মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষের মার্কেট হিসেবে পরিচিত নিক্সন মার্কেট, রেলওয়ে মার্কেট, বড় বাজার, হ্যানিম্যান মার্কেট, মশিউর রহমান মার্কেট, এস এম এ রব মার্কেট, কাজী নজরুল ইসলাম মার্কেট, হকার্স মার্কেট, এমনকি ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বিত্তবানদের আনাগোনা। এতে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষেরা। এসব মার্কেটে দর কষাকষি না করে উচ্চবিত্তরা জিনিস কিনে নিচ্ছেন। এতে বিক্রেতারা সহজে পণ্যের দাম কমাচ্ছেন না। এ নিয়ে বিপদে পড়েছেন নিম্নবিত্তরা।

খুলনার বড় বাজারে পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে আসা দিনমজুর রহমত আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পোলাপানগো জন্যি কিছু কিনতে আইছি, কিন্তু বাজারে কিছু কেনার উপায় নাই। যেইটা ধরি সেইটাতেই দাম! তার উপরে বড়লোকরা এহন গরিবগো বাজারে কেনাকাটা করে। মার্কেটের বাইরে গাড়ি রাইখা কেনাকাটা করে। দোকানদার আমার কাছে একটা শার্টের দাম চাইছে ১২০০ টাকা, আমি ৫০০ কইছি। পাশে এক বড়লোক ১১০০ দিয়া শার্টটা কিনে নিয়া গেছে। এমন হইলে আমরা চলমু কেমনে!’

Khulna Eid Market

ইজিবাইক চালক আব্দুল হান্নান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সাধ্য নেই যার, তার মনে হয় সাধও থাকতে নেই। এবার কেনাকাটা করতে এসে তাই মনে হচ্ছে। সব কিছুর যে দাম, তাতে গরিব কিনতে পারবে না। ঈদ তো এখন বড়লোকদের।’

নিক্সন মার্কেটের ফ্যাশন হাউজের মালিক আসাদ শেখ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আগে এখানকার বিপণিবিতানে শুধু মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্তরা কেনাকাটা করতো। এ বছর দেখছি সব ধরনের ক্রেতারা আসছেন। আমাদের মার্কেটে অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে কেনাকাটা করা যায়। আমরা যা দাম চাইছি, এবার অনেকেই দর কষাকষি ছাড়াই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। মনে হচ্ছে কিছুটা টাকা-পয়সাওয়ালা মানুষেরা এ মার্কেটে আসছেন। কারণ, এর আগে দর কষাকষি ছাড়া বিক্রি করতে পারতাম না।

Khulna Eid Market

প্রাইভেটকারে ঈদবাজার করতে আসা চাকরিজীবী ইমরান আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আগে নিউ মার্কেট, সোনাডাঙ্গা আবার শিববাড়ীর শোরুম থেকে কেনাকাটা করা হতো। এবার সব মার্কেটেই প্রচণ্ড দাম। আগে সেসব পোশাক দুই হাজারে পেতাম সেসব এবার দাম চাচ্ছে পাঁচ হাজারের মতো। তাই নিক্সন মার্কেটের দিকেও একটু আসলাম। একটু ঘুরে-ফিরে কিনলে এখানেও ভালো জিনিস পাওয়া যায়।

নিম্ন আয়ের মানুষদের ঈদ উদযাপনের গল্পতে বিত্তবানরা বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে অনেকেই মার্কেট করতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। নামীদামি শপিং মল আর রঙিন বিপণিবিতান এড়িয়ে তারা কোনো রকমে নতুন পোশাক কিনতে পারলেই খুশি হতো।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র