রাজধানীতে সেমাই-চিনি কেনার ধুম



তৌফিকুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
খোলা লাচ্ছা সেমাই, ছবি: বার্তা২৪.কম

খোলা লাচ্ছা সেমাই, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। রাজধানীর বিপণি বিতানগুলোতে এখন ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে।

তবে অনেকের ঈদের পোশাক কেনা এখন শেষের পথে। যাদের পোশাক কেনা শেষ, তাদের নজর এখন ঈদের দিনের খাবারের দিকে। ঈদের দিন নিজেদের খাওয়া এবং অতিথি আপ্যায়নের জন্য ভোজন প্রিয় বাঙালি এখন ছুটছেন সেমাই, চিনি ও মসলার বাজারগুলোতে।

এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিন সকালে মিষ্টিমুখ করেই দিনটি শুরু করেন মুসলমানরা। ঈদের নামাজ শেষে সবাই বেরিয়ে পড়েন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। এই দিনে অতিথি আপ্যায়নে কমবেশি সবার ঘরেই থাকে সেমাই, ফিরনিসহ নানা ধরনের খাবারের আয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/28/1559036567428.jpg
দোকানে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সেমাই, ছবি: বার্তা২৪.কম


মঙ্গলবার (২৮ মে) সকালে রাজধানীর সেমাই, চিনি ও মসলার বাজার ঘুরে ক্রেতাদের ভিড় করতে দেখে গেছে।

কারওয়ান বাজারের বাশার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবুল বাশার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে পর্যাপ্ত সেমাই-চিনি আমাদের কাছে মজুদ আছে। সাধারণ মানুষ এখন ঈদের জন্য সেমাই-চিনি কিনছেন। তবে ঈদের দুই-একদিন আগে এসব পণ্যের চাহিদা আরো বাড়বে।

SEMAI
ভিড় এখন সেমাই, চিনি, মসলার দোকানে, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

ঈদকে সামনে রেখে এসব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের ও ব্র্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে বাজারে। মান ভেদে এসব পণ্যের দামের ভিন্নতা রয়েছে। অলিম্পিকের লাচ্ছা সেমাই ৫০০ গ্রাম ১৫০ টাকা, আলাউদ্দিনের লাচ্ছা সেমাই ৫০০ গ্রাম ১২০ টাকা, অলিম্পিকের জাফরানি লাচ্ছা সেমাই ৫০০ গ্রাম ৫০০ টাকা, কুলসন লাচ্ছা সেমাই ২৫০ গ্রাম ৩০ টাকা, ওরিয়ন লাচ্ছা সেমাই ২৫০ গ্রাম ৩০ টাকা এবং প্রাণের লাচ্ছা সেমাই ২৫০ গ্রাম ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে খোলা সেমাইও রয়েছে। খোলা সাদা লাচ্ছা সেমাই ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে এবং রঙিন লাচ্ছা সেমাই ১২০-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫ টাকায়, গুড়া দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা ৫৬০ টাকায়, ডানো ৫৬০ টাকায়, গ্রিনল্যান্ড ৩৫০ টাকায়, মার্কস ৪৫০ টাকায় এবং ডানো পুষ্টি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়।

elach
দোকানে সাজিয়ে রাখা এলাচ, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

ঈদের বাজার করতে আসা আসলাম হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। এক মাস রোজা রাখার পর ঈদের দিন আমরা ভালো কিছু খেতে ও খাওয়াতে চাই। সে জন্যই এসেছি বাজার করতে। সেমাই, চিনি, দুধ, গরম মসলাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনলাম। দাম তেমন একটা বাড়েনি।

ঈদকে সামনে রেখে অন্যান্য মসলার দাম তেমন না বাড়লেও এলাচের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কিছুদিন আগেও এক কেজি এলাচের দাম ছিল ২৪০০ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ২৮০০ টাকা। মসলার বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কিসমিস ৩৫০ টাকা, কাজু বাদাম ৮০০ টাকা, পোস্ত বাদাম ২০০০ টাকা, তেজপাতা ১৩০ টাকা, দারুচিনি ৩৫০ টাকা, লবঙ্গ ৯০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ 8০০ টাকা এবং কালো গোলমরিচ ৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

Kismis
দোকানে সাজিয়ে রাখা কিসমিস, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

মসলা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এলাচের দাম অনেকে বেড়েছে। এতে ক্রেতাদের পাশাপাশি আমরাও বিপাকে পড়েছি। কারণ, কেজিতে ৪০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি করে গেছে এলাচের।

এদিকে, নিয়মিত বাজার করতে আসা গৃহিণী মাসুমা নিলুফার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ঈদের দিন সেমাই, কাস্টার্ড, ফিরনি রান্না করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে এসেছি। বেশিরভাগ পণ্যের দাম স্বাভাবিক আছে।