হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ৫২ পণ্য



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
গ্রামের হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পণ্য / ছবি: বার্তা২৪

গ্রামের হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পণ্য / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের হাট-বাজারে এখনো অবাধে বিক্রি হচ্ছে হাইকোর্ট কর্তৃক বিক্রয় নিষিদ্ধ ৫২ ভেজাল পণ্য। ঈদকে ঘিরে মহানগর থেকে একটু দূরের উপজেলাগুলোর হাট-বাজার মনিটরিং না থাকায় স্বাভাবিক রয়েছে নিষিদ্ধকৃত পণ্যগুলোর ক্রয়-বিক্রয়। অথচ সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৫২ ভেজাল পণ্যের উৎপাদন, বাজার-জাতকরণ ও বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি রংপুরের আট উপজেলার মধ্যে পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরের বেশ কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে এমনটাই দেখা গেছে।

গত ১২ মে উচ্চ আদালত মান উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিম্নমানের ৫২ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার ও জব্দ করে ধ্বংস করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি পণ্যগুলোর উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের পণ্যসগুলো বিক্রি-বিতরণ, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার হতে বিরত থাকতে বলা হয়। একই সঙ্গে ভোক্তা সাধারণকে পণ্যগুলো কেনা থেকে বিরত থাকার জন্যও অনুরোধ করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/30/1559205471003.jpg

এদিকে রায়ের পর ১৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো রংপুরের হাট-বাজারগুলো থেকে এসব পণ্য সরিয়ে নিতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

মিঠাপুকুর উপজেলার সেরুডাঙ্গা ও শঠিবাড়ি বাজার, পীরগাছার ব্রাক্ষণীকুন্ডা, তাম্বুলপুর, পাওটানা ও কান্দিরহাট এবং কাউনিয়ার স্টেশন বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, এখনো অনেক দোকানেই আদালত থেকে বিক্রয় নিষিদ্ধ বেশ কিছু পণ্য দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু দোকানি বিক্রয় নিষিদ্ধের কথা জানলেও অন্যরা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান।

তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর শহরাঞ্চলের মতো গ্রামেও অনেক ভোক্তাই সচেতন হয়েছেন। নিষিদ্ধ সেই ৫২ পণ্যের তালিকার বাইরে থাকা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/30/1559205518024.jpg

এদিকে, বিভিন্ন দোকানে নিষিদ্ধ ৫২ পণ্যর মধ্যে তীর, পুষ্টি ও রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সরিষার তেল, সান ব্র্যান্ডের চিপস, প্রাণ, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি ব্র্যান্ডের নুডলস, ড্যানিশ, ফ্রেস ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, এসিআই পিওর ব্র্যান্ডের ধনিয়া গুঁড়া, ড্যানিস ব্র্যান্ডের কারি পাউডার, এসিআই’র মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিং ব্র্যান্ডের ময়দা, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই ও আয়োডিনযুক্ত লবণসহ বেশ কিছু নিষিদ্ধ পণ্য দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কয়েকজন বিক্রেতা বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা শুনেছি বেশ কিছু কোম্পানির নিম্নমানের তেল, সেমাই, গুড়া হলুদ, লবণসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ে আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। কিন্তু কোম্পানির লোকজন বাজার থেকে এসব পণ্য উঠিয়ে না নেয়, তাহলে আমরা কি করব। কে আমাদেরকে টাকা ফেরত দেবে। তারা উঠিয়ে নিলে তো এসব পণ্য আর বিক্রি করা লাগবে না।’

অপরদিকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি বিক্রয় নিষিদ্ধ পণ্যের বেচাকেনা বন্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতের রংপুর উপ-পরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা ভোক্তাদের এসব ভেজাল পণ্যের ব্যাপারে সচেতন করছি। তারা যাতে এসব পণ্য না কেনেন এজন্য বিভিন্নভাবে তাদের অবগত করা হচ্ছে। এছাড়া বাজারে মনিটরিং অব্যহত আছে।’