ঈদের দিনে সেমাইও জোটেনি!



মনি আচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঈদের দিনে রিকশা চালিয়েছেন মো. ইসমাইল | ছবি: সুমন শেখ

ঈদের দিনে রিকশা চালিয়েছেন মো. ইসমাইল | ছবি: সুমন শেখ

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখো হয় নগরবাসী। কেউ হয়তো যান ঈদের বেশ কয়েক দিন আগে আবার কেউ যান একদিন আগে। উদ্দেশ্য একটাই ঈদের ছুটির দিনগুলো আপনজনদের সঙ্গেই কাটানো।


তবে ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ সবাই পান না। এমন কি ঈদের দিনে এক বাটি সেমাইও জোটে না অনেকের। এসব মানুষের কাছে ঈদের দিন কোনো বিশেষ দিন নয়! বছরের আর দশটি দিনের মতোই পরিশ্রম করে কাটে তাদের।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ঈদ উদযাপনের অভিজ্ঞতা জানা যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কর্মজীবী এসব মানুষদের মধ্যে অধিকাংশই রিকশা, ভ্যানচালক কিংবা বাসচালক অথবা বাসা-বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী। রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন সবাই তখন শ্রমজীবী এসব মানুষ দারিদ্র্যের গ্লানি টেনে ঈদের দিনেও শ্রম বেচে চলেছেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/06/1559835189186.jpg
এছাড়া এসব শ্রমজীবী মানুষের উপায়ও নেই। তারা একদিন বসে থাকলে পরদিন পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার জোটাতে পারবেন না। তাই পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করাই তাদের সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

এসব কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতি মাসে বা প্রতিদিন যে অর্থ উপার্জন করেন তা দিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলে। এর মধ্যে কোনোভাবেই কাজ বাদ দিয়ে বাড়ি যাওয়া তাদের জন্য সম্ভব নয়। ফলে ঈদের মধ্যেও তাদের উপার্জন করতে হয়।

রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় যাত্রী নিয়ে উত্তর বাড্ডায় নামালেন রিকশাচালক মো. ইসমাইল। ঈদ কেমন কাটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আর ঈদ! সারাজীবন তো কাজ কইরাই মরি। বাড়ি যাইতে পারি নাই, হের লাগি ঈদের দিন সকালে কপালে সেমাইও জোটেনি!

তিনি বলনে, ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর জন্য নতুন জামা কিনেছি দিছি। অনেক টাকা খরচ হইছে। তাই এহন ঈদের মৌসুমে রিকশা চালায়া বাড়তি কিছু আয় করতাছি। নইলে ঈদের পরে চলতে পারব না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/06/1559835226709.jpg
ঈদ আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি রাজধানীর কালাচাঁদপুরের একটি বাসার নিরাপত্তা কর্মী মো. জব্বারের মনে। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, সবাই তো বাড়ি চলে গেল, আমরা চলে গেলে বাড়ি পাহারা দিবে কে? বাড়িতে মা-বাবা, স্ত্রী ও পুত্র থাকলেও দায়িত্বের কারণে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।

অনাবিল সুপার পরিবহনের একটি বাসের হেলপার মো. রুবেল বলেন, অভাবের সংসারে আনন্দ করা যায় না। ঈদের দিন ও এরপরের কয়েক দিন ইনকাম ভালো থাকে। তাই টানাটানির সংসার চালাইতে ঈদের দিনও কাজ করা লাগে আমাগো।

ঈদের দিন ও এর পরের কয়েক দিন সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু ঠিক তখনই ইসমাইল, জব্বার ও রুবেলদের মতো কর্মজীবীদের জীবনের তাগিদে কাজ করে যেতে হয়। পরিবারের লোকজনের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের কাছে প্রকৃত ঈদ।