আলুর কেজিতে ২ টাকা বেশি, হিমাগারের ব্যবস্থাপক অবরুদ্ধ

স্টাফ করেসপন্ডেট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
তানোরে কোল্ডস্টোরেজের বাইরে আলুচাষিদের বিক্ষোভ

তানোরে কোল্ডস্টোরেজের বাইরে আলুচাষিদের বিক্ষোভ

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে একটি কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষিরা।

রোববার (৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দুই শতাধিক চাষি উপজেলার ‘এএম কোল্ডস্টোরেজ’ অফিসের বাইরে এ বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

স্থানীয় আলু চাষিরা জানান, চলতি বছর উপজেলার প্রতিটি হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য বস্তাপ্রতি ২৬০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসেবে চাষিরা এএম কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করেন। তবে সেখান থেকে সাম্প্রতি আলু নিয়ে বিক্রি করতে গেলে প্রতি কেজি আলুতে অতিরিক্ত ২ টাকা করে দাবি করেন ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন।

অর্থাৎ ৫৫ কেজির বস্তা ২৬০ টাকা নির্ধারিত মূল্য থাকা সত্ত্বেও তা ৩৭০ টাকা করে দাবি করা হয়। তবে চাষিরা তা দিতে অপরগতা জানালে আলু বের করতে দেয়নি কোল্ডস্টোরেজের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পরে রোববার সন্ধ্যায় চাষিরা একসঙ্গে এই বিষয়ে ব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তারা ব্যবস্থাপককে আটকে রেখে বিক্ষোভ শুরু করে।

স্থানীয় আলু চাষি আবু বকর, আতাউর রহমান, আরব আলী ও আব্দুল মতিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, তারা যখন হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা এবং শ্রমিক খরচ বাবদ বস্তাপ্রতি ১০ টাকা মিলিয়ে ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে এখন তা ৩৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা এক ধরনের চাঁদাবাজি বলে অভিযোগ তাদের।

তারা আরও বলেন, চলতি বছর মৌসুমের শুরু থেকেই আলুর দাম কম। আলু সংরক্ষণ করলেও এখনো সেভাবে দাম বাড়েনি। তার উপরে হিমাগারে রাখতে যদি এতো টাকা দিতে হয়, তবে লাভ বলে কিছু আর থাকবে না। বরং লোকসান গুনতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোল্ডস্টোরেজের মালিক জালাল উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কেজি প্রতি দুই টাকা করে বেশি নিচ্ছি। সিদ্ধান্ত মালিকের, আমি শুধুই হুকুমের গোলাম। আমার কিছু করা নাই।’

তবে চাষিরা ৫৫ কেজির বস্তায় বেশি আলুও রেখেছেন বলেন দাবি করেন ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আলু চাষি ও কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের খবরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে ব্যবস্থাপককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে।’

দ্রুত চাষি ও হিমাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকে বসে বিষযটি সমাধান করা হবে বলে জানান ওসি।

আপনার মতামত লিখুন :