চরে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার তেতো দাম



ফরহাদুজ্জামান ফারুক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
রংপুরের তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল। ছবি: বার্তা২৪.কম

রংপুরের তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্গম চরাঞ্চল। যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেই স্বস্তিবোধ। তাই চাষিদের সঙ্গে পাইকারদের নেই ব্যবসায়িক সংযোগ। এ কারণে ভালো ফলনের পরও মিষ্টি কুমড়ার প্রকৃত দাম পাচ্ছে না তারা। বর্তমানে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মিষ্টি কুমড়া সংরক্ষণ করতে হিমাগার না থাকায় কম দামেই হাত বদল হচ্ছে। ধু-ধু বালুচরের বুকে আশা জাগানিয়া মিষ্টি কুমড়ার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চাষিদের রয়েছে অনেক অভিযোগ। মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারা পানির দরে কিনে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করে চাষিদের চেয়ে লাভবান হচ্ছেন।

সম্প্রতি রংপুরের তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বেশ কিছু চর ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তায় প্রতি বর্ষা মৌসুম শেষে চর জাগে। এরপর ৬ মাস শুষ্ক থাকে নদী। পড়ে থাকা বালুচরকে চাষ উপযোগী করতে কঠোর পরিশ্রম করে নদী ভাঙনের শিকার বাঁধে আশ্রিত ভূমিহীন মানুষ। বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে ধু-ধু বালুচরে তারা ফলান মিষ্টি কুমড়া।

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মনতাজ, গোলজার ও কাশেম বার্তা২৪.কমকে জানান, বীজ সংকট ও নিম্নমানের বীজের কারণে অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা কুমড়ার আবাদ ছাড়েননি। এ চাষের ফলে চরে এখন তামাকের আবাদ কমেছে। কিন্তু হাড়ভাঙা খাটুনির পরও তারা মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে প্রকৃত মুনাফা পাচ্ছেন না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/10/1560163342963.jpg

কাউনিয়ার ভূতছড়া গ্রামের চাষি নুরু মিয়া ও হাফিজার রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, দেশীয় পদ্ধতিতে তারা বাড়িতে মাচা করে বেশিদিন কুমড়া সংরক্ষণ করতে পারছেন না। এ কারণে উৎপাদন মৌসুমে একসঙ্গে সব কুমড়া বাজারে ওঠায় ফড়িয়ারা কম দামে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। সংরক্ষণাগার থাকলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে দাবি করেন তারা।

কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়ার চাষিরা দাবি করেন, সম্মিলিতভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় তাদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সরাসরি বাজারজাত করতে সরকার যেন ভূমিকা রাখে। সরকারের সুদৃষ্টি থাকলে এই মিষ্টি কুমড়া হতে পারত তাদের জন্য আশীর্বাদ। এই জেলা থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ মিষ্টি কুমড়া বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, 'চাষিরা যাতে ভালো বীজের মাধ্যমে বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে পারে, আমরা সেজন্য সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে দিন দিন চরাঞ্চলসহ এ জেলায় মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন বেশি হওয়াতে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না। সামনে দাম আরও কমবে। '