ওসি মোয়াজ্জেম কি দেশ ছেড়েছেন?

শাহরিয়ার হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কোথায় আছেন পলাতক ওসি মোয়াজ্জেম, ছবি: সংগৃহীত

কোথায় আছেন পলাতক ওসি মোয়াজ্জেম, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ১৫ দিন আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এত দিন পরেও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসা কর্তা-ব্যক্তিরা বলছেন, ওসি মোয়াজ্জেম পালিয়েছেন। তাকে খুঁজে পেতে সময় লাগছে। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠছে, ওসি মোয়াজ্জেম কোথায় পালিয়েছেন? তিনি কি গোপনে দেশ ছেড়েছেন?

এ বিষয়ে রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক দেবদাস ভট্টাচার্যের সঙ্গে বার্তা২৪.কম-এর কথা হয়। তিনি বলেন, ‘ওসির গ্রেফতারি পরোয়ানা রংপুরে এসেছে। কিন্তু মোয়াজ্জেম হোসেন অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফেনী জেলা পুলিশ গ্রেফতারি পরোয়ানা রংপুরে পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ করা হয়নি। ওসি মোয়াজ্জেম কোথায় আছে আমরা জানি না।’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেমকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার কর্মস্থল রংপুর, ঢাকায় অথবা স্থায়ী ঠিকানা যশোরের কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। হয়তো এমন হয়েছে, তিনি দেশ ছেড়েছেন। যদি এমনই হয়, তাহলে পুলিশের এমন দেশত্যাগ পুরো পুলিশ বিভাগকেই লজ্জায় ফেলে দেবে।

এর আগে গত ২৭ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হওয়া মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। ওই দিনই আদালত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে সেই পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছানো নিয়েও হয়েছে নানা গড়িমসি।

শুরু থেকে গ্রেফতার নিয়ে নানা আলোচনা হলেও ঢাকা-ফেনী-রংপুর করতে করতে সময় গড়িয়ে যায়। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা কে পড়াবে? এই সুযোগেই ওসি নিজের গা ঢাকা দিতে পারে বলে মনে করছেন মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

এমন অবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন পলাতক থাকায় তাকে খুঁজে পেতে একটু সময় লাগছে। তবে, অপরাধের শাস্তি তাকে পেতেই হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

তার একদিন পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘একটা লোক পলাতক হলে তাকে অ্যারেস্ট করা কষ্টকরই হয়। তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। শিগগিরই হয়তো ধরা পড়বে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেল রানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হ‌য়ে‌ছিল। কিছুদিন আগে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এখনও সেখানেই সংযুক্ত আছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঠিকানায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা যাওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট ইউনিট গ্রেফতারি পরোয়ানা পেলে অবশ্যই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।'

এদিকে, মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদর দফতরের বিশেষ পুলিশ সুপার আহসান হাবিব পলাশ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিলের দায়িত্ব হচ্ছে সোনাগাজী থানার। ওই থানারই ওসিকে গ্রেফতার করবে। কিন্তু শুরু থেকে ফেনীর পুলিশ সুপার কাজী মনির-উজ-জামান এমন পরোয়ানা আসেনি বলে জানিয়েছিলেন।’

এর ঠিক ৭ দিন পর এসপি বলেন, ‘ওসির বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে। রংপুর রেঞ্জও শুরু থেকে এই বিষয়টি স্বীকার করেননি।’

অন্যদিকে, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাবেক ওসির বিরুদ্ধে গত ২৭ মে পরোয়ানা জারির পর তা ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয় হয়ে রংপুর রেঞ্জে পৌঁছাতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যায়। এখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি। এই সুযোগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন পালিয়ে গেলেন। সে দেশ ছেড়েও পালাতে পারে। যদি এমন হয় এটা পুলিশ বিভাগের জন্য লজ্জাজনক ঘটনা হবে।'

উল্লেখ্য, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাহর বিরুদ্ধে মেয়েকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে মামলা করেন নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার। মামলার পর থেকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাহ ও তার অনুসারীরা বিভিন্নভাবে নুসরাত ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। এ ব্যাপারে থানায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে গেলে মোয়াজ্জেম তাঁর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, নুসরাতকে বেশ কিছু আপত্তিকর প্রশ্ন করেন তিনি। নুসরাতের মৃত্যুর পর ভিডিওটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক এ ঘটনায় বাদী হয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :