Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকায় ভাসছে ৬৪ বাংলাদেশি

তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকায় ভাসছে ৬৪ বাংলাদেশি
বাংলাদেশিদের নিয়ে নৌকা ভাসছে তিউনিসিয়া উপকূলে, ছবি: প্রতীকী
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গত ১২ দিন ধরে ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে তিউনিসিয়ার সাগর তীরে ভাসছে একটি নৌকা। তিউনিসিয়া কর্তৃপক্ষ ঢোকার অনুমতি না দেওয়ায় নৌকাটি সাগরে ভাসছে। নৌকায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে ৬৪ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

অবশ্য মিশরীয় নৌকা সাগর থেকে তাদের উদ্ধার করেছে। তবে তিউনিসিয়ার দক্ষিণ পূর্বের শহর মেডিনাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের অভিবাসী কেন্দ্রটি এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে রয়েছে। উপকূলীয় শহর জার্জিস থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে নৌকাটি রয়েছে।

তিউনিসিয়া সরকারের একটি সূত্র সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই অভিবাসীরা খাবার এবং চিকিৎসা সেবা প্রত্যাখান করে তাদেরকে ইউরোপে ঢুকতে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। কারণ তারা এই লক্ষ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন।

রেডক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম বলেছেন, ‘নৌকাটিতে অবস্থানরতদের চিকিৎসা দেয়ার জন্যে একটি মেডিকেল টিম গিয়েছিল। তবে অবস্থানরতরা তাদেরকে প্রত্যাখান করেছে।’

৭৫ জনের এই দলটি লিবিয়া থেকে যাত্রা করে। যার মধ্যে ৬৪ জন বাংলাদেশি এবং অন্যরা মরক্কো, সুদান এবং মিশরের। তবে নৌকায় অবস্থানরতদের ব্যাপারে সবকিছু এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছেন রেড ক্রিসেন্ট।

সাধারণত প্রতিবেশী দেশ লিবিয়ার পশ্চিম তীর আফ্রিকান অভিবাসীদের ইউরোপে প্রবেশের জন্যে ব্যবহার হয়ে থাকে। মানব পাচারকারীদের মোটা অর্থ প্রদানের বিনিময়ে তারা ইউরোপে নৌকায় যাত্রা করে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০১৯ সালের প্রথম চার মাসে এই পথে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যতো মানুষ সাগর পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন, তাদের মধ্যে প্রতি তিনজনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

ট্রেন দুর্ঘটনায় অবহেলার প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা: রেলমন্ত্রী

ট্রেন দুর্ঘটনায় অবহেলার প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা: রেলমন্ত্রী
সিলেটে উপবন এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রেলপথ মন্ত্রী, ছবি: সংগৃহীত

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, 'দুর্ঘটনার কারণ জান‌তে তদন্ত ক‌মি‌টি করা হ‌য়ে‌ছে। রি‌পোর্টে রে‌লের কারও বিরু‌দ্ধে দা‌য়ি‌ত্বে অব‌হেলার প্রমাণ পাওয়া গে‌লে তার বিরু‌দ্ধে ক‌ঠোর ব্যবস্থা নেয়া হ‌বে।'

বুধবার (২৬ জুন) উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের দেখ‌তে সকা‌লে সি‌লেট ওসমানী মে‌ডিকেল ক‌লেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রেলপথ মন্ত্রী। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার শরীফুল আলমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এ সময় আহতদের সঙ্গে কথা ব‌লেন রেলমন্ত্রী এবং চি‌কিৎসার সা‌র্বিক খোঁজ নেন। সেখা‌নে চি‌কিৎসাধীন দুই জ‌নের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা করে তুলে দেন তিনি।

সেখান থে‌কে বের হ‌য়ে মন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে তাদের গ্রামের বাড়িতে যান। সেখা‌নে তি‌নি নিহ‌তের প‌রিবা‌রের হা‌তে ‌রেলও‌য়ের পক্ষ থে‌কে এক লাখ টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করেন। নিহ‌তের রু‌হের মাগ‌ফেরাত কামনা ক‌রে দোয়া করা হয়। প‌রে মন্ত্রী মৌল‌ভীবাজার জেলার কুলাউড়ার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ক‌রেন।

রেল মন্ত্রী ব‌লেন, 'আখাউড়া সি‌লেট রু‌টে ডু‌য়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ করা হ‌বে। এক‌নে‌কে প্রকল্প‌টি অনু‌মো‌দিত হ‌য়ে‌ছে। দ্রুত কাজ শুরু হ‌বে। এখা‌নে বিদ্যমান লাইনের সেতু সব নতুন করে নি‌র্মিত হ‌বে। আর যেন দুর্ঘটনা না ঘ‌টে সেজন্য সারা‌দে‌শের রেললাইন প্র‌য়োজনীয় সংস্কা‌রের নি‌র্দেশনা দেয়া হ‌য়ে‌ছে।'

এ সময় পরিবেশে, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উ‌দ্দিন সঙ্গে ছি‌লেন। আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মোহাম্মদ রফিকুল আলম, অতিরিক্ত মহা‌পরিচালক অপা‌রেশন সহ রেলও‌য়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রমেক হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট অচল

রমেক হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট অচল
ডায়ালাইসিস না পাওয়ায় ইউনিটেই বসে আছেন রোগীসহ তাদের স্বজনরা, ছবি: বার্তা২৪

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত পানি সরবরাহের মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এতে গত তিনদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস অচল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু না হলে মুমূর্ষু রোগীরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন তাদের স্বজনরা।

বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে রমেক হাসপাতালের নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগের ডায়ালাইসিস ইউনিট ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, নেফ্রোলজি বিভাগে সার্বক্ষণিক ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চালু রাখতে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। এর একটি চারদিন আগে নষ্ট হয়েছে। অপরটি দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে ব্যবহৃত কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হতে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দুটি প্ল্যান্ট নষ্ট হওয়ায় ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561551910068.jpg
ডায়ালাইসিস না পাওয়ায় ওয়ার্ডে অপেক্ষা করছেন রোগীসহ তার স্বজনরা, ছবি: বার্তা২৪

 

কিডনি রোগে আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থেকে হাসপাতালে এসেছেন নুরবান। কিন্তু দুইদিন ধরে ডায়ালাইসিস ইউনিটে গিয়ে কোনো সেবা পাননি। পানির মেশিন নষ্ট থাকায় চিকিৎসকরা তার স্বামীর ডায়ালাইসিস করেনি কর্তব্যরতরা।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা এলাকার মিন্টু মিয়া বার্তা২৪.কমকে জানান, তিনদিন ধরে ডায়ালাইসিস ইউনিটের পানির মেশিন নষ্ট। কেউ আমাদের কথা শুনছেন না। গত মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় এক রোগীর স্বজনকে লাঞ্ছিত করেছেন কর্তব্যরতরা।

ডায়ালাইসিস ইউনিটে জীনাত আরা নামে একজন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসের জন্য স্টোর রুমে কোনো পানি নেই। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট মেশিন নষ্ট, কেমিক্যাল নাই। এতে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশের শর্তে ডায়ালাইসিস ইউনিটের এক নার্স জানান, বর্তমানে ২৪টি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে সচল আছে ১৮টি। প্রতিদিন ২ শিফটে ৫০ থেকে ৮০জন রোগীর ডায়ালাইসিস করা হয়। কিন্তু কেমিক্যাল না থাকা ও মেশিনের সমস্যার কারণে তিন দিন ধরে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ডায়ালাইসিস করতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় এই ইউনিটে সমস্যা প্রকট আকারের দিকে যাচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561552010107.jpg
ডায়ালাইসিসের মেশিনে ব্যবহারের জন্য ফ্লুইড, ছবি: বার্তা২৪   

 

এদিকে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল গণি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওয়াটার টট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট মেশিনগুলো ভালো করার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। এটাতো সাময়িক সমস্যা। দ্রুত এর সমাধান করা হবে।’

কেমিক্যাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লেকজিকোন কোম্পানির বকেয়া টাকা না দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘লেকজিকান গত দুই বছর বকেয়া থাকার পরও হাসপাতালে কাজ করছে। আমি যোগদানের পর তাদের সঙ্গে কথা বলে সময় চেয়েছি। এখন তারা বকেয়া টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। আমি তাদের কাছে কয়েক মাস সময় চেয়েছি, কিন্তু তারা শুনছে না।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র