Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কালীগঞ্জে পাঠ্যপুস্তক বিক্রি নিয়ে তুলকালাম

কালীগঞ্জে পাঠ্যপুস্তক বিক্রি নিয়ে তুলকালাম
বিক্রি হওয়া পাঠ্যপুস্তক
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
সাতক্ষীরা


  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই বিক্রি নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। উপজেলার মৌতলা বাজারে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক বিক্রি করার সময় নুরুজ্জামান নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (১১ জুন) দিাবগত রাতে শ্যামনগর উপজেলার ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান মৌতলা বাসস্ট্যান্ডের বিশ্বজিতের ভাঙারি দোকানে প্রায় সাড়ে ৩ টন ওজনের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির বই বিক্রি করতে যান। সরকারি বই দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ভ্যানভর্তি বইসহ নুরুজ্জামানকে আটক করেন স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বই কোথায় পেয়েছেন জানতে চান। ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান বলেন, শ্যামনগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বইগুলো কিনেছেন। পরবর্তীতে সংবাদ পেয়ে শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

বুধবার (১২ জুন) সকাল ১১টার দিকে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে এসে বইগুলি পরিদর্শন করেন। বইগুলোর মধ্যে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের বিভিন্ন শ্রেণির বই আছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি পুরাতন বই বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু ওই সময় ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানের কাছে কোন কাগজপত্র না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের হেফাজতে বইগুলো রাখা হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কাগজপত্র দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বইগুলি নিয়ে গেছেন ওই ব্যবসায়ী। বইগুলির মধ্যে ভুলে ২০১৯ সালের ৩টি বই চলে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, গত কয়েক দিন আগের একটি সভায় ২০১৫ সালের আগের পুরাতন বই বিক্রির বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছিল। কেন ২০১৯ সালের বই বিক্রি করেছেন সেটা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বুঝবেন।

শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আতাউল হক দোলন জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যেয়ে বইগুলি পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০১৬-২০১৯ সালের বই বিক্রি করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

রমেক হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট অচল

রমেক হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট অচল
ডায়ালাইসিস না পাওয়ায় ইউনিটেই বসে আছেন রোগীসহ তাদের স্বজনরা, ছবি: বার্তা২৪

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত পানি সরবরাহের মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এতে গত তিনদিন ধরে কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস অচল হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক রোগী হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু না হলে মুমূর্ষু রোগীরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন তাদের স্বজনরা।

বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে রমেক হাসপাতালের নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগের ডায়ালাইসিস ইউনিট ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।

জানা গেছে, নেফ্রোলজি বিভাগে সার্বক্ষণিক ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চালু রাখতে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। এর একটি চারদিন আগে নষ্ট হয়েছে। অপরটি দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে ব্যবহৃত কেমিক্যাল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হতে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দুটি প্ল্যান্ট নষ্ট হওয়ায় ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561551910068.jpg
ডায়ালাইসিস না পাওয়ায় ওয়ার্ডে অপেক্ষা করছেন রোগীসহ তার স্বজনরা, ছবি: বার্তা২৪

 

কিডনি রোগে আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী থেকে হাসপাতালে এসেছেন নুরবান। কিন্তু দুইদিন ধরে ডায়ালাইসিস ইউনিটে গিয়ে কোনো সেবা পাননি। পানির মেশিন নষ্ট থাকায় চিকিৎসকরা তার স্বামীর ডায়ালাইসিস করেনি কর্তব্যরতরা।

লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা এলাকার মিন্টু মিয়া বার্তা২৪.কমকে জানান, তিনদিন ধরে ডায়ালাইসিস ইউনিটের পানির মেশিন নষ্ট। কেউ আমাদের কথা শুনছেন না। গত মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ায় এক রোগীর স্বজনকে লাঞ্ছিত করেছেন কর্তব্যরতরা।

ডায়ালাইসিস ইউনিটে জীনাত আরা নামে একজন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসের জন্য স্টোর রুমে কোনো পানি নেই। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট মেশিন নষ্ট, কেমিক্যাল নাই। এতে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে নাম না প্রকাশের শর্তে ডায়ালাইসিস ইউনিটের এক নার্স জানান, বর্তমানে ২৪টি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে সচল আছে ১৮টি। প্রতিদিন ২ শিফটে ৫০ থেকে ৮০জন রোগীর ডায়ালাইসিস করা হয়। কিন্তু কেমিক্যাল না থাকা ও মেশিনের সমস্যার কারণে তিন দিন ধরে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ডায়ালাইসিস করতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় এই ইউনিটে সমস্যা প্রকট আকারের দিকে যাচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561552010107.jpg
ডায়ালাইসিসের মেশিনে ব্যবহারের জন্য ফ্লুইড, ছবি: বার্তা২৪   

 

এদিকে ডায়ালাইসিস কার্যক্রম বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল গণি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ওয়াটার টট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট মেশিনগুলো ভালো করার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। এটাতো সাময়িক সমস্যা। দ্রুত এর সমাধান করা হবে।’

কেমিক্যাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লেকজিকোন কোম্পানির বকেয়া টাকা না দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘লেকজিকান গত দুই বছর বকেয়া থাকার পরও হাসপাতালে কাজ করছে। আমি যোগদানের পর তাদের সঙ্গে কথা বলে সময় চেয়েছি। এখন তারা বকেয়া টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন। আমি তাদের কাছে কয়েক মাস সময় চেয়েছি, কিন্তু তারা শুনছে না।’

দুদক পরিচালক বা‌ছি‌রের বি‌দেশ যাত্রা ঠেকা‌তে পু‌লিশ‌কে চি‌ঠি

দুদক পরিচালক বা‌ছি‌রের বি‌দেশ যাত্রা ঠেকা‌তে পু‌লিশ‌কে চি‌ঠি
ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অভিযুক্ত দুদক পরিচালক এনামুল বাছির/ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের ডিআই‌জি মিজানুর রহমান ও দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশ‌নের প‌রিচালক খন্দকার এনামুল বা‌ছি‌রের বিরু‌দ্ধে ঘুষ লেন‌দে‌নের অ‌ভি‌যোগ প্রাথ‌মিকভা‌বে প্রমাণিত  হ‌য়ে‌ছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছে দুদক। ফ‌লে  এমন অবস্থায়  খন্দকার বা‌ছির‌কে বি‌দেশ যাত্রা থে‌কে বিরত রাখতে পু‌লি‌শের বিশেষ শাখায় চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

বুধবার (২৬জুন) পু‌লিশ ও দুদক কর্মকর্তার ঘুষ লেন‌দে‌নের অ‌ভি‌যোগ তদ‌ন্তের দায়ি‌ত্বে থাকা দল‌নেতা দুদক প‌রিচালক শেখ ফানা‌ফিল্যা পু‌লি‌শের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শককে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

চি‌ঠি‌তে জানা‌নো হয়, ‘এনামুল বাছির দেশত্যাগ করতে পারেন’ এমন তথ্য র‌য়ে‌ছে দুদ‌কের কা‌ছে।

সেখানে বলা হয়, খন্দাকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের সত্যতা দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বক্তব্য গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। ইতোমধ্যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য তার বরাবর নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, তিনি সপরিবারে দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

পু‌লি‌শের কা‌ছে পাঠা‌নো চি‌ঠি‌তে আরও বলা হয়, দুদ‌কের  অনুসন্ধান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বাছিরের বিদেশ যাওয়া ঠেকানো জরুরি ।

এ বিষয়ে পরিচালক ফানা‌ফিল্যা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমরা পুলিশের বিশেষ শাখায় একটা চিঠি দিয়েছি। আমরা যখন কারো বিরুদ্ধে তদন্ত করি, তখন তাকে সব দিক থেকে ব্লক করে রাখি। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র